পেকুয়ায় বনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপকারভোগীরা

প্রকাশ: ৪ আগস্ট, ২০১৯ ৯:৩৩ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় বনবিভাগের সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করবে উপকারভোগীরা। অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন নিয়ে বনবিভাগ ও উপকারভোগীদের মধ্যে চুক্তিনামা সম্পাদন হয়েছে। বাগানের পরিচর্যা ও যৌথ অংশীদারিত্বে বনবিভাগ দলিল হস্তান্তর করে। এরই প্রেক্ষিতে উপকারভোগী নির্দিষ্টকরন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বনবিভাগ। জানা গেছে, চট্রগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীনে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জুম নামক সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২০০৬ সালে টইটং বনবিটের আওতায় ৮০ জন উপকারভোগী চুড়ান্তকরন করা হয়। প্রতিজন উপকারভোগীর অনুকুলে ১ হেক্টর জমি বরাদ্ধ দেয়। বনবিভাগ অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন করতে উপকারভোগী চুড়ান্ত করে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সংগ্রামের জুম নামক পাহাড়ে বাগান সৃজিত হয়েছে। ওই ৮০ জন উপকারভোগীদের নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। সুত্র জানায়, ১০ বছর মেয়াদকালীন সময়ের জন্য বনবিভাগ ১০ বছর সময় বেঁধে দেয়। সে সময় উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে দলিল বিনিময় হয়েছে। সুত্র জানায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের মেয়াদী সামাজিক বাগানের গাছ কর্তন হয়েছে। লভ্যাংশের অর্থ উপকারভোগী ও সরকারের কোষাগারে সমবন্টন হয়েছে। ওই অর্থবছরের বাগান নিলাম হয়েছে। বনবিভাগ দরপত্র আহবান করে। ৮০ হেক্টর বনায়নের গাছ বিক্রির লভ্যাংশের ৪৫% টাকা ৮০ জন উপকারভোগীর অনুকুলে চেক হস্তান্তর করেছেন বনবিভাগ। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারী বনবিভাগ চেক বিতরণের আনুষ্টানিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। ওই দিন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে চেক বিতরণ অনুষ্টান হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ প্রধান অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া বিভাগীয় বন সংরক্ষক ও বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই দিন উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ করেছেন। সুত্র জানায়, বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন ৩ টি বনবিটের আওতায় উপজেলার শিলখালী, বারবাকিয়া, টইটং সহ ৩ টি ইউনিয়নে বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বাগান সৃজিত হয়। বনবিভাগ ২০০৩ সাল থেকে সামাজিক বাগান প্রক্রিয়া গ্রহন করেছিল। ওই সময় থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় ছিল বনবিভাগ। সুত্র জানায়, অংশীদারিত্ব সৃজিত বাগানে সরকার লাভের মুখ দেখেননি। তবে ২০০৫ ও ২০০৬ অর্থবছরের সৃজিত বাগানে টইটং বনবিট যথেষ্ট সফল ছিল। সংগ্রামের জুমের উপকারভোগীদের ৮০ হেক্টর বাগান থেকে সরকারী কোষাগারে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৭২৮ টাকা মুনাফা পেয়েছে। উপকারভোগীদের কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় ওই বাগান থেকে এ অর্থ বনবিভাগ পেতে সক্ষম হয়েছে। এ দিকে অভিযোগ উঠে, দ্বিতীয় আবর্তের বাগান নিয়ে উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে সম্প্রতি সম্পর্কের টানাপোড়ন দেখা দিয়েছে। উপকারভোগীরা জানায়, বনবিভাগের প্রদত্ত দলিলের শর্তাবলীর ১ নং শর্তের আলোকে তারা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য একই স্থানে ২০১৭ সালে বাগান সৃজন করে। দলিলে উল্লেখ আছে প্রথম পক্ষের সন্তুষ্টি মুলে পালন করেন এমন সক্ষম উপকারভোগী দ্বিতীয় আবর্তে বাগান সৃজন করতে সক্ষম হন। এর প্রেক্ষিতে সংগ্রামের জুমে বনভূমির জমিতে ওই ৮০ জন উপকারভোগী ফের বাগান সৃজন করেছেন। চুক্তিনামায় উল্লেখ আছে সক্ষম উপকারভোগী আগামী ১০ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যাবে। সংগ্রামের জুমে ২০০৬ সালের সৃজিত বাগানের দলনেতা ও উপকারভোগীরা জানায়, তারা ওই স্থানে বাগান সৃজন করতে নার্সারী করেন। পরবর্তীতে এ সব চারা তারা রোপন করেন। বর্তমানে গাছের বয়স ২ বছর হয়েছে। তবে বনবিভাগ সম্প্রতি একটি চিঠি প্রেরণ করে। বনমন্ত্রনালয়ের উপসচিব প্রেরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে ১ জন উপকারভোগী অনুকুলে বরাদ্ধ ১ একর জমি। উপকারভোগীরা ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌছে। দলনেতা টিপু উপকারভোগী, নুরুল কবির, শফিউল আলম, মোহছেনা বেগম, ওসমান ফারুক, রেজাউল করিম, নজির আহমদ সহ আরও বেশ কয়েকজন জানায়, ওই চিঠি দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছি। বাগান সৃজন করে এর পরিচর্যা করছি। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কিছু কর্মকর্তার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। সংগ্রামের জুমের পাহাড় আমরা কাউকে বেহাত করতে দিচ্ছি না। টইটংয়ের পাহাড়ের অধিকাংশ ভূমি জবর দখলে গেছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। সরকারী এ সব সম্পত্তি বেহাত হওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে। আমরা রক্ষা করছি। আর তারা বিশেষ ব্যক্তিকে পাইয়া দিতে কাজ করছে। আমরা ইতিমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা ওই সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ না করলে দলিলের শর্তাবলীর কার্যকারিতা নিয়ে মহামান্য হ্ইাকোর্টে রুজু করা হবে রীট পিটিশন। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর ভূইয়া জানায়, সরকারের নীতিমালার আলোকে আমরা এ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ১ একরের পরিপত্র জারি হয়েছে।
পেকুয়ায় সংঘর্ষে মাদ্রাসা ছাত্রসহ আহত-৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া;
পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মারপিট ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। ৩ আগস্ট (শনিবার) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জুনাইদুল ইসলাম (১৫), আবদুল মোনাফের ছেলে শফিউল আলম (১৬), মোহাম্ম ইউনুছের ছেলে আনছার মিয়া (১৭), জসিম উদ্দিনের ছেলে আজম উদ্দিন (১৯) ও মাদ্রাসার শিক্ষক সুজাউর রহমান (৪০), আবুল শরীফের পুত্র আনোয়ার (১৭), ছগির আহমদের ছেলে আবদুল গফুর (৪৫), তার ভাই আবদুল মজিদ (৩৫) ও নছরত আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন রাত ১০ টার দিকে রাজাখালী সুন্দরীপাড়া গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সুত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। রেফারীর গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এ সময় ফুটবল ম্যাচ মাঠে পন্ড হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা ১০ম শ্রেনীর কয়েকজন ছাত্র ও অপেশাদার খেলোয়াড় আনোয়ারের মধ্যে আমিন বাজারে তর্কাতর্কি হয়। এর সুত্র ধরে উত্তেজিত কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রসহ বামুলারপাড়ার ৫/৬ জনের মুখোশপরিহিত যুবক সুন্দরীপাড়া গ্রামে যায়। এ সময় তারা বিপক্ষের খেলোয়াড় আনোয়ারকে রাস্তা থেকে তুলে মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে কয়েকশত নারী পুরুষসহ মাদ্রাসায় অভিমুখ হয়। এ সময় মাদ্রাসা ফটক উপচিয়ে তারা দ্বিতল ভবনে পৌছে। এ সময় ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল ও মারপিট হয়েছে। আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ জাহেদ হোছাইন জানায়, মাদ্রাসায় আক্রমন চালানো হয়েছে। ১০ম শ্রেনীর অনেক ছাত্র ও ১জন শিক্ষকও আহত হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে মাদ্রাসায়। আমরা থানায় এজাহার দিয়েছি। অপর আহত আনোয়ারের মা শারমিন আক্তার জানায়, আমার ছেলে কার্গো বোটে মাঝিমাল্লার কাজ করে। ছেলেদের মধ্যে খেলা হয়েছে। বামুলারপাড়া থেকে সন্ত্রাসী এনে আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে প্রাননাশ চেষ্টা চালায়। আমরা তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। মাদ্রাসা থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে আমার ২ দেবরকেও মারাত্মক জখম করে।
পেকুয়ায় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি না দেয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী। স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবাধ্য স্বামী ও তার পরকীয়া আসক্ত প্রেমিকাকে জড়িয়ে পেকুয়া থানায় এজাহার প্রেরণ করেছে ওই নারী। ৪ আগষ্ট রবিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহত মহিলার নাম রৌশন আক্তার (১৯)। তিনি উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীরপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে রৌশন আক্তার নুরীরপাড়া থেকে পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারে পৌছলে তাকে গতিরোধ করা হয়। এ সময় ওই নারীর স্বামী মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মৃত ইমাম শরীফের ছেলে নওশা মিয়াসহ ২ ব্যক্তি ব্যাপক মারধর করে। থানায় প্রেরিত এজাহারের আর্জিতে রৌশন আক্তার উল্লেখ করেছেন ২০০৭ সালে মুহাম্মদ ইলিয়াছ ও রৌশন আরার বিবাহ হয়েছে। এ দম্পতির সন্তান রয়েছে। স্বামী ইলিয়াছ সম্প্রতি পরকীয়ায় আসক্ত হয়েছে। নওশা মিয়ার মেয়ে মিনু আক্তার ও ইলিয়াছ পরকীয়ায় প্রেমিক প্রেমিকা। ওই নারীকে ইলিয়াছ দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পেতে মরিয়া। ওই দিন একটি সিএনজি যোগে মিনু আরা ও ইলিয়াছ বাড়ি ছেড়েছেন। সোনালী বাজারে এ ২ জনকে সিএনজিসহ স্থানীয়রা আটক করে। স্ত্রী রৌশন আরা ওই স্থানে এসে এ পরিস্থিতি দেখতে পান। এ সময় স্বামী ইলিয়াছ দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। দ্বিতীয় বিয়ের সম্মতিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ইলিয়াছ ও মিনু আরার পিতা নওশা মিয়া এ গৃহবধূকে কিল,ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। রৌশন আরা জানায়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য অনেকবার নির্যাতন করে। একবার ৫০ হাজার টাকা পিতার বাড়ি থেকে স্বামীকে দিয়েছি। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিজানুর রহমান এজাহার পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রেরক
রিয়াজ উদ্দিন
পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি
০১৮১৪৯৪৩৮০৪/০১৮২৮৬৬২৫৩৩
তারিখ: ০৪-০৮-১৯

পেকুয়ায় বনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপকারভোগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় বনবিভাগের সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করবে উপকারভোগীরা। অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন নিয়ে বনবিভাগ ও উপকারভোগীদের মধ্যে চুক্তিনামা সম্পাদন হয়েছে। বাগানের পরিচর্যা ও যৌথ অংশীদারিত্বে বনবিভাগ দলিল হস্তান্তর করে। এরই প্রেক্ষিতে উপকারভোগী নির্দিষ্টকরন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বনবিভাগ। জানা গেছে, চট্রগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীনে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জুম নামক সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২০০৬ সালে টইটং বনবিটের আওতায় ৮০ জন উপকারভোগী চুড়ান্তকরন করা হয়। প্রতিজন উপকারভোগীর অনুকুলে ১ হেক্টর জমি বরাদ্ধ দেয়। বনবিভাগ অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন করতে উপকারভোগী চুড়ান্ত করে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সংগ্রামের জুম নামক পাহাড়ে বাগান সৃজিত হয়েছে। ওই ৮০ জন উপকারভোগীদের নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। সুত্র জানায়, ১০ বছর মেয়াদকালীন সময়ের জন্য বনবিভাগ ১০ বছর সময় বেঁধে দেয়। সে সময় উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে দলিল বিনিময় হয়েছে। সুত্র জানায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের মেয়াদী সামাজিক বাগানের গাছ কর্তন হয়েছে। লভ্যাংশের অর্থ উপকারভোগী ও সরকারের কোষাগারে সমবন্টন হয়েছে। ওই অর্থবছরের বাগান নিলাম হয়েছে। বনবিভাগ দরপত্র আহবান করে। ৮০ হেক্টর বনায়নের গাছ বিক্রির লভ্যাংশের ৪৫% টাকা ৮০ জন উপকারভোগীর অনুকুলে চেক হস্তান্তর করেছেন বনবিভাগ। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারী বনবিভাগ চেক বিতরণের আনুষ্টানিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। ওই দিন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে চেক বিতরণ অনুষ্টান হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ প্রধান অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া বিভাগীয় বন সংরক্ষক ও বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই দিন উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ করেছেন। সুত্র জানায়, বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন ৩ টি বনবিটের আওতায় উপজেলার শিলখালী, বারবাকিয়া, টইটং সহ ৩ টি ইউনিয়নে বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বাগান সৃজিত হয়। বনবিভাগ ২০০৩ সাল থেকে সামাজিক বাগান প্রক্রিয়া গ্রহন করেছিল। ওই সময় থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় ছিল বনবিভাগ। সুত্র জানায়, অংশীদারিত্ব সৃজিত বাগানে সরকার লাভের মুখ দেখেননি। তবে ২০০৫ ও ২০০৬ অর্থবছরের সৃজিত বাগানে টইটং বনবিট যথেষ্ট সফল ছিল। সংগ্রামের জুমের উপকারভোগীদের ৮০ হেক্টর বাগান থেকে সরকারী কোষাগারে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৭২৮ টাকা মুনাফা পেয়েছে। উপকারভোগীদের কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় ওই বাগান থেকে এ অর্থ বনবিভাগ পেতে সক্ষম হয়েছে। এ দিকে অভিযোগ উঠে, দ্বিতীয় আবর্তের বাগান নিয়ে উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে সম্প্রতি সম্পর্কের টানাপোড়ন দেখা দিয়েছে। উপকারভোগীরা জানায়, বনবিভাগের প্রদত্ত দলিলের শর্তাবলীর ১ নং শর্তের আলোকে তারা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য একই স্থানে ২০১৭ সালে বাগান সৃজন করে। দলিলে উল্লেখ আছে প্রথম পক্ষের সন্তুষ্টি মুলে পালন করেন এমন সক্ষম উপকারভোগী দ্বিতীয় আবর্তে বাগান সৃজন করতে সক্ষম হন। এর প্রেক্ষিতে সংগ্রামের জুমে বনভূমির জমিতে ওই ৮০ জন উপকারভোগী ফের বাগান সৃজন করেছেন। চুক্তিনামায় উল্লেখ আছে সক্ষম উপকারভোগী আগামী ১০ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যাবে। সংগ্রামের জুমে ২০০৬ সালের সৃজিত বাগানের দলনেতা ও উপকারভোগীরা জানায়, তারা ওই স্থানে বাগান সৃজন করতে নার্সারী করেন। পরবর্তীতে এ সব চারা তারা রোপন করেন। বর্তমানে গাছের বয়স ২ বছর হয়েছে। তবে বনবিভাগ সম্প্রতি একটি চিঠি প্রেরণ করে। বনমন্ত্রনালয়ের উপসচিব প্রেরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে ১ জন উপকারভোগী অনুকুলে বরাদ্ধ ১ একর জমি। উপকারভোগীরা ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌছে। দলনেতা টিপু উপকারভোগী, নুরুল কবির, শফিউল আলম, মোহছেনা বেগম, ওসমান ফারুক, রেজাউল করিম, নজির আহমদ সহ আরও বেশ কয়েকজন জানায়, ওই চিঠি দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছি। বাগান সৃজন করে এর পরিচর্যা করছি। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কিছু কর্মকর্তার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। সংগ্রামের জুমের পাহাড় আমরা কাউকে বেহাত করতে দিচ্ছি না। টইটংয়ের পাহাড়ের অধিকাংশ ভূমি জবর দখলে গেছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। সরকারী এ সব সম্পত্তি বেহাত হওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে। আমরা রক্ষা করছি। আর তারা বিশেষ ব্যক্তিকে পাইয়া দিতে কাজ করছে। আমরা ইতিমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা ওই সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ না করলে দলিলের শর্তাবলীর কার্যকারিতা নিয়ে মহামান্য হ্ইাকোর্টে রুজু করা হবে রীট পিটিশন। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর ভূইয়া জানায়, সরকারের নীতিমালার আলোকে আমরা এ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ১ একরের পরিপত্র জারি হয়েছে।
পেকুয়ায় সংঘর্ষে মাদ্রাসা ছাত্রসহ আহত-৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া;
পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মারপিট ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। ৩ আগস্ট (শনিবার) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জুনাইদুল ইসলাম (১৫), আবদুল মোনাফের ছেলে শফিউল আলম (১৬), মোহাম্ম ইউনুছের ছেলে আনছার মিয়া (১৭), জসিম উদ্দিনের ছেলে আজম উদ্দিন (১৯) ও মাদ্রাসার শিক্ষক সুজাউর রহমান (৪০), আবুল শরীফের পুত্র আনোয়ার (১৭), ছগির আহমদের ছেলে আবদুল গফুর (৪৫), তার ভাই আবদুল মজিদ (৩৫) ও নছরত আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন রাত ১০ টার দিকে রাজাখালী সুন্দরীপাড়া গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সুত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। রেফারীর গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এ সময় ফুটবল ম্যাচ মাঠে পন্ড হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা ১০ম শ্রেনীর কয়েকজন ছাত্র ও অপেশাদার খেলোয়াড় আনোয়ারের মধ্যে আমিন বাজারে তর্কাতর্কি হয়। এর সুত্র ধরে উত্তেজিত কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রসহ বামুলারপাড়ার ৫/৬ জনের মুখোশপরিহিত যুবক সুন্দরীপাড়া গ্রামে যায়। এ সময় তারা বিপক্ষের খেলোয়াড় আনোয়ারকে রাস্তা থেকে তুলে মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে কয়েকশত নারী পুরুষসহ মাদ্রাসায় অভিমুখ হয়। এ সময় মাদ্রাসা ফটক উপচিয়ে তারা দ্বিতল ভবনে পৌছে। এ সময় ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল ও মারপিট হয়েছে। আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ জাহেদ হোছাইন জানায়, মাদ্রাসায় আক্রমন চালানো হয়েছে। ১০ম শ্রেনীর অনেক ছাত্র ও ১জন শিক্ষকও আহত হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে মাদ্রাসায়। আমরা থানায় এজাহার দিয়েছি। অপর আহত আনোয়ারের মা শারমিন আক্তার জানায়, আমার ছেলে কার্গো বোটে মাঝিমাল্লার কাজ করে। ছেলেদের মধ্যে খেলা হয়েছে। বামুলারপাড়া থেকে সন্ত্রাসী এনে আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে প্রাননাশ চেষ্টা চালায়। আমরা তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। মাদ্রাসা থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে আমার ২ দেবরকেও মারাত্মক জখম করে।
পেকুয়ায় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি না দেয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী। স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবাধ্য স্বামী ও তার পরকীয়া আসক্ত প্রেমিকাকে জড়িয়ে পেকুয়া থানায় এজাহার প্রেরণ করেছে ওই নারী। ৪ আগষ্ট রবিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহত মহিলার নাম রৌশন আক্তার (১৯)। তিনি উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীরপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে রৌশন আক্তার নুরীরপাড়া থেকে পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারে পৌছলে তাকে গতিরোধ করা হয়। এ সময় ওই নারীর স্বামী মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মৃত ইমাম শরীফের ছেলে নওশা মিয়াসহ ২ ব্যক্তি ব্যাপক মারধর করে। থানায় প্রেরিত এজাহারের আর্জিতে রৌশন আক্তার উল্লেখ করেছেন ২০০৭ সালে মুহাম্মদ ইলিয়াছ ও রৌশন আরার বিবাহ হয়েছে। এ দম্পতির সন্তান রয়েছে। স্বামী ইলিয়াছ সম্প্রতি পরকীয়ায় আসক্ত হয়েছে। নওশা মিয়ার মেয়ে মিনু আক্তার ও ইলিয়াছ পরকীয়ায় প্রেমিক প্রেমিকা। ওই নারীকে ইলিয়াছ দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পেতে মরিয়া। ওই দিন একটি সিএনজি যোগে মিনু আরা ও ইলিয়াছ বাড়ি ছেড়েছেন। সোনালী বাজারে এ ২ জনকে সিএনজিসহ স্থানীয়রা আটক করে। স্ত্রী রৌশন আরা ওই স্থানে এসে এ পরিস্থিতি দেখতে পান। এ সময় স্বামী ইলিয়াছ দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। দ্বিতীয় বিয়ের সম্মতিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ইলিয়াছ ও মিনু আরার পিতা নওশা মিয়া এ গৃহবধূকে কিল,ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। রৌশন আরা জানায়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য অনেকবার নির্যাতন করে। একবার ৫০ হাজার টাকা পিতার বাড়ি থেকে স্বামীকে দিয়েছি। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিজানুর রহমান এজাহার পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রেরক
রিয়াজ উদ্দিন
পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি
০১৮১৪৯৪৩৮০৪/০১৮২৮৬৬২৫৩৩
তারিখ: ০৪-০৮-১৯

পেকুয়ায় বনবিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ উপকারভোগীর
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় বনবিভাগের সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রীট করবে উপকারভোগীরা। অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন নিয়ে বনবিভাগ ও উপকারভোগীদের মধ্যে চুক্তিনামা সম্পাদন হয়েছে। বাগানের পরিচর্যা ও যৌথ অংশীদারিত্বে বনবিভাগ দলিল হস্তান্তর করে। এরই প্রেক্ষিতে উপকারভোগী নির্দিষ্টকরন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল বনবিভাগ। জানা গেছে, চট্রগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীনে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জুম নামক সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ২০০৬ সালে টইটং বনবিটের আওতায় ৮০ জন উপকারভোগী চুড়ান্তকরন করা হয়। প্রতিজন উপকারভোগীর অনুকুলে ১ হেক্টর জমি বরাদ্ধ দেয়। বনবিভাগ অংশীদারিত্ব বাগান সৃজন করতে উপকারভোগী চুড়ান্ত করে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সংগ্রামের জুম নামক পাহাড়ে বাগান সৃজিত হয়েছে। ওই ৮০ জন উপকারভোগীদের নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠিত হয়। সুত্র জানায়, ১০ বছর মেয়াদকালীন সময়ের জন্য বনবিভাগ ১০ বছর সময় বেঁধে দেয়। সে সময় উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে দলিল বিনিময় হয়েছে। সুত্র জানায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরের মেয়াদী সামাজিক বাগানের গাছ কর্তন হয়েছে। লভ্যাংশের অর্থ উপকারভোগী ও সরকারের কোষাগারে সমবন্টন হয়েছে। ওই অর্থবছরের বাগান নিলাম হয়েছে। বনবিভাগ দরপত্র আহবান করে। ৮০ হেক্টর বনায়নের গাছ বিক্রির লভ্যাংশের ৪৫% টাকা ৮০ জন উপকারভোগীর অনুকুলে চেক হস্তান্তর করেছেন বনবিভাগ। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারী বনবিভাগ চেক বিতরণের আনুষ্টানিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। ওই দিন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে চেক বিতরণ অনুষ্টান হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ প্রধান অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া বিভাগীয় বন সংরক্ষক ও বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ওই দিন উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ করেছেন। সুত্র জানায়, বারবাকিয়া রেঞ্জের অধীন ৩ টি বনবিটের আওতায় উপজেলার শিলখালী, বারবাকিয়া, টইটং সহ ৩ টি ইউনিয়নে বনবিভাগের জমিতে সামাজিক বাগান সৃজিত হয়। বনবিভাগ ২০০৩ সাল থেকে সামাজিক বাগান প্রক্রিয়া গ্রহন করেছিল। ওই সময় থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ায় ছিল বনবিভাগ। সুত্র জানায়, অংশীদারিত্ব সৃজিত বাগানে সরকার লাভের মুখ দেখেননি। তবে ২০০৫ ও ২০০৬ অর্থবছরের সৃজিত বাগানে টইটং বনবিট যথেষ্ট সফল ছিল। সংগ্রামের জুমের উপকারভোগীদের ৮০ হেক্টর বাগান থেকে সরকারী কোষাগারে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪২ হাজার ৭২৮ টাকা মুনাফা পেয়েছে। উপকারভোগীদের কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যায় ওই বাগান থেকে এ অর্থ বনবিভাগ পেতে সক্ষম হয়েছে। এ দিকে অভিযোগ উঠে, দ্বিতীয় আবর্তের বাগান নিয়ে উপকারভোগী ও বনবিভাগের মধ্যে সম্প্রতি সম্পর্কের টানাপোড়ন দেখা দিয়েছে। উপকারভোগীরা জানায়, বনবিভাগের প্রদত্ত দলিলের শর্তাবলীর ১ নং শর্তের আলোকে তারা দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য একই স্থানে ২০১৭ সালে বাগান সৃজন করে। দলিলে উল্লেখ আছে প্রথম পক্ষের সন্তুষ্টি মুলে পালন করেন এমন সক্ষম উপকারভোগী দ্বিতীয় আবর্তে বাগান সৃজন করতে সক্ষম হন। এর প্রেক্ষিতে সংগ্রামের জুমে বনভূমির জমিতে ওই ৮০ জন উপকারভোগী ফের বাগান সৃজন করেছেন। চুক্তিনামায় উল্লেখ আছে সক্ষম উপকারভোগী আগামী ১০ বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যাবে। সংগ্রামের জুমে ২০০৬ সালের সৃজিত বাগানের দলনেতা ও উপকারভোগীরা জানায়, তারা ওই স্থানে বাগান সৃজন করতে নার্সারী করেন। পরবর্তীতে এ সব চারা তারা রোপন করেন। বর্তমানে গাছের বয়স ২ বছর হয়েছে। তবে বনবিভাগ সম্প্রতি একটি চিঠি প্রেরণ করে। বনমন্ত্রনালয়ের উপসচিব প্রেরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে ১ জন উপকারভোগী অনুকুলে বরাদ্ধ ১ একর জমি। উপকারভোগীরা ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌছে। দলনেতা টিপু উপকারভোগী, নুরুল কবির, শফিউল আলম, মোহছেনা বেগম, ওসমান ফারুক, রেজাউল করিম, নজির আহমদ সহ আরও বেশ কয়েকজন জানায়, ওই চিঠি দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছি। বাগান সৃজন করে এর পরিচর্যা করছি। রেঞ্জ কর্মকর্তা ও বনবিভাগের কিছু কর্মকর্তার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। সংগ্রামের জুমের পাহাড় আমরা কাউকে বেহাত করতে দিচ্ছি না। টইটংয়ের পাহাড়ের অধিকাংশ ভূমি জবর দখলে গেছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। সরকারী এ সব সম্পত্তি বেহাত হওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে। আমরা রক্ষা করছি। আর তারা বিশেষ ব্যক্তিকে পাইয়া দিতে কাজ করছে। আমরা ইতিমধ্যে ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারা ওই সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ না করলে দলিলের শর্তাবলীর কার্যকারিতা নিয়ে মহামান্য হ্ইাকোর্টে রুজু করা হবে রীট পিটিশন। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর ভূইয়া জানায়, সরকারের নীতিমালার আলোকে আমরা এ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ১ একরের পরিপত্র জারি হয়েছে।
পেকুয়ায় সংঘর্ষে মাদ্রাসা ছাত্রসহ আহত-৯
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া;
পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মাদ্রাসা ছাত্রসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেছে। খবর পেয়ে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মারপিট ঠেকাতে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। ৩ আগস্ট (শনিবার) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ওই এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জুনাইদুল ইসলাম (১৫), আবদুল মোনাফের ছেলে শফিউল আলম (১৬), মোহাম্ম ইউনুছের ছেলে আনছার মিয়া (১৭), জসিম উদ্দিনের ছেলে আজম উদ্দিন (১৯) ও মাদ্রাসার শিক্ষক সুজাউর রহমান (৪০), আবুল শরীফের পুত্র আনোয়ার (১৭), ছগির আহমদের ছেলে আবদুল গফুর (৪৫), তার ভাই আবদুল মজিদ (৩৫) ও নছরত আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (১৮)। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন রাত ১০ টার দিকে রাজাখালী সুন্দরীপাড়া গ্রামে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সুত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। মাদ্রাসা ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ হয়েছে। রেফারীর গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়। এ সময় ফুটবল ম্যাচ মাঠে পন্ড হয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসা ১০ম শ্রেনীর কয়েকজন ছাত্র ও অপেশাদার খেলোয়াড় আনোয়ারের মধ্যে আমিন বাজারে তর্কাতর্কি হয়। এর সুত্র ধরে উত্তেজিত কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রসহ বামুলারপাড়ার ৫/৬ জনের মুখোশপরিহিত যুবক সুন্দরীপাড়া গ্রামে যায়। এ সময় তারা বিপক্ষের খেলোয়াড় আনোয়ারকে রাস্তা থেকে তুলে মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে কয়েকশত নারী পুরুষসহ মাদ্রাসায় অভিমুখ হয়। এ সময় মাদ্রাসা ফটক উপচিয়ে তারা দ্বিতল ভবনে পৌছে। এ সময় ছাত্র ও গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল ও মারপিট হয়েছে। আজগরিয়া মেহেরুল উলুম মাদ্রাসার সুপার মুহাম্মদ জাহেদ হোছাইন জানায়, মাদ্রাসায় আক্রমন চালানো হয়েছে। ১০ম শ্রেনীর অনেক ছাত্র ও ১জন শিক্ষকও আহত হয়েছে। ভাংচুর হয়েছে মাদ্রাসায়। আমরা থানায় এজাহার দিয়েছি। অপর আহত আনোয়ারের মা শারমিন আক্তার জানায়, আমার ছেলে কার্গো বোটে মাঝিমাল্লার কাজ করে। ছেলেদের মধ্যে খেলা হয়েছে। বামুলারপাড়া থেকে সন্ত্রাসী এনে আমার ছেলেকে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে আটকিয়ে প্রাননাশ চেষ্টা চালায়। আমরা তাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম। মাদ্রাসা থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে আমার ২ দেবরকেও মারাত্মক জখম করে।
পেকুয়ায় বিয়েতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী
নিজস্ব প্রতিবেদক,পেকুয়া:
পেকুয়ায় দ্বিতীয় বিয়েতে অনুমতি না দেয়ায় স্ত্রীকে পেটাল স্বামী। স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবাধ্য স্বামী ও তার পরকীয়া আসক্ত প্রেমিকাকে জড়িয়ে পেকুয়া থানায় এজাহার প্রেরণ করেছে ওই নারী। ৪ আগষ্ট রবিবার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহত মহিলার নাম রৌশন আক্তার (১৯)। তিনি উজানটিয়া ইউনিয়নের নুরীরপাড়া গ্রামের মুহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই দিন সকাল ১০ টার দিকে রৌশন আক্তার নুরীরপাড়া থেকে পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারে পৌছলে তাকে গতিরোধ করা হয়। এ সময় ওই নারীর স্বামী মুহাম্মদ ইলিয়াছ, মৃত ইমাম শরীফের ছেলে নওশা মিয়াসহ ২ ব্যক্তি ব্যাপক মারধর করে। থানায় প্রেরিত এজাহারের আর্জিতে রৌশন আক্তার উল্লেখ করেছেন ২০০৭ সালে মুহাম্মদ ইলিয়াছ ও রৌশন আরার বিবাহ হয়েছে। এ দম্পতির সন্তান রয়েছে। স্বামী ইলিয়াছ সম্প্রতি পরকীয়ায় আসক্ত হয়েছে। নওশা মিয়ার মেয়ে মিনু আক্তার ও ইলিয়াছ পরকীয়ায় প্রেমিক প্রেমিকা। ওই নারীকে ইলিয়াছ দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পেতে মরিয়া। ওই দিন একটি সিএনজি যোগে মিনু আরা ও ইলিয়াছ বাড়ি ছেড়েছেন। সোনালী বাজারে এ ২ জনকে সিএনজিসহ স্থানীয়রা আটক করে। স্ত্রী রৌশন আরা ওই স্থানে এসে এ পরিস্থিতি দেখতে পান। এ সময় স্বামী ইলিয়াছ দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। দ্বিতীয় বিয়ের সম্মতিতে রাজি না হওয়ায় স্বামী ইলিয়াছ ও মিনু আরার পিতা নওশা মিয়া এ গৃহবধূকে কিল,ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। রৌশন আরা জানায়, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য অনেকবার নির্যাতন করে। একবার ৫০ হাজার টাকা পিতার বাড়ি থেকে স্বামীকে দিয়েছি। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মিজানুর রহমান এজাহার পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন