ঈদগাঁহে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ঘটনার তিন দিন পরও মামলা হয়নি!

প্রকাশ: ৫ আগস্ট, ২০১৯ ১:১৬ : অপরাহ্ন

আনোয়ার হোছাইন ঈদগাঁহ (কক্সবাজার)প্রতিনিধি

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহের মাছুয়াখালী ট্রান্সপোর্ট সড়কের একটি দোকানে গত শক্রবার দিন দুপুরে এলাকার টিটুর আট বছরের শিশু কন্যাকে জোর পূর্বক উপুর্যপূরী ধর্ষণ করে একই এলাকার শফি আলম প্রকাশ বাডু ড্রাইভারের ছেলে ছলিম নামের ত্রিশোর্ধ বয়সি দোকানদার।ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোন্ অদৃশ্য শক্তির বলে এখনো মামলা হয়নি তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।অনেকে এ নির্মম পৈশাচিক ঘটনাকে ধামা চাপা দেয়ার পেছনে ধর্ষকের স্বজন কতৃক ভিকটিম পরিবারকে মুখ না খুলতে হুমকি,অথবা অসহায় হওয়ায় টাকার প্রলোভনে ফেলে ধর্ষণ আলামত নষ্ট করতে সংশ্লিষ্টদের মেনেজ করার শংকাও প্রকাশ করছে। আবার অনেকে এর পেছনে প্রশাসনের কোন অবহেলা বা প্রভাবশালী চক্রের তদবির কাজ করছে কিনা তাও খাতিয়ে দেখা জরুরী বলে মনে করছে।নয়ত কোন রহস্য বলে এ পাষন্ড ঘটনা ধামাচাপা পড়ছে তাই এলাকার সর্বসাধারণের নিকট প্রশ্নের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।ভিকটিম এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার কামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন,সোমবার সকালে ভিকটিমের মায়ের সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি জানতে চান, আইনি প্রক্রিয়া বিষয়ে ।তখন ভিকটিমের মা বলে,সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এবং পুলিশ তাদের ঘরে চলে আসতে বলেছে।তাই চিকিৎসা করে ব্যবস্থাপত্রসহ বাড়ি চলে এসেছে।থানায়,তদন্ত কেন্দ্র কিংবা আদালতে এখনো কোন অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছে।এলাকাবাসীর আশংকা হয়ত ধর্ষকের পক্ষ হয়ে তার মামা ও মামাত ভাই মোটা অংকের টাকায় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে ঘটনার শুরু থেকে ধামাচাপার চেষ্টা করছিল।শেষ পর্যন্ত হয়ত তাদের হুমকি ধমকি এবং টাকার প্রলোভনে ভিকটিমের অসহায় পরিবার চিকিৎসা শেষে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে গোপনে বাড়ি ফিরেছে।অথবা ভিকটিমের পরিবার অসহায় হওয়ায় প্রশাসন কিংবা চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের অবহেলাও এর পেছেন কাজ করতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন।এদিকে এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার মডেল ওসি তদন্ত খায়রুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন,ঘটনা জানার পর,তিনিসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ভিকটিমকে দেখতে গেছেন এবং চিকিৎসা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মোবাইল নাম্বারসহ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।কিন্তু এখনো আসেনি বিধায় কোন মামলা হয়নি এখনো।এলাকার সচেতন মহল জানান,ভিকটিম পরিবারটি এতই অসহায় যে, প্রশাসন স্বপ্রনোদিত হয়ে এগিয়ে না গেলে মামলা দূরের কথা ,স্থানীয় ভাবে বিচার শালিশ চাওয়ার সাহসও করবেনা।শেষ পর্যন্ত যদি চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকে তাহলে দিন দুপুরে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ঘটনা ধর্ষকদের চাপের কাছে ধামাচাপায় পড়ে যাবে।।উল্লেখ্য,বিগত কিছুদিন পূর্বে মহেশখালীতে গণ ধর্ষণ ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে প্রশাসনের আন্তরিকতায় ধর্ষিতা তরুণী উদ্ধার হয় এবং ধামাচাপার তদবিরকারী দুই মেম্বারসহ ধর্ষকদের অনেকে আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছে। এলাকার সচেতন জনগণও মডেল থানা ও ঈদগাঁহ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র প্রশাসনের এমন ভুমিকা কামনা করছেন সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ঘটনায়।