ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৩.৫ কোটি

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল, ২০১৮ ২:৩৩ : অপরাহ্ন

ডেস্ক নিউজ:

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএ বলেছে, বাংলাদেশে প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ। এ হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনে একজন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অবশ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে ৮ কোটি ৮ লাখ। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের সার্বিক অবস্থান নিয়ে জিএসএমএ ‘বাংলাদেশ: কান্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনটি চলতি মাসে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্য বিরাজ করছে। ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে।

সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নির্ধারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিয়ম হলো ৯০ দিন বা তিন মাসের মধ্যে একজন ব্যক্তি একবার ব্যবহার করলেই তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি যদি একাধিক সিম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি যতটি সিম ব্যবহার করেন, ততবারই তাঁকে ব্যবহারকারী হিসেবে গণনা করা হয়। কিন্তু জিএসএমএ ব্যবহারকারীর সংখ্যা নির্ধারণে এই কাজটি করেনি। তারা একজন ব্যক্তির একাধিক সিম বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও তাকে একবারই গণনা করেছে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে দুরবস্থার জন্য দুটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছে জিএসএমএ। এগুলো হলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ব্যবহারের পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকা এবং ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা চালুতে অতিরিক্ত বিলম্ব ইন্টারনেট সেবার প্রসারে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করে জিএসএমএ।

জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০০৮ সালে দেশে প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক লাখ। সে অবস্থা থেকে গত এক দশকে সেটি যদি সাড়ে ৩ কোটি হয়েও থাকে, তাহলে সেটি বড় অর্জন। তবে আরও উন্নতির সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।’

জিএসএমএর আগে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ), অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেটের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনেও ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি এসেছে। এসব সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশের বেশি নয়।

টেলিযোগাযোগবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ গবেষক আবু সাইদ খান বলেন, সক্রিয় মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ সংখ্যাকেই ব্যবহারকারী হিসেবে দেখানো হয় বাংলাদেশে। জিএসএমএর এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে, মোবাইল ও ইন্টারনেট নিয়ে সরকার যেসব তথ্য প্রকাশ করে, তা আসলে ঠিক নয়। বিটিআরসি যে এসব বিষয় জানে না তা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে সরকারের চাপে পড়ে এমন তথ্যের গোঁজামিল দেওয়া হিসাব প্রকাশ করা হয়।

খরচই বড় বাধা
ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরিদ্র লোকজনের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ব্যয়। এ দেশে সবচেয়ে কম আয় করা ২০ শতাংশ লোকের জন্য ১ গিগাবাইট পরিমাণ ইন্টারনেট ডেটা কেনার ব্যয় তাঁদের মাসিক আয়ের ১১ শতাংশের সমান। মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাওয়া এসব মানুষের পক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করা কঠিন। ইন্টারনেটের সেবার ওপর উচ্চ করও এ ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।

১০০ টাকার ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারে বাংলাদেশে এখন প্রায় ২২ টাকা কর হিসেবে দিতে হয়। স্বল্প আয়ের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারে এটি একটি বড় বোঝা।

মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জনে উচ্চ করের বোঝা কমিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে জিএসএমএর প্রতিবেদনে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের বিস্তার কাঠামোর উন্নয়নের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।