কাঁঠালের ভেষজগুণ

প্রকাশ: ১০ জুন, ২০১৯ ১২:১১ : অপরাহ্ন

শীতকালের চেয়ে বেশি ফল পাওয়া যায় গ্রীষ্মকালে। আম, কাঁঠাল, লিচু অর্থাৎ রসে ভরপুর ফলগুলো এই গরমকালেই বেশি পাওয়া যায়। এসব ফলের মধ্যে কাঁঠাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফল। এটি কাঁচা অবস্থায় যেমন খাওয়া যায়, তেমনি রান্না করেও খাওয়া যায়। আর পাকা কাঁঠাল খাওয়ার মজাই আলাদা। এটির পুষ্টিগুণ অনেক।

কাঁঠালের ৪ থেকে ৫টি কোয়ায় ১০০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। শিশু, কিশোর-কিশোরী, পূর্ণ বয়স্ক নারী-পুরুষ সবার জন্যই ফলটি খুব উপকারী। শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব দেখা দিলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়, শরীরের লাবণ্যতা হারিয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে কাঁঠালের ভূমিকা অনেক। কাঁঠালের মধ্যে ভিটামিন ‘সি’ এবং কিছুটা ‘বি’ আছে।

পাকা কাঁঠাল যেমন উপকারী, তেমনি কাঁচা কাঁঠালও। তবে জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের বাকি গুণগুলো। কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন, যা দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে। কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম। এই ফল খাওয়ায় ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা কম থাকে। বদহজম রোধ করে কাঁঠাল।

কাঁঠালে প্রচুর ভিটামিন এ আছে, যা রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। চর্মরোগের সমস্যা সমাধানেও কাঁঠাল খুবই কার্যকরী। কাঁঠালে আছে বিপুল পরিমাণ খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কাঁঠালে ভিটামিন বি৬-এর উপস্থিতিতে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

গর্ভবতী কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থ সন্তান বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। কাঁঠাল হাড় মজবুত করে। কাঁঠালে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা ক্যালসিয়াম শোষণ করে। ক্যালসিয়াম হাড়ের মজবুত করে এবং হাড়ের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

লেখক : বিশিষ্ট হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক