ঈদগাঁওতে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:১৫ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁও, কক্সবাজার
০১৮৩৫-৪১০১২৫,০১৫৫৮৪৩৪২২৮
 সদরের ইসলামপুর নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে । ভুক্তভোগী ছাত্রী, অভিভাবক ও অন্য শিক্ষকরা শ্লীলতাহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত ২ অক্টোবর সকালে এক ছাত্রী উল্লেখিত বিদ্যালয়ে গেলে  শ্রীলতাহানীর চেষ্টা চালাান অফিস সহকারী আব্দুল কাদের। অভিযুক্ত আব্দুল কাদের তাকে একা পেয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। এদিকে আব্দুল কাদের ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অফিস সহকারী পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে স্কুল সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পরে ছাত্রীর সহপাঠীরা এসে পড়লে আব্দুল কাদের দ্রুত সিটকে পড়েন। সংগঠিত ঘটনায় ওই ছাত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং সহপাঠীদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, ২ অক্টোবরের এ ঘটনাটি স্কুলে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে । তারা মানববন্ধন করার হুমকি দিলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের সুকৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ভূক্তভোগীর ভাই বিদ্যালয় সভাপতি অছিউর রহমান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি এ অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ম্যানেজিং কমিটির জরুরী মিটিংয়ের মাধ্যমে ৫ সদস্য বিশিষ্ট  তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তাদের  ৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। তদন্তকারী সদস্যগণ এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে মর্মে প্রতিবেদন জমা দেন।
২ অক্টোবর ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে শ্রীলতাহানীর বিষয়টি সঠিক বলে উল্লেখ করে এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ভূক্তভোগী ছাত্রী সামনের বেঞ্চে বসার উদ্দেশ্যে ৭ টা ৩০ মিনিটের দিকে স্কুলে আসে। এ সময় অফিস সহকারী আব্দুল কাদের তাকে দেখতে পেয়ে  এগিয়ে আসে এবং সকালে আসার কারণ জানতে চাইলে সে কারণ অবহিত করতে না করতেই তার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করে একপাশে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন বিভিন্ন ভাবে যৌন হেনস্থা করে। তখন  অফিস সহকারী আব্দুল কাদেরের গতিবিধি খারাপ দেখে চিৎকার করে কান্নাকাটি করলে সে অনুকূল পরিস্থিতি লক্ষ্য করে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। উভয়ের অজান্তে উপস্থিত অন্য এক ছাত্রী সব দেখে ফেলে। পরে দুইজন ছাত্রী একত্রিত হয়ে কান্নাকাটি করে। অন্যান্য সহপাঠীরা জিজ্ঞেস করলে তাদেরকে খুলে বলে। পরে তারা উভয়ে মিলে এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি অবহিত করে। তার সহযোগিতায় প্রধান শিক্ষক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। শ্লীলতাহানীর শিকার ছাত্রীটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার এমন আচরণে আমি হতভম্ব। বিদ্যা্লয় সভাপতি অছিউর রহমান বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদন অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দু শুক্কুর জানান, নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির  ছাত্রীর শ্রীলতাহানীর বিষয়টি সত্য। অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালেও এ ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিতে সহযোগিতা করেছিলাম। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা মিমাংসা হয়। বর্তমান সংগঠিত ঘটনার ভিকটিম আমার ওয়ার্ডের। ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসাবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরের মোবাইলে যোগাযোগ করলে এক শিশু মোবাইল রিসিভ করে বলে যে তিনি গোসল করতে বাথরুমে গেছে। পরে অত্র নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হল কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।