এড.খালেকুজ্জামান এর স্মরনে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহমুদের ‘অমর খালেকুজ্জামান’

প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০১৯ ৮:০১ : অপরাহ্ন

“অমর খালেকুজ্জামান”

সময়টা ২০০১ সাল। সারাদেশে বয়ছে নির্বাচনি আমেজ। আমি সবেমাত্র ৬ বছর পূর্ণ হয়ে ৭ বছরে পা দিলাম৷ চারিদিকে হৈ হৈ রব উঠেছে শহীদ জিয়ার ধানের শীষের।আমার এলাকায় ছোট বাচ্চা থেকে বালক,যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাই গাইছে ধানের শীষের গান৷মা বায়না ধরেছে,নির্বাচনি প্রচারে আসলে ধানের শীষের প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে জয়ের আগেই জয় উদযাপন করবেন৷ বাবা দমক দিয়ে বলেন,আগে ভোট দিয়ে আস তারপর দেখা যাবে৷

ধানের শীষের প্রার্থী খালেকুজ্জামান এলাকায় আসছেন,খবরটা কানে পৌঁছাতেই মায়ের ছুটাছুটি শুরু হয়ে গেল।আমার এখনো মনে আছে,মা আমাকে বলেছিল “যদি তর বাবা ফুলের মালা না আনছে,তাহলে সোজা তর নানার বাড়ি চলে যাব”।

জালালাবাদ ইউনিয়ন পালাকাটায় বিএনপি প্রার্থী আসার সময় ঘনিয়ে আসছে। মা রাগ করে এখনো উপোস।ফুলের মালা চাই’ই চাই৷

আমার এক চাচীর রক্তের আত্মীয় ছিলেন এড.খালেকুজ্জামান। পালাকাটায় আসলে শতশত নেতাকর্মীর ভিড়েও চাচীর বাড়ির উঠানে টু মেরে এক গ্লাস পানি হলেও পান করে যেতেন।

যার কারণে নেতা খালেকুজ্জামান কে আমাদের এলাকায় মায়েদের সন্তান হিসাবে দেখা হত৷

আমাদের পরিবারের সাথে রক্তের বা কোন ঘনিষ্ঠতা ছিল না এড.খালেকুজ্জামান সাহেবের।

তবে,মা বেগম জিয়াকে রক্তের আত্মীয় মনে করেন৷আর সেই সম্পর্ক থেকে যারা বেগম জিয়ার পক্ষের লোক তাদের সবাইকে রক্তের মনে করেন।তাছাড়া এড.খালেকুজ্জামান সাহেবের শিশুসুলভ আচরণ,মায়েদের সম্মান এবং সবার প্রতি ভালবাসা থেকেই ছেলে খালেকুজ্জামানের প্রতি ভালবাসা রয়েছে’ই৷

তিনি যখন চাচির বাড়ির উঠানে,তার একটু আগেই হাট থেকে তাজা ফুলের মালা কিনে এনে মায়ের হাতে তুলে দিলেন আমার শ্রদ্ধেয় বাবা। মা ফুলের মালা পেয়ে আবেগে কেঁদেছিল।

পরে শুনেছি, বাবা ৪/৫ মাইলের পথ হেঁটে গিয়ে ফুলের মালা কিনে এনেছিল। বেগম জিয়া বা বিএনপির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসা না থাকলে এক কদম পা সামনে রাখা যেত না!

চাচি তার জমানো টাকা দিয়ে ‘টাকার মালা’ তৈরি করেছিল,মা ফুলের মালা গলায় পরিয়ে ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছিল।নেতা খালেকুজ্জামান সাহেব তখন মা এবং চাচি উভয়ের পা ছুঁয়ে সালাম করে বিদায় নিয়েছিল। জনপ্রিয় নেতা খালেকুজ্জামান সাহেব কক্সবাজারের নয়নের মণি ছিলেন৷ শতশত মায়ের দুয়াতেই তার চলার পথ সুগম হয়েছিল।

খালেকুজ্জামান নিখাদভাবে মানুষকে ভালোবাসতেন।তিনি ঈদগাঁওতে শেষ জনসভায় বলেছিলেন, ১০ বার জন্ম নিলেও তিনি রামু-কক্সবাজারের জনগনের ঋণ শোধ করতে পারবেন না।

আসলেই মানুষ তাঁকে অকল্পনীয়ভাবে ভালোবাসেন। যতটুকু সম্ভব তিনি মানুষের উপকার করেছে। পারত পক্ষে তিনি কাউকে কষ্ট দেননি। মরহুম খালেকুজ্জামান সাহেবের ১৮ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি এবং হৃদয়ের গভীরতম প্রকোষ্ঠ থেকে দুয়া করছি যেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মরহুমকে কবুল করেন। জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করেন,আমীন।

লেখকঃ মাহমুদুল করিম মাহমুদ যুব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক বিএনপি,পবিত্র মক্কা, সৌদি আরব। সাবেক সিঃ সহসভাপতি জালালাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদল।