মিশরের স্বৈরশাসক সিসির উপস্থিতির কারণে এবারও ভোজসভা প্রত্যাখ্যান করলেন এরদোগান

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৩:০৩ : অপরাহ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের কথা ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজে মিশরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে এরদোগান।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পর মধ্যাহ্নভোজে থাকার কথা ছিল এরদোগানের।

মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্পের সাথে মিশরের  স্বৈরশাসক সিসি ছাড়াও একই টেবিলে আরো ছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্দার্ন, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতারেসসহ অনান্যরা।

সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্পের টেবিলে সিসিকে দেখে তিনি তাঁর প্রতিনিধি দলকে নিয়ে অন্য টেবিলে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বৈরশাসক সিসিকে তার ’প্রিয় শাসক’ বলে অভিহিত করেন।

শহীদ মুহাম্মাদ মুরসীর মৃত্যুর জন্য স্বৈরশাসক সিসিকে দায়ী করে এরদোগান বলেন, শহীদ মুরসীর উপর ব্যাপক হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল। তারা তাঁর পরিবারকে তাঁর দেহাবশেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেননি এবং তাঁর ইচ্ছা অনুসারে তাকে তাঁর নিজ শহরে দাফন করতে দেয়নি স্বৈরশাসক সিসি।

তার পরিবারের মতে, মুরসীর ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগ ছিল কিন্তু স্বৈরশাসক সিসির কর্তৃপক্ষ তার যথাযথ চিকিৎসা দেয়নি।

এর আগে এরদোগান আমেরিকাকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসীর মৃত্যুর বিষয়ে সরকারী তদন্ত শুরু করার আহ্বান জানান।

এরদোগান সিসিকে একজন অত্যাচারী, গণতান্ত্র বিরোধী শাসক অভিহিত করে বলেন, আমরা যেমন জামাল খাশোগজির মৃত্যুকে ভূলে যেতে দেয়নি তেমনি আমরা শহীদ মুরসীর মৃত্যুকেও ভূলে যেতে দেব না। আমি আশা করি আমেরিকা মুরসীর মৃত্যুর ব্যাপারটি খতিয়ে দেখবে।

এরদোগান আরও বলেন, মুরসীর মৃত্যুর ব্যাপারে তুরস্ক প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনের সবকটির প্রয়োগের জন্য লড়াই করবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো মুরসীর মৃত্যুর বিষয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, মুরসী ২০১২ সালে গণতান্ত্রিকভাবে মিশরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু এক বছর পরে সামরিক অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। সে সময় স্বৈরশাসক সিসির নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনকে একটি বড় ধরনের ত্রাসের মুখে ফেলে দেয় এবং এই অভ্যুত্থানের পর থেকেই ব্রাদারহুডের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ