পোকখালীর র‌্যাবের বিরুদ্ধে লবণ চাষীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ২ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:৩০ : অপরাহ্ন

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি।।

“সমন্বিত মৎস্য চাষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নি¤œ তপশীলভূক্ত পোকখালী মৌজার ফকিরাঘোনা, মসজিদের  ডিয়া, কাদের ডিয়া এবং ফজলের ডিয়া নামক  ১০ একর মৎস্য ঘের ও লবণমাঠ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণ ভোগ দখল করে আসছি। লীজ নেওয়া জমিতে বর্তমানে পোকখালী ইউনিয়ের পূর্ব পোকখালী ও গোমাতলী এলাকার বেশ ক’জন লবণ চাষী লবণ উৎপাদন করে চলেছে। সদাশয় সরকার লবণ চাষীদের মূল্য নিশ্চিত করায় চাষীরা চড়া মূল্য পাচ্ছে। এতে কু-দৃষ্টি পড়ে এলাকার একটি সন্ত্রাসী চক্রের। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মার্চ চক্রটি নিরীহ লবণ চাষীদের লবণ লুট ও লীজ নেয়া জমি জবর দখল করে নেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম টেকপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র আমান উল্লাহ’র নের্তৃত্বে একই ঠিকানাধীন আবদুর রহমান মিস্ত্রীর পুত্র কালের আবদুল হাকিমের পুত্র মাহমুদুল হক, পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলী গ্রামের ছৈয়দ নুরের পুত্র মুবিন, এরশাদ আলীর মোক্তার আবছার, আয়াসের পুত্র ছলিম, ওমর হাকিমের পুত্র আয়াস, ছৈয়দ নুরের পুত্র মোজাম্মেল ও শাহজাহান, মোজাহেরের পুত্র জাফর, মৃত গোরা মিয়ার পুত্র মৌলভী ট্রাফিক এবং মৃত আবদুল খালেকের পুত্র ওহিদ আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন লীজকৃত জমিতে কাজ করাকালীন উল্লেখিত সন্ত্রাসী বন্দুক, দা, লাঠি, খন্তা, কিরিচ ইত্যাদিসব মারাতœক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শামশুল আলমসহ ৮ জন লবণ চাষীকে মারাতœক আহত করে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জাা লড়ছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে  আহত শামশুল আলম বাদী  হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা রজু করলে সন্ত্রাসীরা আইন-শৃংখলা বাহিনীকে মিথ্যে তথ্য দিয়ে সাজানো নাটকের মাধ্যমে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে  মসজিদের দিয়ার মসজিদ পুকুরে (ডুলাফকিরের মসজিদের পুকুরে) গুলিসহ ৪টি অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম পুকুরে ফেলে রেখে  গতকাল ২ এপ্রিল রোববার ভোররাতে পোকখালী ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের মোঃ ইউনুচের পুত্র নিরীহ লবণ চাষী ও আমার নিরপরাধ স্বামী নুরুল হককে র‌্যাব ৭ দিয়ে আটক করায়। পরে নাটকের শেষ অংশে সন্ত্রাসী কর্তৃক ডুলাফকির মসজিদের  পুকুরে আগে থেকে ফেলে রাখা অস্ত্রগুলো  তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার করা হয়েছে মর্মে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, কথিত অস্ত্রগুলো উক্ত সন্ত্রাসীরাই ওই পুকুর থেকে হাত জালের মাধ্যমে উদ্ধার করে র‌্যাবের হাতে দেয়। যা ওই এলাকার জনগণ নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে। বর্তমানে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে পুরো এলাকার লোকজনকে ভীত সন্ত্রস্ত্র করে রেখেছে। জমি জবর দখল ও গরীব চাষীদের উৎপাদিত লবণ লুটপাট করার জন্য সন্ত্রাসীরা গোমাতলী ঘাটে ট্রলার এনে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। যেকোন সময় সন্ত্রাসীরা আবারও  লুটপাটসহ খুনখাবাবীর মত ঘটনা ঘটাতে পারে। আমার স্বামীর নিকট থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কোন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। আমার স্বামী যড়যন্ত্রের শিকার।

Screenshot_2017-04-02-19-47-15

প্রশাসনের নিকট আমার আকুল আবেদন পুরো ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসকল পাতানো যড়যন্ত্র থেকে পোকখালী এলাকার গরীব লবণ চাষীদের রক্ষা করুন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার পূর্বক সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি যাতে ক্ষুন্ন না হয় সেভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি। গতকাল ২ এপ্রিল রোবববার  সন্ধ্যায় ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে আটক নুরুল হকের স্ত্রী তফুরা বেগম এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।