এরশাদকে স্বৈরাচার দাবি করে ঢাবিতে ‘ঘৃণা কর্মসূচি’

প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০১৯ ১১:২৮ : অপরাহ্ন

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার দাবি করে তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করে এ বামপন্থী সংগঠনটি। এ সময় এরশাদের হাতে নিহত সব রাজনৈতিক হত্যার বিচার দাবি করা হয়।

বিকেল ৫টার দিকে ছাত্র ইউনিয়নের একদল নেতাকর্মী শহীদ রাজুর পাদদেশে দাঁড়ান। এ সময় তাদের হাতে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামের বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুনে ‘আমি নূর হোসেন, এরশাদ আমার খুনি’, ‘আমি জয়নাল, খুনি এরশাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না’, ‘আমি রাউফুন বসনিয়া, আমার হত্যাকারী এরশাদের বিচার চাই’ লিখে বিক্ষোভ করছিলেন তারা।

advertisement

এ সময় তারা দাবি করেন, এরশাদ বাংলাদেশ একজন কুখ্যাত স্বৈরাচার শাসক। তার মতো স্বৈরাচার সরকার এরশাদের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল ফাঁসির দড়িতে কিন্তু তার হলো স্বাভাবিক মৃত্যু, যা শহীদদের জন্য অপমানজনক। তার স্বাভাবিক মৃত্যুতে শহীদ ডাক্তার মিলন, রাউফুন বসুনিয়া, জয়নালের মতো শহীদদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য দায়ী বাংলাদেশের অপরাজনীতি। বাংলাদেশের এমন অপরাজনীতির কারণেই তিনি আজ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ঘৃণা প্রদর্শনে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, ‘আপনারা জানেন এরশাদ বাংলাদেশের একজন কুখ্যাত স্বৈরাচার। তার হাতে ক্ষমতা থাকার সময় ছাত্রদের ওপর অনেক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তাজুল এর কথা আমরা জানি, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ঢাকা শহরের না, সারা দেশেই এরশাদের গুন্ডার হাতে অগণিত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।’

advertisement

মেহেদী হাসান নোবেল আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, একজন স্বৈরশাসক আজকে যে মর্যাদার সাথে মৃত্যুবরণ করলেন, এটা তার সাথে হওয়ার কথা ছিল না। তাকে জেলখানা বা ফাঁসির কাষ্টে ঝুলে মৃত্যুবরণ করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অপরাজনীতির কারণে তিনি আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান পাচ্ছেন। তাই আমরা মনে করি এটি শহীদদের সাথে একটি প্রতারণা। ডাক্তার মিলন, রাউফুন বসুনিয়া, জয়নালের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আজকে আমরা এখানে ঘৃণা প্রদর্শন করছি। আজকের শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। তার সাথে স্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়।’

ছাত্র ইউনিয়নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর করিম বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে আজকে আমাদের এই নীরব প্রতিবাদ। আজকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিচার হয় না। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের আজ স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এরশাদ শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন সব জায়গায় হামলা চালিয়েছে তার পুলিশ বাহিনী দিয়ে এবং আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছে। যাদের এখন পর্যন্ত আমরা হত্যার বিচার পাই নাই। তার স্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কাছে একটা দুঃখজনক বিষয়। তাই আমরা তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করতে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের বিচার না করে এই এরশাদের মৃত্যুতে সরকার শোক জানাচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।’

ঘৃণা প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহসহ ছাত্র ইউনিয়নের অনেক কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের সময় অনলাইন।