কবিতা চত্বরে ‘যোগ-কবিতা ও যোগ সাধনার মনবন্ধন’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০১৯ ১০:৪২ : পূর্বাহ্ন

বার্তা পরিবেশক:
দরিয়ানগরখ্যাত কক্সবাজার সমুদ্রপাড়ে যোগ ও কবিতা সমন্বয়ে কবিতাবাংলার আয়োজনে ‘যোগ-কবিতা : ধ্যান ও পাঠ,কবিতা ও যোগ সাধনার মনবন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈকতের কবিতা চত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারী বর্ষণের কারণে বিয়াম মিলনায়তনে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার বিকেলে উৎসবের উদ্ধোধন করেন কবিতা বাংলার সভাপতি একুশে পদক প্রাপ্ত জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। প্রধান অতিথি ছিলেন যোগগুরু ভাস্কর রাসা। বিশেষ অতিথি ছিলেন মডেল-অভিনেতা মুনির খান শিমুল, কবি খুরশিদ আনোয়ার ও যোগগুরু ভগিরথ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ভগিরথের স্থানীয় যোগ শিশুরা একটি যোগ প্রদর্শনী উপস্থাপন করেন।
এরপর ভাস্কর রাসা বিভিন্ন বয়সী ৫০ জন নারী-পুরুষকে ঘন্টাব্যাপি বিভিন্ন ধরণের যোগ ব্যায়ামের কায়দাকানুন প্রশিক্ষণ দেন। এ সময় মডেল-অভিনেতা শিমুল প্রশিক্ষণার্থীদের যোগ ব্যায়ামে সহযোগিতা করেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন যোগ-কবিতা উৎযাপন কমিটির আহবায়ক মুহম্মদ রিশাদ হুদা ও উন্নয়ন কর্মী নির্বাণ পাল।
আয়োজক কমিটি জানান, আমাদের জানা মতে ইতিহাসে প্রথমবার যোগ ও কবিতা সমন্বয়ে এই ধরণের কোন অনুষ্ঠান হয়েছে। যোগ দেহ ও মনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রচনা করে। যা দুটোকেই সুস্থ্য রাখে। আর কবিতা মনের অজানা জানালা খুলে দিয়ে; আরও সমৃদ্ধ করে তুলে। আধুনিক জীবনের টেনশন আর হতাশা থেকে মুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও প্রশান্তি লাভের লক্ষ্যেই যোগী ও কবিদের নিয়ে আমাদের এই প্রচেষ্টা। দরিয়া নগরখ্যাত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম। কিন্তু এখনে বিদেশী পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বর্তমানে প্রচুর আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অবস্থান করছে। যাদের বড় একটি অংশ ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান। যাদের মাধ্যমে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্যে ও নিরাপত্তার কথা অচিরেই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু পর্যটনকে আকর্ষণ করে তেমন অন্য কিছু কক্সবাজারে নেই। চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ফেরাতে রোগিদের সমুদ্রপাড়ে যেতে পরামর্শ দিয়ে থাকে। কক্সবাজার এই ধরণে হাওয়া বদলের জন্য মোক্ষম স্থান। কিন্তু কক্সবাজার হাওয়া বদলের স্থান হিসেবে রোগীদের জন্য এখনও প্রসিদ্ধ নয়।
সমুদ্রপাড়ে নির্দিষ্ট সময় যোগব্যায়াম মন ও দেহের উপর দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচত প্রভাব ফেলে। যোগ সাধনা ইতোমধ্যে সারা পৃথিবীতে ব্যপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আর কবিতার জয়জয়কার আজও বিশ্বব্যাপী। যোগ-কবিতা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে এই শহরকে পৃথিবীর শান্তি কেন্দ্রে পরিণত করা যায় বলে আমরা বিশ্বাস করি। কবিতাবংলা আয়োজিত যোগ-কবিতার মনবন্ধন এই আন্দোলনের প্রথম প্রয়াস।