গভীর রাতে বাসভবন ছাড়লেন সেই ডিসি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১১:০৩ : অপরাহ্ন

কান্ট্রি ডেস্ক।

নারী সহকর্মীর সঙ্গে ওএসডি হওয়া জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের ‘অন্তরঙ্গ মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক তোলপাড়ের মধ্যেই সরকারি বাসভবন ছেড়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার গভীর রাতে জামালপুর ত্যাগ করেন তিনি।

নারী সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর সেই ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় আজ রোববার ডিসি আহমেদ কবীরকে বদলিপূর্বক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জামালপুরে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ এনামুল হককে।

তবে ডিসির পদ থেকে প্রত্যাহারের আদেশপত্র হাতে পাওয়ার আগেই গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ পাহারায় আহমেদ কবীর সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেন।  আপত্তিকর ভিডিও’র সেই আলোচিত নারী ডিসির কার্যালয়ের অফিস সহকারী। তিনিও আজ সকাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। শুক্র ও শনিবার দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ অফিস খুললেও ওই অফিস সহকারী কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তার মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘তিনি (নারী অফিস সহকারী) আমাদের কাছ থেকে ছুটি নেননি। পূর্বানুমতি ছাড়াই অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন।’

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওএসডি হওয়া ডিসির আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট কর হয়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা যায় তারই অফিসের একজন নারী সহকর্মীকে। এর পরপরই তার এমন কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে।

আপত্তিকর ওই ভিডিও সম্পর্কে ডিসি আহমেদ কবীর গতকাল বলেন, ‘এটা কোথায়, এটা কীভাবে করেছে আমি জানি না। একটা হ্যাকার গ্রুপ অনেক দিন ধরেই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল, টাকা-পয়সা চাচ্ছিল, আমার ক্ষতি করবে ইত্যাদি। তার হয়তো ফেক আইডি খুলে এগুলো করেছে।’

সেই ভিডিও প্রকাশের পর আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে আদেশ জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি। সদস্যরা কেউ উপসচিব পদমর্যাদার নিচে হতে পারবেন না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন শৃঙ্খলা অধিশাখার উপসচিব সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।