ঈদগাঁও সরকারি হাসপাতাল সড়কের জলাবদ্ধতা নিরসনে কারো মাথা ব্যাথা নেই

প্রকাশ: ১২ জুলাই, ২০১৯ ১২:৫৫ : পূর্বাহ্ন

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও, কক্সবাজার।।
ঈদগাঁও বাজারের সরকারি হাসপাতাল সড়কে জলাবদ্ধতায় সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন লোকজন। সড়কের দুরবস্থা দূর করণে কোন কর্তৃপক্ষের দেখা মিলছে না। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে যায় পুরনো এ সড়কটি। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জলজটের সৃষ্টি হয় এ সড়কে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও কামাল সওদাগরের দোকানের সম্মুখস্থ  ব্রিজ ছোট হওয়ায় তা দিয়ে পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি  বলে জানান ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় হেনা ফার্মেসির মালিক নুরুল হুদা ফরাজী জানান, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রত্যন্ত এলাকার সহস্রাধিক রোগী পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সেবা নিতে আসেন। সড়কে জলাবদ্ধতায় তাদের  অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মেসার্স মমতাজের স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুর রহিম সওদাগর জানান, দীর্ঘদিন এ সড়কের পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। তাই বর্ষা এবং বৃষ্টির পানিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জালালাবাদ ফার্মেসির পরিচালক শফিউল আলম বলেন তার দোকানে সড়কের পানি ঢুকে ঔষধ পথ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সড়কের উভয় পাশে রয়েছে ফার্মেসি সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জামান মেডিকো, নেজামত ফার্মেসি, শরিফ ফার্মেসী, সৈয়দ ফার্মেসি, বি,আলম ফার্মেসি, ডাক্তার নুরী ফার্মেসি, দুইটি চাউলের দোকান, বিসমিল্লাহ ষ্টোর, দিদার স্টোর, চায়না বাজার, ফারহানা স্টোর, শাহজাহান পান বিতান, আল হেরা আবাসিক হোটেল, নিউ সৌদিয়া স্টোর, তপন স্টোর, আবুল কালাম ও শুক্কুরের কুলিং কর্ণারও দুইটি ক্রোকারিজ দোকান। ব্যবসায়ীরা জানান, পার্শ্ববর্তী সওদাগর পাড়া, হোটেল নিউ ফোর স্টারের সম্মুখস্থ সড়ক ও তরকারি বাজারের পানি এসে এ সড়কে একাকার হয়। সড়কটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় উক্ত পানি ঘন্টার পর ঘন্টা জমে থাকে। প্রায় সময় হাসপাতাল এলাকায় পানি ঢুকে। জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য শওকত আলম শওকত বৃহস্পতিবার বিকেলে সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারের মূল অভিভাবক উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। উপজেলা প্রশাসন প্রতিবছর এ বাজার থেকে বিপুল অংকের রাজস্ব আয় করেন। যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। তাই তিনি এ ব্যাপারটি নিয়ে তাৎক্ষণিক কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়ছারুল হক জুয়েলের সাথে ফোনে যোগাযোগ করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করবেন বলে তাকে জানান। পরে তিনি বাজার কমিটির আহ্বায়ক সহ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তাদেরকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ ব্যাপারে বাজার কমিটির উক্ত দুই নেতা এরপর ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ আলম ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জেসমিনের সাথে যোগাযোগ করে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিষয়টি নিয়ে এ প্রতিবেদক কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কায়ছারুল হক জুয়েলের সাথে যোগাযোগ করলে এক ব্যক্তি ফোন ধরে বলেন যে, চেয়ারম্যান একটু ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি আধঘন্টা পরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ, এইচ, এম মাহফুজুর রহমান ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তৃণা সাহার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের আহ্বায়ক সাবেক মেম্বার সিরাজুল হক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাসরিন আক্তারের সাথে কথা বলার জন্য কয়েক বার চেষ্টা করেও সফল হয়নি।