একশো একশো প্রতিনিধি, একশো একশো ক্যাম্পেইন

প্রকাশ: ১৪ মে, ২০১৯ ২:৫৫ : অপরাহ্ন

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো ক্যাম্পেইন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নারীরক্ষমতায়নে  আবু তালেব প্রণীত ১১ দফা কর্মসূচি
(১) জাতীয় সংসদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা জাতীয় সংসদ সদস্য ও একজন পুরুষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (২) জাতীয় সংসদে একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার ও একজন পুরুষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হবে; (৩) ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা মেম্বার ও একজন পুরুষ মেম্বার নির্বাচিত করতে হবে; (৪) ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে হবে; (৫) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে; (৬) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে; (৭) এমপো অনুযায়ী উপজেলায় একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হচ্ছেন; তা কার্যকর করতে ¶মতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে; (৮) উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ও বিভাগীয় সংসদ এর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (৯) জেলা ও বিভাগে একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে; (১০) জাতীয় সভা গঠনের ক্ষেত্রে (যদি কখনও জাতীয় আইনসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে ‘জাতীয় সভা’ গঠিত হয়) প্রতিটি জেলাকে একেকটি নির্বাচনী এলাকা ধরে প্রত্যেক জেলা হতে একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে হবে (জাতীয় আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম ও গঠনকাঠামো জনাব আবু তালেব প্রণীত ‘গণতন্ত্রিক আইনসভার রূপরেখা’ অনুযায়ী করা হয়েছে); (১১) এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। (১১ দফার১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশময় সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা উচিত হবে। জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও প্রবল প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাবধায়ক সরকারেরআমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে উপজেলা আইনে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করারবিধান সংযোজন করা হয়; সেই আইনেই প্রতি উপজেলায় একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন;  আবু তালেবের এই প্রচেষ্টা, অবদান হয়ত নারীসমাজ জানেনও না। তা জানা থাকলে তাতে নারীরাই উপকৃত হতেন, হবেন। আমরা প্রবল বিশ্বাস নিয়ে বলছি, উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে, এবং সেজন্য দেশবাসী একদিন অবশ্যই গর্বিতবোধ করবেন। জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় উপস্থিত থেকে প্রবল প্রচেষ্টায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ৯ম দফা অনুযায়ী একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান সংযোজিত করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি ভঙ্গুর, দুর্বল জেলা পরিষদ আইন পাস করেছে, এটি অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে; এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; জানলে অবশ্যই ভাল হতো, এবং একটি প্রবল বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলন হতে পারতো। ১১দফার২য় দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে জাতীয় সংসদ একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচিত করেছিলেন, ফলে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞ, সাংসদ বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছিলেন। আমরা নারীরক্ষমতায়নে চমক, করুণা আর দয়া দেখতে চাইনা; আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীরগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন। তা করা হলে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায়, শিক্ষায় ঘাটতিজনিত কারণে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, ক্ষতি সাধনে সম্ভাবনাও থাকবে না। আমরা, তাই, জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা সবাইকে গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব, এবং নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানাবিধ কর্মসূচি, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থারদুর্বলতা, ভঙ্গুরতা বুঝতে, জানতে বলব। সেসব দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা জানলে, বুঝলে এমপো ও ১১দফারসুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে অনেকটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয় সরকারকে জানাতে চাই, তা হল, বাংলাদেশে যদি এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী কেবল ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হয়, তা হলে বাংলাদেশ অবশ্যই একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়। এটি করা হলে বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে, প্রতিদেশীয় স্থানীয়সরকারসমূহে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোগী হবেন? )
মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো ক্যাম্পেইন
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার১মদফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত ১১ দফার১ম দফা হল: জাতীয় সংসদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা জাতীয় সংসদ সদস্য ও একজন পুরুষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ৩০০টি সাধারণ নির্বাচনী আসন ও ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন রয়েছে; ফলে জাতীয় সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৩৫০ জন। প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রত্যক্ষ ভোটে একজন সাধারণ জাতীয় সাংসদ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রত্যেক সংরক্ষিত মহিলা নির্বাচনী আসনে একজন মহিলা সাংসদ পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
এমপো ও ১১দফার১মদফা অনুযায়ী প্রত্যেক সাধারণ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন; সেজন্য বিদ্যমান সাংবিধানিক আইনে অবশ্যই সংশোধনী আনতে হবে। বর্তমানে সাধারণ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা হল ৩০০টি; তা বজায় রাখলে এমপো অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সদস্য সংখ্যা হবে ৬০০ জন; মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জনে রাখতে চাইলে সারাদেশে নির্বাচনী এলাকা করতে হবে ১৭৫টি। জাতীয সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা ৪০০ জন করতে চাইলে নির্বাচনী এলাকা করতে হবে ২০০টি; মোট সাদস্য সংখ্যা ৪৫০ জন করতে চাইলে নির্বাচনী এলাকা করতে হবে ২২৫টি; মোট সদস্য সংখ্যা ৫০০ জন করতে চাইলে সারাদেশে নির্বাচনী এলাকা করতে হবে ২৫০টি।
প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে, জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনী এলাকাগত সীমানা একটি পরিবর্তনশীল বিষয়, এবং এটি জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের আগে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে ছোটবড় করাও হয়ে থাকে, ফলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে মোট সদস্য সংখ্যা কতজন থাকবে তা আইনত ঠিক হয়ে গেলে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা গঠন করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হবেনা, হতে পারেনা।
একটি নির্বাচনি এলাকা দু’জন সদস্য দ্বারা প্রতিনিধিত্বেও কোনো ধরনের সংঘাত, বিরোধ দেখা দেবেনা; এক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে, জাতীয় সংসদীয় কার্যাবলী মূলত জাতীয় বিষয় ভিত্তিক, বুদ্ধিগত, টিমওয়ার্ক, জ্ঞানণীয় বিষয়, এটি কোনও একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগত বিষয় নয়, ফলে দু’জন সদস্য একটি এলাকা থেকে প্রতিনিধিত্ব করলে দায়িত্ব পালনে দু’জনেরমধ্যে সংঘাত, বিরোধ হবেনা, হওয়া উচিত হবে না বলে ¯^াভাবিকভাবে প্রতীয়মান হয়। সেক্ষেত্রে জাতীয় সাংসদগণ মূলত জাতীয় সংসদীয় কর্মকান্ড নিয়ে আরও বেশী বেশী নিয়োজিত থাকতে বাধ্য হবেন বলে অনুমান করা যায়; সেসঙ্গে নির্বাচনী এলাকাগত গণ প্রত্যাশাও সেভাবে গড়ে ওঠতে সহায়ক হবে।
একটি এলাকা থেকে দু’জন জাতীয় সাংসদ নির্বাচন পদ্ধতি হবে খুবই সহজ এবং সরল বিষয়; প্রত্যেক ভোটদাতা, নারী কিংবা পুরুষ, দু’টি ভোট দেবেন; একটি ভোট দেবেন একজন মহিলা সাংসদ প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ সাংসদ প্রার্থীকে; এইভাবে উভয় প্রার্থী গণরায়ে প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সাংসদ হিসেবে একই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে আসবেন। এতে জটিলতা বলে কোনও বিষয়-ই থাকবে না। এমপো অনুযায়ী নারী ও পুরুষ একই পদ্ধতিতে একই এলাকা থেকে সাধারণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসবেন বলে নারীরজন্য অবমাননীয় ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন’ শব্দগুচ্ছ মিউজিয়ামে স্থান পাবে বলে অনুমান করা যায়, এবং বিদ্যমান আইনানুযায়ী সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বজায় রাখারপ্রয়োজনীয়তাও একদম চিরকালেরজন্য ফুরিয়ে যাবে বলে তা বাতিল হয়ে যাবে।
আমরা, তাই, জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত এমপো ও ১১ দফা সকলকে গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; একইসঙ্গে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানান কর্মসূচী, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থার ভঙ্গুরতা ও দুর্বলতা জানতে বলব, বুঝতে বলব। তা করা হলে এমপো ও ১১ দফাররসুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারকে জানাতে চাই, তা হল, বাংলাদেশে যদি এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদীয় প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হয়, তা হলে বাংলাদেশ এমপোরপ্রথম বাস্তবায়নকারী দেশ হিসেবে অবশ্যই শান্তিতে একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে অনুমান করা যায়। আমরা আরও বলতে চাই, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে কিংবা ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে এমপো বাস্তবায়ন করারঘোষণা দিলে এবং তা বাস্তবায়নেরপ্রক্রিয়া শুরু করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে ও প্রতিদেশীয় আইনসভারকাছে বহুবিধ কারণে একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোগী হবেন?

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো আন্দোলন
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে দু’জন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে এমপো ও ১১দফার২য়দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফায় ২য় দফা হচ্ছে: জাতীয় সংসদে একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার ও একজন পুরুষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে হবে। এই ২য় দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ দু’জন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করবেন। তাঁদেরমধ্যে একজন হবেন মহিলা ডেপুটি স্পিকার এবং আরেকজন হবেন পুরুষ ডেপুটি স্পিকার। ১১ দফার২য় দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে জাতীয় সংসদ একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচিত করেছেন, ফলে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞ, সাংসদ বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করারসুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আমরা নারীরক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ায় চমক, করুণা আর দয়া দেখতে চাইনা, আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীরগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন; তা করা হলে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় ও শিক্ষায় ঘাটতিজনিত কারণে বিধানিক, নির্বাহিক ও বিচারিক কাজে কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, এবং ক্ষতি সাধনেরসামান্য সম্ভাবনাও থাকবে না; অথচ সার্বিক অর্থে সকল ক্ষেত্রে নারীরক্ষমতায়নও হতে থাকবে ধারাবাহিকভাবে, বিরামহীনভাবে। ১১ দফায়১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; একে আমরা আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশজুড়ে সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে সরকারেরকাছে আহŸান জানাচ্ছি।
জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও সরাসরি প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাবধায়ক সরকারেরআমলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে রাজি করিয়ে উপজেলা আইনে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে বিধান সংযোজন করা হয়; সেই উপজেলা আইনে একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন; জনাব আবু তালেবের এই কাজ, অবদান হয়তো নারীরা জানেনও না। জানলে তাতে নারীরাই উপকৃত হতেন, হবেন। এটা নিশ্চিত যে, উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল, সফলতা আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে; সেজন্য একদিন দেশবাসীও গর্ববোধ করারসুযোগ পাবেন।
জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় উপস্থিত থেকে প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ১১ দফার ৯ম দফা অনুযায়ী একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান সংযোজন করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে তা গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ একটি দুর্বল, ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন পাস করেন, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; জানলে তা ঠেকিয়ে দিতে একটি বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলন হতে পারতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা উচিত হবে যে, জনাব আবু তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখায় ও ১১দফার৮ম দফায় প্রতিটি জেলা পরিষদীয় নির্বাচনী ওয়ার্ড থেকে একজন নারী সাদস্য ও একজন পুরুষ সাদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করারপ্রস্তাব রয়েছে। এটিও মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ এখনও গ্রহণ করেননি। তা করতে জেলা পরিষদ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী একদিন না একদিন আনতে হবে, এবং জেলা পরিষদেরসকল সদস্যকে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। একইভাবে জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব অনুযায়ী যদি উপজেলা পরিষদীয় সদস্যগণও প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করারবিধান থাকতো, তা হলে ২০১৯ সালেরউপজেলা পরিষদীয় নির্বাচনে ভোটারউপস্থিতি কি এতো কম হতো? অবশ্যই ভোটারউপস্থিতি এত কম হতো না। উপজেলা পরিষদেরসকল সদস্যকে অবশ্যই প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। সেজন্য উপজেলা সরকারের রূপরেখা ও ১১ দফা অনুযায়ী বিদ্যমান দুর্বল উপজেলা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। আমরা, তাই, জাতীয় নেতৃত্বকে ‘ঠেকে শেখা’রঅভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
আমরা, তাই, জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে সবাইকে অনুরোধ করব; একইসঙ্গে নারীরক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানান কর্মসূচী ও আন্দোলনের যেসব সাংঘাতিক দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা রয়েছে তা জানতে বলব, বুঝতে বলব। সেসব দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা জানলে, বুঝতে পারলে এমপো ও ১১ দফারবর্তমান ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।
আমরা নিশ্চিত, বাংলাদেশে এমপো ও ১১ দফা বাস্তবায়ন করা হলে বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে, সবদেশীয় আইনসভাগুলোতে ও স্থানীয় সরকারগুলোতে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে; সেসঙ্গে এমপো বাস্তবায়নকারী প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি নোবেল প্রাইজও পেয়ে থাকবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোগী হবেন? সেযাইহোক, এমপো ও ১১ দফার আন্দোলনকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে; সব মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এই মহান, মহা আন্দোলন, সংগ্রাম, ক্যাম্পেইন একইসঙ্গে স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক; তাই ¯^ ¯^ অবস্থান, আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এই আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে।

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার৩য় দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

এমপো অনুযায়ী বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফার৩য় দফা হল: ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা সাদস্য (মেম্বার) ও একজন পুরুষ সাদস্য (মেম্বার) নির্বাচিত করতে হবে।
এই ৩য় দফা অনুযায়ী ইউনিয়নেরপ্রতি ওয়ার্ড থেকে দু’জন সাধারণ সাদস্য নির্বাচিত হবেন; একজন হবেন সাধারণ নারী সাদস্য এবং আরেকজন হবেন সাধারণ পুরুষ সাদস্য; এই দু’জন সাধারণ সাদস্য নির্বাচনে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট দেবেন; একটি ভোট দেবেন একজন নারী প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ প্রার্থীকে; এতে উভয় সাদস্য সাধারণ সাদস্য হিসেবে একই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। এই পদ্ধতি চালু হলে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত নারী সাদস্য পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে বলে তা বাতিল হয়ে যাবে এবং নারী মানুষের প্রতি সংরক্ষিত আসনেরনামে অবমাননীয় করুণারবিষয়টি চিরকালেরজন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবে। প্রতিটি ইউনিয়নে ১১দফার৩য় দফা বাস্তবায়িত হলে, আমরা নিশ্চিত, গ্রামীণ তৃণমূলে একুশ শতকেরউপযোগী নারী জাগরণ ও অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে। সেসঙ্গে বিশ্ববাসীরজন্য এটি হয়ে যাবে একটি অনুসরণীয়, অনুকরণীয় রোল মডেল।
১১ দফার১১তম দফা হল:এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। ১১তম দফা অনুযায়ী সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; সেজন্য আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই, এবং এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশেরসকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে অনুরোধ জানাই।
জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাধায়ক সরকারেরআমলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়েরদায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে উপজেলা আইনে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করারবিধান সংযোজন করা হয়। সেই আইনানুযায়ী উপজেলায় একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন; জনাব আবু তালেবের এই একক প্রচেষ্টা, অবদান হয়ত নারী সমাজ জানেনও না। তা জানলে তাতে নারীসমাজই উপকৃত হতেন, হবেন। আমরা নিশ্চিত, উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল, সফলতা আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে, এবং সেজন্য দেশবাসীও একদিন গর্বিতবোধ করবেন।
জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় থেকে প্রবল প্রচেষ্টায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ৯ম দফা অনুযায়ী একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান যুক্ত করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন পাস করেছে, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; জানলে একটি বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলনদ্বারা তা হয়তো ঠেকিয়ে দেয়া যেত।
১১ দফার২য় দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে জাতীয় সংসদ একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচিত করেছেন, ফলে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞ, সাংসদ বিধানিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা কিংবা দয়া চাইনা, আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীর গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন; তা হলে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় ও শিক্ষায় ঘাটতিজনিত কারণে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, ক্ষতি সাধনেরসম্ভাবনাও থাকবে না।
আমরা, তাই, সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং নারীমানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চলমান কর্মসূচী ও আন্দোলনেরদুর্বলতা, ভঙ্গুরতা বুঝতে বলব, জানতে বলব। তা জানলে, বুঝতে পারলে এমপো ও ১১ দফার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গত একটি বিষয় সরকারকে জানিয়ে রাখতে চাই, তা হল, বাংলাদেশে যদি এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হয়, তা হলে বাংলাদেশ অবশ্যই শান্তিতে একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা আরও বলতে চাই, এটি করা হলে একইসঙ্গে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে ও প্রতিদেশীয় স্থানীয়সরকারগুলোতে একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও বিরল সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোগী হবেন?
মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
ইউনিয়নে দু’জন ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার৪র্থ দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিবেচনায় নিয়ে এমপো অনুযায়ী জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফায় ৪র্থ দফা হচ্ছে: ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে হবে; এই ৪র্থ দফা অনুযায়ী ইউনিয়নে দু’জন ভাইস চেয়ারপার্সন থাকবেন, একজন থাকবেন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও আরেকজন থাকবেন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন; এক্ষেত্রে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট প্রদান করবেন; একটি ভোট দেবেন একজন নারী প্রার্থীকে এবং একটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ প্রার্থীকে। এটি এখনও ইউনিয়ন আইনে সংযোজিত হয়নি। তা করা হলে গ্রামীণ তৃণমূলে পদ্ধতিগতভাবে অভিজ্ঞ, দক্ষ মহিলা নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে বিরাট সুযোগ তৈরী হবে।
১১ দফায় ১১তম দফায় বলা হয়েছে: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। ১১ দফায় ১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ-উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ-উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা উচিত হবে। জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও সরাসরি প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাধায়ক সরকারেরআমলে তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে এমপো অনুযায়ী উপজেলা আইনে একজন মহিলা ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে বিধান করা হয়্; সেই আইনানুযায়ী উপজেলায় একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন; জনাব আবু তালেবের এই একক অবদান হয়ত নারীরা জানেনও না। উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে দৃশ্যমান সুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে। ৯ম দফা অনুযায়ী জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় থেকে প্রবল প্রচেষ্টায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে একজন নারী ভাইস-চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছিলো; এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন পাস করেছে, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। ১১ দফার২য় দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সরকার একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার করেছেন, এবং তাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বিধানিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া চাইনা; আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীরগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন; তাতে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় ও শিক্ষায় ঘাটতি দিয়ে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, ক্ষতি সাধনে সম্ভাবনা থাকবে না; তাই আমরা সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; একইসঙ্গে নারী মানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানাবিধ কর্মসূচী, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থারদুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা বুঝতে, জানতে বলব। তা করা হলে এমপো ও ১১দফার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয় সরকারকে জানিয়ে রাখতে চাই, বাংলাদেশ যদি কেবল এমপো অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে ব্যবস্থা নেয়, তাইলে বাংলাদেশ অবশ্যই শান্তিতে একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে প্রতীয়মান হয়। তা করা হলে বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে ও প্রতিদেশীয় স্থানীয়সরকারসমূহে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ কাজে লাগাতে উদ্যোগী হবেন?

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
পৌরসভা গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফায় ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফার৫ম দফায় রয়েছে: পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে। ১১ দফার৬ষ্ঠ দফায় রয়েছে: পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে।
৫ম দফা অনুযায়ী প্রতিটি পৌরসভায় প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন ক্উান্সিলর নির্বাচিত হবেন; একজন হবেন নারী কাউন্সিলর এবং আরেকজন হবেন পুরুষ কাউন্সিলর। এই দু’জন কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট প্রদান করবেন; একটি ভোট দেবেন একজন নারী কাউন্সিলর প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীকে। এতে উভয় সাদস্য সাধারণ সাদস্য হিসেবে একই উপায়ে নির্বাচিত হবেন; ফলে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত নারী সাদস্য নির্বাচিত করারবিধান অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। ৬ষ্ঠ দফা অনুযায়ী প্রতিটি পৌরসভায় একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র এবং একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হবেন। একজন ভোটদাতা একটি ভোট দেবেন এজন মহিলা ডেপুটি মেয়রপ্রার্থীকে, এবং আরেকটি ভোট প্রদান করবেন একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়রপ্রার্থীকে। বিদ্যমান পৌরসভা আইনে ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফা এখনো সংযোজিত হয়নি। তাই, আমরা দাবী করছি, যত দ্রুত সম্ভব ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফাদ্বয় অনুযায়ী পৌরসভা আইন সংশোধন করা হোক, এবং প্রতিটি পৌরসভায় জনাব আবু তালেব প্রণীত নগরসরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক। উভয় দফা অর্থাৎ ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফাদ্বয় বাস্তবায়ন করলে, প্রতিটি পৌরসভায় ও ২০৫০ সালেরমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নগরীয় বাংলাদেশ (গণ¯^প্ন ২০৫০) নির্মাণকরণে পুরুষেরপাশাপাশি অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়ে যাবে।।
১১ দফার১১তম দফায় রয়েছে: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। ১১ দফায় ১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মহিলা উপ-উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ-উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা উচিত হবে। জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাধায়ক সরকারেরআমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে এমপো অনুযায়ী উপজেলা আইনে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে বিধান করা হয়্; সেই আইনানুযায়ী উপজেলায় একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন; জনাব তালেবের এই অবদানেরকথা হয়ত নারীরা জানেনও না। জানলে নারীরাই উপকৃত হতেন, হবেন। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলছি, উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে দৃশ্যমান সুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে, এবং তা দেখে, বুঝে গোটাদেশ একদিন গর্ববোধ করবেন। জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় উপস্থিত থেকে ৯ম দফা বাস্তবায়ন করাতে প্রবল প্রচেষ্টায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করান; ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে একজন নারী ভাইস-চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান সংযোজন করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন পাস করেছে, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; জানলে তা একটি বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলনে হয়তো ঠেকিয়ে দেয়া যেত। ১১দফার২য় দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সাংসদগণ একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে জাতীয় সংসদ একজন অনভিজ্ঞ সাংসদকে স্পিকার নির্বাচিত করেছেন, এবং তাতে একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিজ্ঞ, সাংসদ বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীরক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া চাইনা, আমরা চাই এমপো অনুযায়ী, ১১ দফা অনুযায়ী নারীর পদ্ধতিগত গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন; তা হলে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় ঘাটতি দিয়ে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, এবং ক্ষতি সাধনে সম্ভাবনাও থাকবে না; আমরা, তাই, সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; সেজন্য নারী মানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানাবিধ কর্মসূচী, আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থারদুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা বুঝতে, জানতে বলব। সেসব দুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা বুঝলে,জানলে এমপো ও ১১ দফার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে অনেকটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গত একটি বিষয় সরকারকে জানিয়ে রাখতে চাই, বাংলাদেশে যদি এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী কেবল ইউনিয়নে, পৌরসভায় ও সিটি কর্পোরেশনে প্রতি ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হয়, তা হলে বাংলাদেশ অবশ্যই শান্তিতে একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে অনুমান করা যায়। আমরা আরও বলতে চাই যে, এটি করা হলে বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে ও প্রতিদেশীয় স্থানীয়সরকারসমূহে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ গ্রহণে উদ্যোগী হবেন?
মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
সিটি কর্পোরেশন গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফায় ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফায় ৫ম দফায় রয়েছে: পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে; ১১ দফার৬ষ্ঠ দফায় রয়েছে: পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে। ৫ম দফা অনুযায়ী প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে প্রতিটি ওয়ার্ডে দু’জন ক্উান্সিলর নির্বাচিত হবেন; একজন হবেন নারী কাউন্সিলর এবং আরেকজন হবেন পুরুষ কাউন্সিলর। এই দু’জন কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে একজন ভোটদাতা (নারী কিংবা পুরুষ) দু’টি ভোট প্রদান করবেন; একটি ভোট দেবেন একজন নারী প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ প্রার্থীকে। এতে উভয় সাদস্য সাধারণ সাদস্য হিসেবে একই পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন; ফলে প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত নারী সাদস্য নির্বাচিত করারবিধান অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে অর্থাৎ বাতিল হয়ে যাবে। ১১ দফার৬ষ্ঠ দফা অনুযায়ী প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। ৫ম ও ৬ষ্ঠ দফা বিদ্যমান সিটি কর্পোরেশন আইনে এখনো সংযোজিত হয়নি। এই উভয় দফা বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ও একটি পূর্ণাঙ্গ নগরীয় বাংলাদেশ (গণ¯^প্ন ২০৫০) নির্মাণকরণেরজন্য পুরুষেরপাশাপাশি অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দাঁড়িয়ে যাবে।
১১ দফার১১তম দফায় রয়েছে: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। (১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা উচিত হবে।
জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও সরাসরি প্রচেষ্টায় তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে এমপো অনুযায়ী উপজেলা আইনে একজন মহিলা ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে বিধান করা হয়; সেই আইনানুযায়ী একজন ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন; জনাব আবু তালেবের এই অবদান হয়ত নারীরা জানেনও না। এটি জানা থাকলে তাতে নারীরা-ই উপকৃত হতেন, হবেন।
প্রসঙ্গত আমরা প্রবল বিশ্বাস নিয়ে বলতে চাই, উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে দৃশ্যমান সুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে, এবং সেজন্য দেশবাসী একদিন গর্ববোধ করবেন।
১১দফার৯ম দফা অনুযায়ী জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় থেকে প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে সম্মত করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে একজন নারী ভাইস-চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস-চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান যুক্ত করিয়েছিলেন; এই বিষয়টিও হয়ত নারী সমাজ জানেন না; জানলে তা রক্ষায় দেশময় বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলন হতে পারতো। দুঃখজনক বিষয় হল, পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন করেছে, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে।
১১দফার২য় দফা অনুযায়ী জাতীয় সংসদে সরকার একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচিত করেছেন, এবং তাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি, সাংসদ বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া চাইনা, আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী নারীর পদ্ধতিগতভাবে গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন; তাতে অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায়, শিক্ষায় ঘাটতিজনিত কারণে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, এবং ক্ষতি সাধিত হবারসম্ভাবনাও থাকবে না।
আমরা, তাই, সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং নারী মানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চলমান নানাবিধ কর্মসূচী, আন্দোলন, ভবিষ্যত কর্মপন্থাররদুর্বলতা, ভঙ্গুরতা বুঝতে, জানতে বলব। ওসব দুর্বলতা বুঝলে, জানলে এমপোর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসঙ্গত একটি বিষয় সরকারকে জানাতে চাই, বাংলাদেশে যদি এমপো ও ১১দফা অনুযায়ী কেবল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনেরপ্রতি ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হয়, তা হলে বাংলাদেশ অবশ্যই শান্তিতে একটি নোবেল প্রাইজ পেয়ে যাবে বলে অনুমান করা যায়। তা করা হলে বৈশ্বিক মিডিয়ায়, সমাজে ও প্রতিদেশীয় স্থানীয় সরকারগুলোতে বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় গুরুত্ববহ দেশে পরিণত হয়ে পড়বে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার কি এই সম্ভাবনা ও সুযোগ গ্রহণে উদ্যোগী হবেন?
মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
উপজেলা পরিষদ গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার ৭ম ও ৮ম দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

সিডিএলজিরনির্বাহী পরিচালক, স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব ও প্রবল প্রচেষ্টায় শেষ তত্বাবধায়ক সরকারেরআমলে স্থানীয় সরকার বিষয়ক উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে উপজেলা আইনে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করারবিধান সংযোজিত করা হয়; সেই আইনানুযায়ী উপজেলা পরিষদে একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসছেন; এরফলে, আমরা দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলছি, উপজেলায় পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে দৃশ্যমান সুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে, এবং সেজন্য দেশবাসীও একদিন গর্বিতবোধ করবেন। জনাব আবু তালেবের এই অবদান হয়তো নারী সমাজ জানেনও না। বিষয়টি জানা থাকলে তাতে নারীরা-ই উপকৃত হতেন, হবেন। জনাব আবু তালেব প্রণীত উপজেলা সরকারের রূপরেখা ও ১১ দফার৮মদফা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদে নির্দিষ্টসংখ্যক সাদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন; সেজন্য গোটা উপজেলাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক পরিষদীয় নির্বাচনী ওয়ার্ডে বিভক্ত করতে হবে। প্রত্যেক পরিষদীয় নির্বচনী ওয়ার্ডে একজন নারী সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন; সেক্ষেত্রে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট দেবেন; একটি ভোট দেবেন একজন মহিলা প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ প্রার্থীকে। এই পদ্ধতি এখনো আইনে পরিণত করা হয়নি; সেজন্য বিদ্যমান উপজেলা আইন সংশোধন করতে হবে। এই পদ্ধতি উপজেলা আইনে সংযোজন করা হলে বিদ্যমান সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে বলে তা বাতিল হয়ে যাবে। জাতীয় সংসদ একটি খুবই দুর্বল উপজেলা আইন প্রণয়ন করেছেন; সেই দুর্বলতাগুলো সিডিএলজির ক্যাম্পেইনেরকারণে আস্তে আস্তে ফুটে ওঠছে; সরকার, জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা আইনী দুর্বলতাগুলো ঠেকে ঠেকেই জানছে, বুঝছে; জনাব আবু তালেবের প্রস্তাব অনুযায়ী উপজেলা পরিষদীয় সাসদ্যগণও যদি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে বিধান থাকতো, তা হলে চলমান উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভোটদাতারউপস্থিতি কি কমসংখ্যক থাকতো? অবশ্যই থাকতো না। সে যাই হোক, দিন যত যাচ্ছে, যাবে জনাব আবু তালেব প্রণীত উপজেলা সরকারের রূপরেখার প্রয়োজনীয়তা তত বেশী অনুধাবিত হচ্ছে, হবে। প্রসঙ্গত আমরা দৃঢ়ভাবে বলব, যত দ্রুত সম্ভব ‘ঠেকে শেখা’র অভ্যাস বাংলাদেশকে বদলাতে হবে।
১১ দফার১১তম দফা হল: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। এই ১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ-উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ-উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে কার্যকরী করা উচিত হবে। উপজেলায় ও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়ন দ্বারা অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরসুফল আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে।
১১ দফার৯ম দফা বাস্তবায়ন করাতে জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় উপস্থিত থেকে প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করারবিধান সংযোজন করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি দৃর্বল, ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন পাস করেছে, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। এই বিষয়টিও হয়তো নারী সমাজ জানতেন না; জানলে তা রক্ষায় একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবল আন্দোলন হতে পারতো। জনাব তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী সকল জেলা প্রতিনিধি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। তা বিদ্যমান দুর্বল, ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইনে নেই; এই আইন সংশোধন করতে সবাইকে সিডিএলজির বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে, এবং সেজন্য জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত জেলা সরকারের রূপরেখাটি জানতে বলব, বুঝতে বলব।

সে যাই হোক, আমরা নারীর ক্ষমতায়নে চমক, করুণা আর দয়া দেখতে চাই না; আমরা চাই এমপো অনুযায়ী ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীর গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন। আমরা, তাই, সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং নারী মানুষেরক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চলমান কর্মসূচি, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থারদুর্বলতা ও ভঙ্গুরতা জানতে বলব, বুঝতে বলব। তা হলে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফারসুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে বেশ সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
জেলা পরিষদ গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার ৮ম ও ৯ম দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

এমপোরআলোকে জনাব আবু তালেব প্রণীত ১১ দফার৮ম দফা হল: (৮) উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ও বিভাগীয় সংসদ এর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে। ১১দফার৯ম দফা হল: জেলা ও বিভাগে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিদ্যমান জেলা পরিষদ আইনে এই দু’টি প্রস্তাব এখনো সংযোজিত হয়নি; আমরা প্রবল বিশ্বাস থেকে বলতে চাই, বিদ্যমান দুর্বল, ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইন একদিন না একদিন সংশোধিত হতে হবে, এবং জনাব আবু তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী জেলা সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়ে থাকবে। জনাব আবু তালেব নিজে ঢাকায় উপস্থিত থেকে প্রবল প্রচেষ্টা দিয়ে শেষ তত্বাবধায়ক সরকারেরআমলে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার উপদেষ্টাকে রাজী করিয়ে ওই সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ৯ম দফা অনুযায়ী একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করার বিধান সংযোজিত করিয়েছিলেন; পদ্ধতিগতভাবে অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশের¯^ার্থে এটি গ্রহণ করার পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা বাদ দিয়ে একটি দুর্বল জেলা পরিষদ আইন পাস করেছেন, তা অবশ্যই একটি অদূরদর্শি কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে। এই বিষয়টি হয়ত নারী সমাজ জানেনও না; জানলে তা রক্ষায় একটি বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলন দ্বারা ওই অদূরদর্শি কাজ হয়তো ঠেকিয়ে দেয়া যেত।
জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত জেলা সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী জেলা পরিষদে/সংসদে নির্দিষ্টসংখ্যক সাদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকবেন; সেজন্য গোটা জেলাকে নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচনী ওয়ার্ডে/এলাকায় বিভক্ত করতে হবে। এটিও বিদ্যমান দুর্বল জেলা পরিষদ আইনে সংযোজিত করা হয়নি। বিদ্যমান আইনটি সংশোধিত করা হলে ১১ দফার৮ম দফা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা পরিষদীয় নির্বাচনী এলাকায়/ওয়ার্ডে একজন মহিলা সাদস্য ও একজন পুরুষ সাদস্য নির্বাচিত হবেন; সেক্ষেত্রে একজন ভোটাদাতা দু’টি ভোট দেবেন; একটি ভোট দেবেন একজন মহিলা প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ প্রার্থীকে। তা হলে বিদ্যমান অবমাননীয় সংরক্ষিত নারী আসন পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে বলে তা ¯^াভাবিকভাবেই বাতিল হয়ে যাবে, ফলে ‘সংরক্ষিত নারী আসন’ শব্দগুচ্ছ চিরকালেরজন্য মিউজিয়ামে ঠাঁই পাবে।
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা ভাল, জনাব তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী চেয়ারপার্সন সহ সকল জেলা প্রতিনিধি অবশ্যই প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে; তা বিদ্যমান দুর্বল, ভঙ্গুর জেলা পরিষদ আইনে নেই; এই দুর্বল আইন সংশোধন করাতে সবাইকে বুদ্ধিগত প্রতিবাদী আন্দোলনে নামতে হবে, এবং একইসঙ্গে জনাব তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত জেলা সরকারের রূপরেখা ভালভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে।
১১ দফার১১তম দফা হল: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। এই ১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করা উচিত হবে। উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল, সফলতা আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে। তা দেখে, শোনে গোটাদেশবাসীও গর্ববোধ করবেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া দেখতে চাইনা, আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী নারীর পদ্ধতিগতভাবে গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন। আমরা, তাই, সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং একইসঙ্গে নারীরক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কর্মসূচী, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থার দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা ভালভাবে জানতে বলব, বুঝতে বলব। তা করা হলে এমপো ও ১১দফার সুদূরপ্রসারী, কালজয়ী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে অনেকটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
বিভাগীয় সংসদ গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১-দফায় ৮ম ও ৯ম দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা, এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী বিভাগীয় সংসদে নির্দিষ্টসংখ্যক সাদস্য প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন; সেজন্য গোটা বিভাগকে নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচনী এলাকায়/ওয়ার্ডে বিভক্ত করতে হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সংসদীয় নির্বাচনী এলাকায়/ওয়ার্ডে একজন মহিলা বিভাগীয় সংসদীয় সাদস্য ও একজন পুরুষ বিভাগীয় সংসদীয় সাদস্য থাকবেন; সেক্ষেত্রে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট দেবেন; একটি ভোট দেবেন একজন মহিলা সাদস্য প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ সাদস্য প্রার্থীকে। এই রূপরেখা অনুযায়ী প্রতি বিভাগে দুইজন ভাইস চেয়ারপার্সন থাকবেন; একজন হবেন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন, এবং আরেকজন হবেন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন। এক্ষেত্রেও একজন ভোটদাতা একটি ভোট দেবেন একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন প্রার্থীকে এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন প্রার্থীকে।

১১ দফার১১তম দফায় রয়েছে: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে।
এই ১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশজুড়ে সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে কার্যকরী করা উচিত হবে। এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী উপজেলায় একজন নারী ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এটি যত দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় বাস্তবায়ন করা উচিত হবে।

উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে ক্ষমতায়িত নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল, সফলতা আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে। আমরা নিশ্চিত, গোটা দেশবাসি এই সফলতায় একদিন গর্ববোধ করবেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নেরনামে চমক, করুণা কিংবা দয়া দেখতে চাইনা; আমরা চাই এমপো অনুযায়ী ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীরগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন। তাই, আমরা সবাইকে জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; একইসঙ্গে সকলকে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও ভবিষ্যত কর্মপন্থার দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা ভালভাবে জানতে বলব, বুঝতে বলব। তা করা হলে এমপো ও ১১ দফার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে অনেকটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো), বিশ্বজুড়ে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি ফর্মুলা
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো আন্দোলন
বাংলাদেশ জাতীয় সভা গঠনে ও নির্বাচনে এমপো ও ১১ দফার১০ম দফার প্রায়োগিক উদাহরণ

গরষষবহহরঁস চৎড়ঢ়ড়ংধষ চধৎঃ ঙহব (গচচঙ ঢ়ৎড়হড়ঁহপবফ ধসঢ়ড়)

স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত জাতীয় সভার রূপরেখা, এমপো ও ১১দফার১০ম দফা অনুযায়ী জাতীয় সভা গঠনেরক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা হবে একেকটি জাতীয় সভাসদীয় নির্বাচনী এলাকা। প্রতিটি জেলা থেকে একজন নারী জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে একজন ভোটদাতা দু’টি ভোট প্রদান করবেন; একটি ভোট দেবেন একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ প্রার্থীকে, এবং আরেকটি ভোট দেবেন একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রার্থীকে। প্রতি জেলায় দু’জন জাতীয় সভাসদ, ১জন মহিলা সভাসদ ও ১জন পুরুষ সভাসদ, একই পদ্ধতিতে সাধারণ জাতীয় সভাসদ হিসেবে জাতীয় সভায় নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে সংরক্ষিত নারী জাতীয় সভাসদ নির্বাচিত করারবিধান আলাদাভাবে করতে হবেনা। বাংলাদেশে বর্তমানে ৬৪টি জেলা রয়েছে; এই সংখ্যা বজায় থাকলে, প্রতি জেলা থেকে একজন নারী জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ নির্বাচিত হলে মোট ১২৮ জন জাতীয় সভাসদ নিয়ে জাতীয় আইনসভায় উচ্চকক্ষ হিসেবে জাতীয় সভা গঠিত হতে পারবে। এই সূত্র অনুযায়ী জেলারসংখ্যা বাড়লে/কমলে জাতীয় সভাসদেরসংখ্যাও বাড়বে/কমবে। তবে উচ্চকক্ষে সাদস্য সংখ্যা কম থাকাই ভাল, সেটি মাথায় থাকলে জেলারসংখ্যা বাড়ানোরক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্ভন করতে হবে বইকি।
জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত ১১ দফায়১০ম দফা হল: জাতীয় সভা গঠনেরক্ষেত্রে প্রতিটি জেলাকে একেকটি নির্বাচনী এলাকা ধরে প্রত্যেক জেলা হতে একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে হবে।
বাংলাদেশে জাতীয় সভা আদৌ গঠিত হবে কি হবেনা সেই বিতর্ক চলমান রয়েছে; যদি কখনও এই বিতর্ক পরিপক্কতা পায়, এবং যদি কখনও জাতীয় সভা গঠনে জাতীয় সম্মতিতে সাংবিধানিক আইনী পরিণতি পেতে যায়, তখন অবশ্যই জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত ১০ম দফা বিশেষভাবে বিবেচিত হতে হবে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা, তাই, এই ১০ম দফা নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাম্পেইন অব্যাহত রাখব বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করছি।
জনাব আবু তালেব প্রণীত প্রস্তাবিত ১১ দফার১১তম দফাটি হল: এমপো’র আলোকে অন্যান্য ¶েত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ¶মতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে।
১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই পদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশময় সকল শি¶া প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে সরকারেরপ্রতি অনুরোধ রইল। উপজেলায় ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতিগতভাবে অভিজ্ঞ, দক্ষ নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকাশেরদৃশ্যমান সুফল, সফলতা দেশবাসীরকাছে আস্তে আস্তে ফুটে ওঠতে থাকবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত। আমরা আরও নিশ্চিত, অভিজ্ঞতায়, দক্ষতায় ও শিক্ষায় ঘাটতি না দিয়ে নারীরক্ষমতায়নে এই পদ্ধতি নিয়ে গোটাজাতিও একদিন গর্বিতবোধ করবেন।
আমরা নারীরক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া দেখতে চাইনা; আমরা চাই এমপো ও ১১ দফা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে নারীরগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন। তাই, আমরা সকলকে জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং পাশাপাশি সবাইকে নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক চলমান স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কর্মসূচি, আন্দোলন ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থারমধ্যে যেসব সাংঘাতিক দুর্বলতা, ভঙ্গুরতা লুকিয়ে রয়েছে তা ভালভাবে জানতে বলব, বুঝতে বলব। তা হলে এমপো ও ১১ দফারবর্তমান ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে অনেকটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়। মনে রাখতে হবে, এমপো হচ্ছে বিশ্বজুড়ে প্রতিদেশীয় জাতীয়, রাজ্য/প্রদেশ ও স্থানীয় আইনসভায় নারীরক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি সাধারণ ফর্মুলা, এবং ১১ দফা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নারীরক্ষমতায়নে সুনিদিষ্টভাবে একটি সুপারিশ, একটি বুদ্ধিগত আন্দোলন। এমপো ও ১১ দফা বাস্তবায়ন হতে থাকলে ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন’ শব্দগুচ্ছটি ইতিহাসের একটি কাল অংশ হিসেবে মিউজিয়ামে, বই-পুস্তকে ঠাঁই পেতে থাকবে। তাই তারশুরুটা বাংলাদেশ থেকেই শুরু হোক এটা আমরা মনেপ্রাণে চাই। অন্যভাবে বলা যায়, আমরা চাই, এই ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ হোক অন্যসব দেশেরকাছে রোল মডেল।