ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে অপহৃত যুবককে দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা পর ১ লক্ষ ৫০ হাজার মুক্তিপন নিয়ে ছাড়

প্রকাশ: ৫ আগস্ট, ২০১৯ ৫:১৫ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঈদগাঁও

ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কে অপহৃত যুবক মাহবুবুর রহমানকে  ২৮ ঘন্টা পর কালিরছড়া এলাকায় মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে অপহরণকারী চক্ররা।
৩রা আগষ্ট সকাল ৭টায় বাইশারী থেকে ঈদগাঁও যাওয়ার পথে সড়কের হিমছড়ি ঢালা নামক স্থানে সিএনজি থামিয়ে যুবক মাহবুবকে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দূর্গম পাহাড়ে নিয়ে যায়। বাকী যাত্রীদের মারধর করে মোবাইল সহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
অপহৃত যুবক বাইশারী মধ্যম বাইশারী এলাকার মৃত জাফর হোছনের ছেলে মাহবুবুর রহমান।
কবে ভিকটিমের মতে,অপহরনের পর তাকে দীর্ঘ দুই ঘন্টা পাহাড়ী পথ দিয়ে হেটে গহীন বনে নিয়ে যায়। ওই দিনই ১০টা থেকে তাকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের নিকট ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপনের জন্য চাপ দিতে থাকে। অপহরনকারীরা মুক্তিপনের টাকার জন্য তাকে প্রচন্ড মারধর করে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম করে ফেলে। অনেক সময় তাকে মাটিতে ফেলে ধারালো দা দিয়ে কেটে ফেলার চেষ্টাও চালায় অপহরনকারীরা। অপহৃত যুবক মাহবুব দীর্ঘ ২৮ ঘন্টার জিম্মিদশার বর্ণণা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো দা ও দেশীয় লম্বা বন্দুক ছিল। তারা সংখ্যায় ৮ জন মত। চারজন মুখোশ পরিহীত ও চার জনের মুখ খোলায় অবস্থায় ছিল। বর্তমানে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া মাহবুবুর রহমান শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছেন।

ঘটনার পর থেকে ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প ও ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ দল গহীন বনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন।

তবে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আসাদুজ্জামান অপহৃত যুবককে ছেড়ে দেওয়ার কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঈদগড়ের পুলিশের এএসআই মোর্শেদ জানান, রাত দশটায় মুক্তিপন দিয়ে কালিরছড়া থেকে অপহৃত যুবককে ছেড়ে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপহৃত পরিবারের সদস্য আব্দুর রহমানের মতে, অপহরনের ৩ ঘন্টা পর থেকে মাহবুবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে আসছিল সন্ত্রাসীরা। দরকষাকষির একপর্যায়ে একদিন একরাত পর ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপনে তাকে ছেড়ে দিতে রাজী হয়। পরে ৪আগষ্ট রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈদগাঁও কালিরছড়া এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মুক্তিপনের টাকা হাতে হাতে বুঝে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।