রফতানি হচ্ছে পাট পাতার ‘চা’

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:১০ : অপরাহ্ন

অর্থনৈতিক রিপোর্ট

চা উৎপাদনে এমনিতেই বেশ এগিয়ে বাংলাদেশ। এবার শুধু চা-পাতা থেকেই নয়, ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত পাট থেকেও উৎপাদিত হচ্ছে চা! বিশ্বে প্রথমবারের মতো উৎপাদিত এই ‘চা’ রফতানি শুরু হয়েছে জার্মানিতে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাক হিসেবে পাটপাতা খাওয়ার প্রচলন থাকলেও এবার এই পাতা থেকেই ‘চা’ অর্থাৎ এক ধরনের পানীয় উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ছোট আকারে ‘সবুজ চা’ উৎপাদন চললেও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের জন্য কারখানা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তোষা পাটের পাতা থেকে তৈরি এই চা সুস্বাদু। তবে দুধ মিশিয়ে এই চা পান করা যাবে না।

২০১৬ সালে পাট পাতা থেকে এই অর্গানিক চা উৎপাদনে সাফল্য লাভের দাবি করে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট। এরপর ঢাকায় গুয়ার্ছি অ্যাকুয়া অ্যাগ্রো টেক নামক একটি প্রতিষ্ঠান পাটের পাতা দিয়ে তৈরি অর্গানিক চা জার্মানিতে রফতানি শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ইসমাইল হোসেন খান। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে গেছে। ইসমাইল হোসেন খানকে করা হয়েছে সরকারে নতুন পাটপাতা থেকে চা তৈরি প্রকল্পের উপদেষ্টা।
এরপর এই চা উৎপাদনে বাণিজ্যিক পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

গত শুক্রবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এখানে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কারখানা নির্মাণ করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, ‘চা-শিল্পে যোগ হচ্ছে পাটের পাতা থেকে চা। এতে পাট ও চা-শিল্প সমৃদ্ধ হবে। পাটের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনতে একে নানাভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন উদ্ভাবন এই সবুজ চা। ফলে সোনালি আঁশের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে।’

এ প্রসঙ্গে গত সোমবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী ডয়েচে ভেলেকে টেলিফোনে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ছোট পরিসরে উৎপাদনে চলে গেছি। করিম জুট মিল এবং প্রকল্পের উদ্ভাবক ইসমাইল হোসেন খানের ঢাকার উত্তরায় ছোট একটি কারখানায় আমরা এই পাটপাতার চা উৎপাদন করছি জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায়। এরই মধ্যে আমরা ৮ থেকে ১০ টন পাটপাতার চা উৎপাদন করেছি এবং তা জার্মানিতেই ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে রফতানি করা হয়েছে। সরিষাবাড়ীতে আমাদের কারখানা হলে আমরা বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাব। দেশের বাজারে এই চা বিক্রি হবে, আর বিদেশে তো রফতানি করা হবেই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই চায়ের স্বাদ একদম গ্রিন টি’র মতো। দামও হবে সাধারণ চায়ের মতোই।’ চায়ের গুণাগুণ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় দেখেছি কোনো রোগবালাই হলে শিশুদের পাটের পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে খাওয়ানো হতো। পাটপাতার ভেষজ গুণ আছে। এই চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী হবে। আমরা এরই মধ্যে এটা বাজারজাত করার সব ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুমোদন পেয়েছি।’

প্রকল্পের উপদেষ্টা ইসমাইল হোসেন খান শুক্রবার সরিষাবাড়ীতে বলেছিলেন, ‘পাটের পাতা থেকে পানীয় (সবুজ চা) উৎপাদনের এই উদ্যোগ সরিষাবাড়ী থেকে শুরু হলো। এখানকার চা শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও রফতানি হবে। চলতি বছরের শেষদিকে ভবন নির্মাণ শেষ হলে সবুজ চা উৎপাদন শুরু হবে।’

তবে সোমবার তিনি ডয়েচে ভেলের সঙ্গে টেলিফোনে এই চা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি না পেলে বিস্তারিত কিছু বলবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে পাটপাতার চা বাংলাদেশেই প্রথম উৎপাদন হচ্ছে। নতুন কারখানায় বড় আকারে উৎপাদনে যেতে কমপক্ষে দুই বছর লাগতে পারে। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্পে কাজ করছি। আমিই এর উদ্ভাবক।’