শুধু কাশ্মীরিদের নয়, বিপদ সবারই

প্রকাশ: ৮ আগস্ট, ২০১৯ ১:৩৮ : অপরাহ্ন

উগ্র জাতীয়তাবাদ, ধর্মোন্মাদনা, বিদেশভীতি, কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদী মনোভঙ্গি মিলেমিশে যখন একটি রাজনৈতিক আদর্শ তৈরি করে এবং সেই আদর্শের প্রচারকেরা যখন ক্ষমতায় আসীন হয়, তখন একটি দেশে কী পরিস্থিতির সূচনা হতে পারে, তার উদাহরণ হচ্ছে বিজেপি এবং তার নেতা নরেন্দ্র মোদির শাসিত ভারত। ‘ব্রুট মেজরিটি’ বা বর্বর সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে এমন একটি সরকার কীভাবে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বদলে দিয়ে ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করার দিকে এগোয়, সেই উদাহরণও মিলতে শুরু করেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাসংবলিত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ৩৫এ ধারা বাতিল, কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করা এবং কাশ্মীরের জনগণের ওপর কেন্দ্রীয় শাসনের নামে যে প্রত্যক্ষ দখলদারির শাসন চাপিয়ে দেওয়া হলো, তাকে বিবেচনা করতে হবে এই পটভূমিকায়।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাসংবলিত সংবিধানের ৩৭০ ধারায় যে স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছে, তা কাশ্মীরের জনগণ অতীতে খুব বেশি ভোগ করেছে তা নয়, ১৯৫৭ সালের পর দফায় দফায় তাকে দুর্বল করা হয়েছে। ১৯৫৬ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির ৪৭টি আদেশের মাধ্যমে তাকে এমন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করানো হয়েছে, যেখানে স্বায়ত্তশাসন কেবল প্রতীকী হয়ে উঠেছে। এর পরের কথা বাদই দিলাম। এখন সেই প্রতীকী স্বায়ত্তশাসনেরই কেবল অবসান ঘটল তা নয়, একই সঙ্গে এই ধারার কারণে ৩৫এ ধারার মাধ্যমে ভূমির ওপর, চাকরির ওপর তাদের যে অধিকার ছিল এবং স্থায়ী বাসিন্দা বলে কারা বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে রাজ্যের যে এখতিয়ার ছিল, তারও অবসান হওয়ার ব্যবস্থা হলো।