কুমারী পূজার প্রতিমায় মুসলিম মেয়ে ফাতিমা

প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০১৯ ৬:৫৭ : অপরাহ্ন

ধর্ম ডেস্ক।

ঢাকা: কলকাতার কাছেই বাগুইআটির অর্জুনপুরের দত্ত পরিবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে চার বছরের এক মুসলিম কন্যাকে দুর্গা রূপে পূজিত করা হল মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজায়। বাগুইআটির দত্তবাড়িতে মহাষ্টমীর পূজায় কুমারী রূপে পূজিত হলেন মুসলিম পরিবারের এক শিশু। নাম ফতিমা, বয়েস চার বছর।

২০১৩ সাল থেকে নিজের বাড়িতেই পূজা করে আসছেন বাগুইআটির বাসিন্দা তমাল দত্ত। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার তমালবাবুর দীর্ঘদিনের ইচ্ছা বাড়ির পুজোয় হিন্দু নয় এমন কোনো মেয়েকে দেবী দুর্গা হিসেবে পূজা করা। সেই ইচ্ছা পূর্ণ হলো এতদিনে। তমালবাবুর এই বাসনা জানতে পেরে এগিয়ে আসেন কামারহাটির বাসিন্দা মুহম্মদ ইব্রাহিম।

মুহম্মদ ইব্রাহিমের ভাগ্নি চার বছরের ছোট্ট ফতিমা রোববার অষ্টমীর দিন কুমারী রুপে পূজিত হলো বাগুইআটির দত্তবাড়িতে। আগ্রার ফতেপুর সিক্রিতে মুদি দোকানে কাজ করেন ফতিমার বাবা মহম্মদ তাহির। মা ও বাবার সঙ্গে ফতিমাও থাকে সেখানে। তমালবাবুর ইচ্ছা ইব্রাহিমের মুখে শুনে সুদূর আগ্রা থেকে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় ছুটে আসেন তাহির ও তার স্ত্রী বুশরা। অষ্টমীর সকালে বাগুইআটির দত্তবাড়িতে পূজিতা হয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কুমারী কন্যা ফতিমা।

২০১৩ সাল থেকে নিজের বাড়িতে পূজা করে আসছেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার তমাল দত্ত। আর প্রতিবারই কোন না কোন নতুনত্ব থাকে তার পুজোয়। বিভিন্ন জাতি, ধর্মের কন্যাকে কুমারী পুজোয় অংশগ্রহণ করানো হয়। এবারও নতুন নজির তৈরির লক্ষ্যে অষ্টমীর পূজায় কুমারী পূজার অংশ হিসাবে মুসলিম কন্যাকে দেবী দুর্গা হিসাবে পুজো করল তমাল-মৌসুমীর পরিবার।

বিষয়টি নিয়ে তমাল জানান, মা দুর্গার কোন জাত, ধর্ম নেই। আমরা শিশু কন্যাকে মা হিসাবে পূজা করেছি এবং মায়ের কোন ধর্ম হয় না। হিন্দুত্ব একটা স্বাধীন ধর্ম এবং আমাদের গোঁড়ামি অবলম্বন করা উচিত নয়।

এদিকে, কুমারী পুজোয় ‘মুসলিম কন্যা’কে পূজিত করার বিষয়টি কামারহাটির বাসিন্দা মহম্মদ ইব্রাহিম নামে তারই এক সহকর্মীকে জানান তমাল দত্ত। ইব্রাহিম-ই নিজের চার বছর বয়সী ভাগ্নি ফাতিমার কথা জানান তমালকে। তমাল তাতে সম্মতি জানানোয় বিষয়টি নিয়ে এগোতে থাকেন ইব্রাহিম। প্রথমে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তার বড় ভাই ইমরানের সাথে, পরে যোগাযোগ করা হয় আগ্রার ফতেপুর সিক্রিতে অবস্থিত বোন বুশরা বিবি (ফাতিমার মা), মহম্মদ তাহির (ফাতিমার বাবা) সাথে। এ ব্যাপারে ফাতিমার পরিবারের কোন আপত্তি না থাকায় তমাল দত্তের ইচ্ছাপূরণে সমস্ত বাধাই দূর হয়ে যায়। পরে মেয়ের একটি ছবি তমাল দত্তকে পাঠিয়ে দেন বুশরা বিবি। এরপরই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়।

এ বিষয়ে ইব্রাহিম জানান, স্যার (তমাল)-এর সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক। তাই তিনি যখন বললেন যে আমার ভাগ্নিকে পূজা করতে পারেন কি না-আমি তখন খুবই খুশি হয়েছিলাম।

অবশেষে রবিবার বাগুইআটিতে দত্ত পরিবারের বাড়িতে রীতিমতো শাস্ত্রীয় মতে ধুমধাম করে অষ্টমীর পুজো হয়। পরিবারের আত্মীয়, কাছের মানুষরা ছাড়াও প্রতিবেশিরা তো ছিলেনই, উপস্থিত ছিল গণমাধ্যমের কর্মীরাও। আমন্ত্রণ পেয়ে পূজায় হাজির ছিলেন ফাতিমার মা-বাবা-মামার পরিবারের লোকেরাও। বুশরা জানান, ‘আমার খুবই ভাল লাগছে।’

মূলত, শাস্ত্রমতে ষোল বছরের নিচে কোন অরজ:স্বলা কুমারী মেয়েকে পূজা করা হয়ে থাকে। বিশেষত দুর্গাপূজার অঙ্গরূপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজার করা বিধান রয়েছে। কিন্তু ১২১ বছর আগে ১৮৯৮ সালে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে প্রথম কোন মুসলিম কন্যাকে দুর্গা রূপে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।