ভিকারুননিসার ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২:৫০ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি আদালত।। বাবাকে অপমান করাটা সহ্য করতে পরেনি ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারী। এজন্য বেছে নেন আত্মহত্যার পথ। এমনটাই জানান বাবা দিলীপ অধিকারী। অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যা করেন গতকাল। আত্মহত্যার কারণ খুঁজতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর) ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মো. ইউসুফ। মাউশির ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক শাথাওয়াত হোসেন ও ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বেনজীর আহমেদ।

আজ সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ একথা জানান। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আবার, তিন সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করেছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষও। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস। তিনি বলেন, শিক্ষক আতাউর রহমান, খুরশিদ জাহান, ফেরদৌসী বেগমকে নিয়ে তিন সদস্য্যের কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অরিত্রির আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে গতকাল তার বাবা দিলীপ অধিকারী বলেন, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। সোমবার স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের সামনে আমাকে অনেক অপমান করে। এই অপমান এবং পরীক্ষা আর দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি।