চকরিয়ায় স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজ বসতঘরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু!

প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০১৯ ১০:১২ : পূর্বাহ্ন

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া
চকরিয়া উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকার স্বামীর বসতঘর থেকে ইয়াছমিন আক্তার (২৮) নামের তিন সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় বসতঘরে ওই গৃহবধুর রহস্যজনক মুত্যুর ঘটনাটি ঘটে। এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত ইয়াছমিন আক্তার ওই এলাকার তরকারী ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী। পূর্ববড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে গৃহবধুর মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে পুলিশ ও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, নিহত ইয়াছমিন আক্তারের স্বামী শাহাব উদ্দিন একজন ক্ষুদ্র কাঁচা তরকারী ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যবসায় চলে যান। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে স্বামী বাড়ির জন্য মাছ ও তরকারী ক্রয়করে নিয়ে আসেন। ওই সময় স্ত্রী ইয়াছমিনকে বাজার নেয়ার জন্য কয়েকবার ডাকাডাকি করলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তিনি (স্বামী) পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বাড়িতে খোঁজ নেন। এ সময় পর্দার আড়ালে তার ছোটভাই ছোটনের রুমের দরজার সামনে গেলে স্ত্রীকে মাটিতে পড়াবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্বামী শাহাব উদ্দিন শোর- চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বসতঘর থেকে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার।
এরপর ঘটনাটি তাৎক্ষনিক স্থানীয় পূর্ববড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল ও থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান, ওসি (তদন্ত) এস এম আতিক উল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মাতামুহুরী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই অরুণ কান্তি চাকমা ঘটনাস্থল থেকে নিহত গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে।
প্রতিবেশি লোকজন জানান, শনিবার বিকেলের দিকে তার শিশু সন্তানরা তাদের মাকে (ইয়াছমিন আক্তার) দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি করতে থাকলে পার্শ্ববর্তী এলাকাবাসী ওই শিশুদের তাদের দাদার বাড়িতে খেলতে পাঠিয়ে দেয়। এসময় নিহতের বড় ছেলে পাশ্ববর্তী হেফজখানায় ছিল। স্বামী শাহাব উদ্দিন ব্যবসায়ী কাজে ঘরের বাহিরে ছিল। তবে কি কারণে গৃহবধু ইয়াছমিন মারাগেছে তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে নিহত গৃহবধু ইয়াছমিন আক্তারের বাপের লোকজনের দাবী, তাদের মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি কি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে পুলিশ ও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আরিফ দুলাল বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডস্থ নোয়াপাড়া এলাকায় তিন সন্তানের এক গৃহবধুর লাশ বাড়ির মধ্যে পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ফোন করে আমাকে জানান। পরে ঘটনার বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হাবিবুর রহমান বলেন, স্বামীর বসতঘরে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি জেরে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যাই। পরে বাড়ি থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করি। সুরুতহাল রিপোর্ট তৈরি করার পর লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মূত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।##