মৌসুম থাকতে জাম খান

প্রকাশ: ২৪ জুন, ২০১৯ ১১:৫৯ : পূর্বাহ্ন

ফলের আকার অনুযায়ী দু’ধরনের জাম দেখা যায়। বড় জামকে কালোজাম এবং ছোট জামকে ছোটজাম বলা হয়। জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ  ডেক্সটোজ ও  ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্যালিসাইটেলসহ অসংখ্য উপাদান। এছাড়াও জামের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।

মানসিকভাবে সতেজ রাখে : 

জামে গ্লুকোজ, ডেক্সটোজ ও ফ্রুকটোজ রয়েছে যা মানুষকে জোগায় কাজ করার শক্তি। বয়স যত বাড়তে থাকে, মানুষ ততই হারাতে থাকে স্মৃতিশক্তি। জাম স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে :

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জাম ভীষণ উপকারী। এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত জাম খাওয়ার ফলে ৬.৫ শতাংশ মানুষের ডায়াবেটিস কমে গেছে। এটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জাম ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে শরীর সুস্থ রাখে। এক চা চামচ জামের বীচির গুঁড়া খালি পেটে প্রতিদিন সকালে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ দূর করে :

জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। যার জন্য এটা দেহে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাঢ়ি শক্ত এবং মাঢ়ির ক্ষয়রোধেও জামের জুড়ি নেই। এতে বিদ্যমান পানি, লবণ ও পটাসিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠান্ডা এবং শারীরিক দুর্বলতাকে দূর করতে সক্ষম । জামে দেখা মেলে বেশি পরিমাণের আয়রনেরও, যা রক্তস্বল্পতা দূর করে ।

হার্ট ভালো রাখে :

জাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদপিন্ড ভালো রাখে। এছাড়া শরীরের দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে:

জামে কম পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, যা ক্ষতিকর তো নয়ই বরং স্বাস্থ্যসম্মত। তাই যারা ওজন নিয়ে চিন্তায় আছেন এবং নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্য তালিকায় আসতে পারে জাম।

উচ্চ রক্তচাপ :

পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকরা তাজা ফল এবং সবজি খাওয়ার সুপারিশ করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, জামে যেসব উপাদান আছে যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কালো জাম উপকারী :

মানুষের মুখের লালার মধ্যে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ উৎপাদিত হয়, যা হতে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নেয়। এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া হতে মুখে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা থাকে। আর জাম মুখের ভেতর উৎপাদিত ক্যান্সারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রঙিন ফলের ভেতর যে পরিমাণ যৌগিক উপাদান রয়েছে, এর মধ্যে জামে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে যা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাহায্য করে। জাম লড়াই করে জরায়ু ডিম্বাশয় ও মলদ্বারের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে।

সাদা বা রক্ত আমাশয় :

জামের কচি পাতার রস ২-৩ চা চামচ একটু গরম করে ছেঁকে নিয়ে খেলে ২-৩দিনের মধ্যে সেরে যায়।

অরুচি ও বমিভাব হলে :

পাকা জাম সৈন্ধব লবণ মাখিয়ে ৩-৪ ঘন্টা রেখে, সেটা চটকে ন্যাকড়ার পুঁটলি বেঁধে টানিয়ে রাখলে যে রস ঝরে পড়বে, সেটা ২০-২৫ ফোঁটা খেলে অরুচি ও ববিভাব কমে যায়।

সতর্কতা : আধাপাকা (ডাঁসা) জাম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে জাম খাবেন না এবং জাম খাওয়া পর দুধ খাবেন না। পাকা জাম ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও পেটে ব্যথা হতে পারে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট