কাজের সন্ধানে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল পেকুয়ার দু’ যুবক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ৯:২৫ : অপরাহ্ন

পেকুয়া(কক্সবাজার)সংবাদদাতা:
কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে মামুনুর রশিদ (২২), আসিফ (২০) ও জাহাঙ্গীর (২২) তিন বন্ধু মিলে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে সকাল ৮টায় বের হল। দুপুরে দু’জন লাশ হয়ে বাড়ি ফিরল। একজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে চমেক হাসপাতালে। তার অবস্থাও আশংকাজনক। এখনো জ্ঞান ফিরেনি তার। নিহতদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। আতœীয় স্বজনদের কান্নার আহাজারীতে পরিবেশটা যেন ভারী হয়ে গেছে। সন্তানের লাশ দেখে বার বার মুর্চা যাচ্ছেন তাদের পিতা-মাতা। কে দিবে, কাকে শান্তনা। বৃহষ্পতিবার (১০অক্টোবর) সকালে তারা কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া যাচ্ছিল। তারা তিন জনই নলকুপ স্থাপন (পাইপ মেস্ত্রী) কাজ করত। একটি ট্রলি যোগে যন্ত্রপাতি নিয়ে টিউবওয়েল বসানোর জন্য যাচ্ছিল তারা। আজিজ নগর জাইল্যার ঢালা নামক স্থানে পৌছলে কক্সবাজার অভিমুখী একটি কাভার্ড ভ্যানের সাথে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে ট্রলির। এ সময় ঘটনাস্থলে মারা যান মামুন ও আসিফ। স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরকে মূমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মামুন উপজেলার উত্তর মেহেরনামা তেলিয়াকাটা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে। আসিফ একই গ্রামের মানিকের ছেলে। আহত জাহাঙ্গীর সাবেক গুলদী গ্রামের কপিল উদ্দিনের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামুন এক সন্তানের জনক। নাজমুদ শাহাদত নামের তিন বছরের এক ছেলে রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, দুপুর ১২টার দিকে মামুনের মরদেহ বাড়িতে পৌছে। আসিফের লাশ পৌছে দুপুর ২টায়। এ সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়। তাদের এক নজর দেখতে শত শত এলাকাবাসীর ভিড় জমে লাশের বাড়িতে। মামুনের মা মনোয়ারা বেগম, আসিফের পিতা মানিক জানায়, তারা তিন বন্ধু সকালে একসাথে লোহাগাড়া কাজ করতে যাচ্ছিল। পাইপের কাজ করে তারা। তিনজন এক সাথে কাজ করে। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে আমাদের বুকের ধন না ফেরার দেশে চলে গেল।