ছিনতাইকারির কবলে কাউয়ারখোপের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী হানিফ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই, ২০১৯ ৯:২৫ : অপরাহ্ন

অানোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার:
ছিনতাইকারির কবলে পড়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: হানিফ জিহাদি। তিনি রামুর পশ্চিম কাউয়ারখোপ ৬নং ওয়ার্ডের মৃত শফিকুর রহমান সওদাগরের পুত্র। রামু উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, হানিফ জিহাদি সহকর্মীদের সাথে চট্টগ্রাম বিএনপির সমাবেশে যোগদান করতে গেল জুমাবার বিকেলে মাইক্রোবাসযোগে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম রওনা দেন। তারা ওইদিন রাত ১০টার দিকে দেওয়ানহাট পৌছেন। পৌঁছামাত্র সকলে একটি রেস্টুরেন্টে চা খেতে বসেন। তার মধ্যে হানিফ জিহাদি রেস্টুরেন্টের সামনে পান খেতে বের হলে অাকস্মিক একটি মাইক্রোবাসযোগে চালকসহ ৯ জন অাসেন। এর মধ্যে চারজন গাড়িতে মুখোশধারি। অপর চারজন নেমে হানিফ জিহাদিকে ‘ভাই কেমন অাছেন। চিনতে পারেননি। কক্সবাজার যে দেখা হয়েছিল।’ এ জাতীয় কথা বলে গাড়িতে তুলে কাপড়ে তার মুখবন্ধ করে অগ্তাত স্থানে নিয়ে যান। এদিন সারা রাত তাকে শারিরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতন চালান।
হানিফ জিহাদি জানান, এসব মুখোশধারি ছিনতাইকারিরা অামার থেকে ১ম দফায় পনের লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করেন। তৎক্ষনাৎ পকেটে থাকা নয় হাজার টাকা নিয়ে ফেলেন। প্রতি জবাবে অামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ‘অামারতো টাকাপয়সা নাই’ জানালে তারা চরম ক্ষিপ্ত হন। পরে অামার মোবাইল থেকে অামার স্ত্রীকে ফোন করেন। পর্যায়ক্রমে তারা বিকাশ/রকেটের ৫টি নাম্বার থেকে কয়েক দফায় প্রায় দুই লাখ টাকা অাদায় করেন। এক পর্যায়ে নারী দিয়ে ছবি ও ভিডিও করে রেখে ওই নারীকে সরিয়ে দেন। নানা কৌশলে এরা অামাকে হোটেল, ফ্ল্যাট ও নির্জন জায়গায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পরের দিন দুপুরে ছেড়ে দেন।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর অামি মানষিক ভাবে ভেঙে পড়ি। এ অবস্থায় অসুস্থবোধ করলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেরে সহকর্মীদের সাথে কক্সবাজার ফিরে অাসি। মুখোশধারিদের চিনতে না পারলেও নিজের জীবন শংকা ও অাগামির চিন্তাধারায় অাইনি ভাবে কিছু করা যায় কিনা দেখছি। ইতিমধ্যে বিষয়টি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অবহিত করেছি।
হানিফ জিহাদি মনে করেন, বিষয়টি গভীর সুপরিকল্পিত। তা ছিনতাইকারিদের সামনে স্পষ্ট হয়েছে। অামার সামাজিক কর্মকান্ড ও উঠতি জনপ্রিয়তা এবং অাগামিবারে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচন করার প্রস্তুতিতে দিশেহারা হয়ে একটি প্রতিপক্ষ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। এরা গেল ইউপি নির্বাচনে অামার সাথে লড়েছিলেন।
হানিফ জিহাদির স্ত্রী প্রতিবেদককে জানান, নির্মম ঘটনা অাজ অামার স্বামীর বেলায় হয়েছে। অামরা শারিরীক, মানষিক ও অার্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অারেক দিন অারেকজনের বেলায় হবে। তা কি স্বাধীন দেশে ও সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায়!