ঈদগাঁও থেকে চোরাই হওয়া গরু উদ্ধার পিকআপ জব্দ সিন্ডিকেট প্রধান নিহত

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:৩২ : অপরাহ্ন

ঈদগাঁও ও জোয়ারিয়ানালা থেকে চুরি যাওয়া ৬টি গরু উদ্ধার ও গরু পরিবহন কাজে ব্যবহৃত পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। দেড় ঘন্টাব্যাপী এ অভিযানে নিহত হয়েছে গরু চোরের সর্দার। পুলিশ ও গরু চোর সিন্ডিকেটের মধ্যে ১০/১৫ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ২৪ এপ্রিল ভোর ৩টা থেকে গরু চোর বিরোধী এ অভিযান শুরু হয়। পুলিশ, এলাকাবাসী ও অন্য সূত্রে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ সশস্ত্র গরু চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোববার গভীর রাতে চৌফলদন্ডী ইউনিয়নের নতুন মহাল খোনকারখিলের মৃত মোহাম্মদ কালু মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ছোটবড় ৬টি গরু পিকআপ ভর্তি করে ডাকাতি করে নিয়ে যেতে থাকে। খবরটি এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হলে তারা তা স্থানীয় মেম্বার আরমান উদ্দীন মোর্শেদকে জানান। তিনি তাৎক্ষণিক বের হয়ে এক্ষেত্রে পুলিশী সহযোগিতা নেন। পিকআপটিকে জনগণ ধাওয়া করতে থাকলে সেটা আলমাছিয়া সড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালায় গিয়ে সেখান থেকে আরো একটি গরু বোঝাই করে দ্রুত ঈদগাঁওর দিকে আসতে থাকে। এসময় মহাসড়কে টহলরত ঈদগাঁও পুলিশের একটি টীম আলমাছিয়া সড়কের সাগরিকা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পিকআপটিকে ব্যারিকেড দিয়েও ধরতে ব্যর্থ হয়। পরে স্থানীয় বাসস্টেশনে টহলরত পুলিশরা দ্বিতীয় দফে ঠেলাগাড়ির ব্যারিকেড দিলেও গাড়ীটি ধরতে পারেনি। এক পর্যায়ে এ দু’ টহলদল পিকআপটির পিছু নেয়। অন্যদিকে আগে থেকে মহাসড়কের ইসলামপুর বটতলীতে অবস্থানরত ঈদগাঁও পুলিশের অন্য একটি টীম এ খবর পেয়ে সড়কে পেরেকযুক্ত তক্তা দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। গরু বোঝাই পিকআপটি এ ব্যারিকেড অতিক্রম করতে গিয়ে চাকা পাংচার হয়ে অল্প কিছুদূর তথা খুটাখালীর নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় পুলিশের কবলে পড়ে।

20170424_180137

পিকআপটির চালক এক হাতে টু-টু রাইফেল নিয়ে অন্য হাতে গাড়ী চালাচ্ছিল। ইত্যবসরে সঙ্গীয় গরু চোরেরা পাশর্^বর্তী পাহাড়ের ভেতর আত্মগোপন করে। এসময় পুলিশ ও গরু চোরদের মধ্যে ১০/১২ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে গাড়ীটির চালক গরু চোর সর্দার ফরহাদ (২৮) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। সে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের মাইজ ঘোনার আবুল হোসেনের পুত্র বলে জানায় পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিকআপ, ৭টি গরু ও ১টি টু-টু রাইফেল উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধারকৃত গরুর মধ্যে ১টি গরু মৃত ছিল। নিহত ফরহাদের লাশ চকরিয়া থানায় সোপর্দ করা হলে ময়না তদন্তের জন্য তার লাশ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায় উক্ত থানা কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. খায়রুজ্জামান, দ্বিতীয় কর্মকর্তা দেবাশীষ সরকার, এসআই জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য কর্মকর্তা ও ফোর্স অংশ নেয়।

Screenshot_2017-04-24-12-43-59

সকালে তদন্ত কেন্দ্রে স্থানীয় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দ্বিতীয় কর্মকর্তা দেবাশীষ সরকার জানান, অব্যাহত গরু চুরিতে পুলিশ নানা কৌশল প্রয়োগ করে আসছিল। আজকের অভিযান ধারাবাহিক কৌশলের অংশ মাত্র। তাঁর মতে, পুলিশ কর্মকর্তারা জীবন বাজি রেখে এ সফল অভিযান পরিচালনা করে গরু চোরের প্রধান হোতাকে আটক করতে সমর্থ হন। তিনি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গরু চোরদের ধরা হবে বলে জানান। এদিকে উদ্ধারকৃত গরু, গাড়ী ও অস্ত্র তদন্ত কেন্দ্রে আনার খবরে ভোর থেকে বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম ঘটে। রাতে জানতে চাইলে তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ মো. খায়রুজ্জামান জানান, সংঘটিত ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Screenshot_2017-04-24-12-43-03

খোনকারখীলের মৃত কালু মিয়ার পুত্র এম.এ আজিজ জানায়, গরু চুরির ঘটনাটি তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক এলাকার অনেকেই জানতে পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, জব্দকৃত পিকআপটিতে দু’ ধরণের নাম্বার দেখা গেছে। নাম্বারগুলো হচ্ছে চট্টমেট্রো-ণ-১১-১৮৪৯ এবং চট্টমেট্রো-ণ-১১-২৫৮৫। তবে গাড়ীটির মালিক কে তা এখনো জানা যায়নি।