চকরিয়ায় বানের পানিতে ভাসছে বির্স্তীণ জনপদ

প্রকাশ: ১৩ জুলাই, ২০১৯ ১২:২৯ : অপরাহ্ন

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া
সাতদিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে বানের পানিতে ভাসছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বির্স্তীণ জনপদ। উপজেলার সাড়ে লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৭০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ লাখ মানুষ কমবেশি পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। রান্না করতে না পেরে বেশিরভাগ পরিবার দুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেনা। গ্রামীণ জনপদে বেশিরভাগ টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি মানুষ তীব্র সংকটে পড়েছে বিশুদ্ধ পানীয়জলের। সাথে শুকনো খাবার সংকটও রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় অভ্যান্তরীন যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। এ অবস্থার কারণে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছে। অপরদিকে দুর্গত জনপদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পানিবন্দি মানুষের জন্য লঙ্গনখানা চালু করেছে। কয়েকটি ইউনিয়নে খিচুঁরি রান্না করে নৌকায় করে দুর্গত মানুষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়েছে। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত অন্তত ১০ হাজার পরিবারের মাঝে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করা খিচুঁড়ি বিতরণ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার।
এদিকে লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বন্যাকবলিত লোকজনের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। বিষয়টি নিয়ে ভূয়শী প্রশংসা করেন অনেকেই।
তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা হাল্কা শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে বানবাসি মানুষদের কাছে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুর্গতরা এসব শুকনো খাবার পেলেও বেশিরভাগ দূর্গতরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাই বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি পৌছে দেয়ার দাবি জানান দূর্গতরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের কমবেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৫০ থেকে ৬০টি গ্রাম তলিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানি রয়ে গেছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসে ভাটির দিকে । এসময় নদীর দু’কুল উপচিয়ে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামাসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়।
সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম, কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি করেমনি। শতশত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিন্মি হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলে পৌর এলাকার যেসব ওয়ার্ডে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আশা করি ওইসব পানি দ্রুত নেমে যাবে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, সরকারিভাবে যেসব চাউল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ এসেছে তা ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ শুরু করেছে। তবে দুর্গত মানুষের সংখ্যা অনুপাতে আরো বরাদ্দ দেয়ার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের পাশপাশি গতকাল শুক্রবার সকালে থেকে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বন্যা কবলিত এলাকার অন্তত সাড়ে তিন হাজার পরিবারের মাঝে নতুন কাপড়, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের পাশে থাকবো। পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে করণীয় ঠিক করা হবে।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চকরিয়া উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব শুকনো খাবার দুর্গত এলাকায় পৌছে দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনের লোকজনও কাজ করছে।#