পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:৫০ : অপরাহ্ন

ঢাকা ব্যুরো।। এবারের জাতীয় নির্বাচন যে কোনো মূল্যে গ্রহণযোগ্য করা দরকার। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি করতে হবে। তা না হলে নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের অনাস্থা ও সন্দেহ তৈরি হবে। এখনও যে সময় বাকি আছে, কমিশন চাইলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেনের বিজ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ননেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘ভোটাররা কি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন?’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সিজিএসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

প্রবন্ধে বলা হয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত দলীয় অনুগত কর্মকর্তাদের বদলি না করলে তারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে।

বিএনপির পক্ষ থেকে ৯২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্টতার অভিযোগ দায়ের করলেও কাউকে বদলি করা হয়নি। উপরন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এক সভায় কাউকে বদলি না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ইসি।

তবে ব্যতিক্রম শুধু খুলনা ও নারায়ণগঞ্জের এসপি বদল। এ ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জে এর চেয়েও বিতর্কিত আরেকজন এসপিকে পদায়ন করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচারণের প্রতিফলন ঘটেছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকলে শুধু স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভোট স্বাধীনভাবে হলেও গণনা সঠিক না হলেও ফলাফল বদলে যেতে পারে। সে জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীন ও স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠান করতে আন্তরিক সরকার। সে লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে সরকার অযাচিত হস্তক্ষেপ না করে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়ে, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গেছেন, ‘গোয়ার হৃদয় অশিক্ষিত হৃদয়’। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মাঝে সেই চিত্রই লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ দেখে মনে হয় না, এ সরকারের অধীনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়া সম্ভব।

সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনা করলে সহজে অনুমান করা যায় যে, বর্তমান সরকার যে পুনরায় ক্ষমতায় আসছে, তা সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে। এখন নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, শুধু বিরোধী দল নির্ধারণ করতে। এ অবস্থার মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কী হবে তা বোধগম্য নয়।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য ২০-২৫ জন লোক দায়ী। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হলে দেশ সামনে এগোতে পারবে না। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিলেন। দেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ দেখে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প পথ খুঁজছেন।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক ও টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক সাহাব এনাম খান, জানিপপের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সিজিএসের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর প্রমুখ।