মিনায় অবস্থান করছেন হজযাত্রীরা, শনিবার পবিত্র হজ

প্রকাশ: ৯ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৩২ : অপরাহ্ন

ঢাকা: পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। হাজিরা পৌঁছেছেন মিনায়। এখন তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। পবিত্র মসজিদুল হারাম (কাবা শরিফ) থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের মিনা এখন যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, শুধু তাঁবু আর তাঁবু। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করছেন। মিনায় অবস্থান করা পবিত্র হজের অংশ। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল শনিবার।

হজযাত্রীরা আজ শুক্রবার মিনায় অবস্থান করবেন। আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে যাবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এরপর সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন।

পবিত্র হজ পালনের জন্য মক্কায় সমবেত হওয়া সারা বিশ্বের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইতোমধ্যে মিনায় পৌঁছেছেন। অন্য সময় গাড়িতে মিনায় পৌঁছাতে ২০ মিনিট লাগে। কিন্তু রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে গতকাল দুই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

মিনামুখী পুরো রাস্তায় ছিল হজযাত্রীদের স্রোত। বাসে, গাড়িতে, হেঁটে মিনায় যাচ্ছেন তারা। যানজটে আটকে পড়া কেউ কেউ দোয়ার বই পড়ছিলেন। আর যারা অপেক্ষা করতে চাননি, তারা হেঁটেই রওনা হন। অনেক বৃদ্ধকে হুইলচেয়ারে যেতে দেখা গেছে।

সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়তে তাদের মুখে ছিল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’।

তাঁবুগুলো দেখতে একই রকম হওয়ায় অনেক হাজির পক্ষে পথঘাট ঠিক রেখে নিজেদের তাঁবুতে যাতায়াত করা কঠিন হয়। এ জন্য আছে স্কাউট, হজ গাইড। বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও হজযাত্রীদের সহায়ক মিনার তাঁবু নম্বরসংবলিত মানচিত্র বিতরণ করা হয়। মিনায় ২৪/৬২ নম্বর তাঁবু বাংলাদেশ হজ কার্যালয়।

হাজিরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাঈ শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী) পর্যন্ত অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তারা। প্রত্যেক শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়। প্রথমে জামারায় সগির বা ছোট শয়তান, তারপর জামারায় ওস্তা বা মেজ শয়তান, এরপর জামারায় আকাবা বা বড় শয়তান। হাজিরা যাতে নির্বিঘ্নে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে পারেন, সে জন্য ওই জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়।

সৌদি আরবের গ্রাম ও পৌরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাবিব জয়নাল আবেদিন বলেন, জামারায় প্রতি ঘণ্টায় তিন লাখ হাজি পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন।

হজের আরো তথ্য জানতে পারবেন www.hajj.gov.bd এই ঠিকানায়।