উইঘুর মুসলিম নিপীড়ন ‘শতাব্দির কলঙ্ক’: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০১৯ ২:৩১ : অপরাহ্ন

বহির্বিশ্ব ।সংখ্যালঘুউইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে চীন যে ধরনের নিপীড়ন চালাচ্ছে সেটাকে ‘শতাব্দির কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ মন্তব্য করেছেন। রয়টার্স।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে অংশ না নিতে চীন চাপ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের শেষ দিনে মাইক পম্পেও বলেন, ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে শোচনীয় মানবাধিকার সঙ্কটের আবাস এখন চীনে। এটি সত্যিকারার্থে শতাব্দির কলঙ্ক।’

তিন দিনব্যাপি আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশকে চীন নিরুৎসাহিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন পম্পেও। ‘ধর্মীয় বিশ্বাসের নিশ্চয়তা কি সরাসরি চীনা সংবিধানে পাওয়া যায়?- প্রশ্ন করেন তিনি।’

তবে চীনের চাপ উপেক্ষা করে ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশগুলোকে শুভেচ্ছা জানান পম্পেও। তিনি বলেন, আপনি যদি একই অঞ্চলের কারণে সম্মেলনে অংশ না নেন, তাহলে আমরা সেটির নোট রাখি। তবে কোন কোন দেশ চীনের চাপে এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি পম্পেও সেব্যাপারে কিছু বলেননি। এ ব্যাপারে জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো মন্তব্য করেনি।

চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও মিয়ানমারে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বুধবার হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিপীড়িতদের সাথে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের পরদিন পম্পেও এমন মন্তব্য করলেন।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশে জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ চলতি মাসের শুরুর দিকে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন বন্ধ করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, চীন সরকার কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আশ্রয় কেন্দ্রে আটকে রেখেছে। জিনজিয়াংয়ে অন্তত এক কোটি সংখ্যালঘু উইঘুরের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ তুর্ক মুসলিম। এই প্রদেশে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় নিপীড়ন এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এই মুসলিমরা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ চীন সরকারের বিরুদ্ধে জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে পদ্ধতিগত অভিযান পরিচালনার অভিযোগ আনে।