বহু সমস্যায় জর্জরিত এ বাজার……..

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:৪১ : পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও:

জেলা সদরের ব্যস্তবহুল বৃহৎ বাণিজ্যিক উপ শহর ঈদগাঁও বাজার নানামুখী সংকটের আবর্তে ঘোরপাক খাচ্ছে । অব্যবস্থাপনায় চলছে দৈনন্দিন ব্যবসায়ীক লেনদেনসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নগর সভ্যতার ধারাবাহিকতায় কালক্রমে ঈদগাহ্ বাজার পরিণত হয়েছে বৃহত্তর ঈদগাঁও ও পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ, জালালাবাদ, পোকখালী, ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী, রশিদনগর, ভারুয়াখালী, খুটাখালী, ঈদগড়, বাইশারীসহ জেলার সুপরিচিত একটি বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ঈদগাও এবং তৎসংশ্লিষ্ট এলাকার ৫/৬ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ব্যবসা নগর। কাল পরিক্রমায় এদিকে যেমন বেড়েছে এই বাজারের ব্যাপ্তি ও ব্যাপকতা, তেমনি অন্যদিকে বেড়েছে গণমানুষের বাজারকেন্দ্রিক নির্ভরতা ও সম্ভাবনা। ব্যাপ্তি ব্যাপকতার মোড়কে এর সম্ভাবনা বাড়লেও বাড়েনি ঈদগাও বাজারমুখী কর্মকান্ডের প্রশাসনিক অবকাঠামো কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা। প্রশাসনিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দুর্বলতা এবং যথাযথ নজরদারির অভাবে বাজারের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাজার কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বলতে গেলে টেকসই হচ্ছে না। জানা যায়, ৪ বর্গ কিঃ মিঃ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ঈদগাও বাজার ও পার্শ্ববর্তী আরো ৬টি ইউনিয়ন ঈদগাওকে উপজেলা কিংবা পৌরসভা বাস্তবায়নের দাবীতে সোচ্চার হলেও কোনরূপ আশার আলো দেখতে পাচ্ছেনা। সড়ক ও জলপথের সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ঘনবসতিপূর্ণ জনাধ্যুষিত বৃহত্তর ঈদগাঁও একটি সম্ভাবনাময়ী এলাকা। উর্বর ফসলী জমি, খেত-খামারের বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা লবণ শিল্প, চিংড়ি শিল্প, পোলট্রি শিল্প, আসবাবপত্র ও কাঠ শিল্প, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পসহ লক্ষাধিক প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ঈদগাও বাজারকে আধুনিক বাজার বা পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার যোগ্যতা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দেশের বিদ্যমান বহু পৌর এলাকাও অবকাঠামো, সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধা ও জনসংখ্যার বিচারে ঈদগাওর চেয়ে যোজন যোজন পশ্চাৎপদ। সম্রাট শাহ্ সূজার স্মৃতিধন্য ঈদগাও জনপথ একসময় পার্শ্ববর্তী ছয়  ইউনিয়নের একক প্রশাসনিক ইউপি হিসাবে গোড়াপত্তন হয়। জনসংখ্যার আধিক্য এবং বিস্তৃত এলাকা হওয়ায় জনসাধারণের সুবিধার্থে ঈদগাও ভেঙ্গে পূর্বেকার আমলে চৌফলদন্ডী ও পোকখালী নামে দুইটি ইউনিয়ন পৃথকভাবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ঈদগাও তিনভাগে ভাগ হয়ে জালালাবাদ, ইসলামাবাদ নামে আরও ২টি নতুন ইউনিয়নের জন্ম হলেও সমস্ত ব্যবসায়ী কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দু ঈদগাও বাজারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাজার এলাকার পরিধিও। কিন্তু সে অনুপাতে বাজার এলাকা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। এমনকি বাজারের যাতায়াতের প্রধান ডিসি সড়ক জুড়ে কাঁচা তরকারি ব্যবসা , যাতে করে সাধারণ লোকজন ও যানবাহন চলাচলে দারুণ দূর্ভোগে পড়েছে। এসব যেন দেখার কেউ নেই। নেই পাবলিক টয়লেট ও গণশৌচাগার। দূর-দূরান্ত থেকে বাজারে আসা নারী-পুরুষরা শৌচাগার ও টয়লেট না থাকায় বিপাকে পড়ছে প্রতিনিয়ত। এছাড়াও এ বাজারের যত্রতত্র স্থানে হকার স্টাইলে ফুটপাত। যেন বাজার পরিচালনার বর্তমান আহবায়ক কমিটি নিরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলে পথচারীদের অভিযোগ। আরো জানা যায়, ঈদগাঁও বাজার এলাকা ঈদগাও ডিসি রোডকে কেন্দ্র করে দু’ভাগে বিভক্ত। এই ঈদগাও বাজার উন্নয়ন বঞ্চিত। এ বিষয়ে ঈদগাঁও বাজারের বেশ কজন সচেতন লোকজনের মতে- বাজারের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা এবং বিশৃঙ্খল অবস্থার জন্য দায়ী বাজারের বর্তমান কমিটি। অন্যদিকে শক্ত হাতে বাজারের উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে হলে সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন । তাই অবিলম্বে বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের নিবার্চন দিয়ে নিবার্চিত কমিটির নেতৃত্বে উন্নয়ন কাজে অগ্রসর হওয়া এখন সময়ের দাবী। তবে একাধিক পথচারী এ প্রতিনিধিকে জানান, গুরুত্ববহ বানিজ্যিক নগরী ঈদগাঁও বাজারে যত্রতত্র স্থানে ঝানজট, যানবাহন রাখার নেই নিদিষ্ট জায়গা, বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশনের সু ব্যবস্হা না থাকায় প্রতি বছর বাজার এলাকা হাটু পরিমান পানিতে সয়লাভ থাকে, মাছ বাজার শেডে অপরিচ্ছন্নতায় ভরপুর, যানবাহন ভাড়া তালিকা নির্ধানর সহ  বাজারের অভ্যান্তরিন এলাকায় শৃংখলা ও সুন্দর ব্যবস্হাপনা চোখে পড়ছেনা। থাকলে ও নিয়ম আবার অনিয়মে পরিনত করে তুলছে এক শ্রেনীর মানুষ। তবে কয়েক ব্যবসায়ীর মতে, দ্রুত সময়ে ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন দিয়ে বাজার কেন্দ্রীক নানামুখী সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা অতীব জরুরী। অন্যদিকে এ বৃহৎ বাজারের নির্বাচন কবে হবে? এমন প্রশ্নে ঘোরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলের মাঝে। নির্বাচনের বিষয়ে বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়কের মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।।