সংসদে কে বিরোধী আর কে সরকারি দল, বোঝার উপায় নেই’

প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০১৯ ৪:৫৯ : অপরাহ্ন

ঢাকা: বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে আবারও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। সংসদের বৈঠকে বিএনপি দলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দেয়ার আগেই জাতীয় পার্টির সদস্যরা দিয়ে দিচ্ছেন। বিরোধী দলের এই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি রুমিন ফারাহানা। তিনি বলেন, ‘এমন এক সংসদে রয়েছি কে সরকারি দলের, আর কে বিরোধী দলের, তা বোঝার উপায় নেই।’

গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় রোববার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর আলোচনাকালে এ ঘটনার অবতারণা হয়।  এসময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু ‘আমরা ক্ষমতায় আছি’ বলেও মন্তব্য করেন। এ পর্যায়ে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি রুমিন ফারাহানা বলেছেন, ‘এমন এক সংসদে রয়েছি কে সরকারি দলের, আর কে বিরোধী দলের, তা বোঝার উপায় নেই।’

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মঞ্জুরির দাবিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ত্রাণ— এই চার মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি দলীয় সদস্য হারুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক নেই। জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই। চিকিৎসা খাত এখন ভারতীয় বাজারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত এমপিরা কেউই বাংলাদেশে চিকিৎসা নেন না। সবাই ভারত অথবা সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা নেন। ডাক্তাররা নিজের পেশার তুলনায় রাজনীতির সঙ্গে বেশি জড়িয়ে গেছেন।’

তার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী নিজের প্রস্তাবের বিষয়ে কিছুই না বলে তিনি হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাব দিতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘সব দোষ ডাক্তারদের দিলে চলবে না। দুয়েকটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবাইকে দোষ দেওয়া ঠিক না। টাকা থাকলে মানুষ বিদেশে যায়। অনেকে ইচ্ছা করে যায়, দেশকে অপমান করার জন্য।’

একইভাবে জাপার আরেক সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও নিজের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য না রেখে তিনি মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘চোখ লাগাচ্ছে আজ আমাদের ডাক্তাররা। চিকিৎসা হয় না, এটা ঠিক নয়।’

চিকিৎসকদের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংস্কৃতি দেশে চালু করেছে বিএনপি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ড্যাব গঠন করে ডাক্তারদের মধ্যে দলীয় রাজনীতি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।’ বিএনপি দলীয়করণ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ পর্যায়ে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুমিন ফারহানা তার প্রস্তাবের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতেই জাপার দুই সদস্যের দিকে ইঙ্গিত করে বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এমন পার্লামেন্টে আছি, কোনটা সরকারি দল, আর কোনটা বিরোধী দল কিছুই বুঝি না।’

এরপর জাপার আরেক সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু তার বক্তব্যে বলেন, ‘সরকার ভুল ত্রুটি করলে বিরোধী দল ধরিয়ে দেবে। ভালো কাজ করলে প্রশংসা করবে।’ নবম সংসদে বিরোধী দলে থাকা বিএনপির ধারাবাহিক সংসদ বর্জনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৪০০ দিনে মাত্র ১০ দিন উপস্থিত হওয়া বিরোধী দলের কাছ থেকে জাপাকে বিরোধী দলের আচরণ শিখতে হবে না। জাপা ওই বিরোধী দল হতেও চায় না।’

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু এক পর্যায়ে বলে ফেলেন, ‘যেহেতু আমরা ক্ষমতায় আছি, তাই কাজটি করা উচিত।’ যদিও জাতীয় পার্টি এই সংসদের প্রধান বিরোধী দল। আগের সংসদে তারা বিরোধী দলের পাশাপাশি ও মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিলেন। মজিবুল হক ওই মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

গত ২৭ জুন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কারণেই জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের অবস্থানে আছে বলে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যদি বলতেন— আমরা সরকারে থাকবো, আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি, সরকারে আমরা থাকতে পারতাম। কিন্তু যেহেতু বিরোধী দলের প্রয়োজন, সেই কারণে আমরা বিরোধী দলে রয়েছি।’

গত ১৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ছাটাই প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেছিলেন, যেভাবেই বিরোধী দল সাজান না কেন, মহাজোটের অংশীদারদের দিয়েও সাজান না কেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। আমরাই প্রকৃত বিরোধী দল।