দেশ ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সময়ের দাবি : শিবির সভাপতি

প্রকাশ: ২২ মে, ২০১৯ ৯:১৬ : পূর্বাহ্ন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন বলেছেন, পবিত্র রমযান মাস তাকওয়া অর্জনের পাশাপাশি দুঃশাসন ও ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড প্রতিহত করার মাস। এ মাসে মুসলমানদের প্রথম বিজয় অর্জিত হয়েছিল। দেশ ও ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।
ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বন্ধুপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সম্মানে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় মাহফিলে বক্তব্য রাখেন-ছাত্র জমিয়ত সভাপতি তোফায়েল গাজ্জালী, ছাত্র মজলিশ সেক্রেটারি মনসুরুল হক মনসুর, জাগপা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান রুবেল, জাতীয় ছাত্রসমাজ সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, ছাত্রকল্যাণ পার্টি সভাপতি শেখ এনামুল হাসান তানিম, জাতীয় ছাত্র সংসদ সেক্রেটারি, মুসলিম ছাত্রলীগ সভাপতি এ এম কে আসাদ, ছাত্রমিশনের যুগ্ম সম্পাদক শরিফুল ইসলাম।
নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম ছাত্রসংগঠনের আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ জরুরি ব্যস্ততার কারণে এ ইফতার মাহফিলে এসে উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আরো উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, দাওয়াহ সম্পাদক, শিক্ষা সম্পাদক, আইন সম্পাদক, বায়তুলমাল সম্পাদক প্রমূখ।
শিবির সভাপতি বলেন, দেশে নজিরবিহীন অপশাসন চলছে। সরকারী ফ্লাটে একটি বালিশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। এমনকি একটি বালিশ নিচ থেকে উপরে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। এমন ভয়াবহ দূর্নীতি শুধু বাংলাদেশ নয় বরং বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। অথচ আমাদের দেশের কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ পাকা ধানক্ষেতে আগুন দিচ্ছে। কৃষকদের ঠকাতে সরকার ভরা মওসুমেও হাজার হাজার টন চাল আমদানি করছে। কৃষকদের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে মানুষের জীবন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। একইসাথে পবিত্র রমযান মাসেই দাড়ি রাখা, টাকনুর নিচে কাপড় পড়াসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহকে জঙ্গিবাদের লক্ষণ বলে প্রচারণা চালাচ্ছে পীযূষ বন্দোপাধ্যায়রা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অরাজকতা অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগ। সম্প্রতি পাবনায় একজন সম্মানিত শিক্ষককে যেভাবে মারধর ও লাঞ্চিত করেছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা তাতে জাতি স্তম্ভিত। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা নিয়ে লজ্জাজনক মারামারি ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী কর্তৃক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার প্রমাণ দেয়া ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসকে আরেকবার কলঙ্কিত করেছে। সরকার ও তাদের পোষ্যদের সার্বিক অপশাসন ও অপকর্মের কারণে ইসলামপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক জনতা তাই আজ বিক্ষুব্ধ।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী সরকার অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতেই তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রেখেছে তা আজ প্রমাণিত। একইভাবে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃবৃন্দকে মামলা-গ্রেফতারের মাধ্যমে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে কুরআন শিক্ষা আসর থেকে ৪৮ জন পর্দানশীল নারীকে রোজা অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অবস্থায় ঐক্যবদ্ধ ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকেই জনগণকে সাথে নিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে। আমাদের আজকের এই মিলনমেলা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য আমাদের মিলিত শক্তি এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।