হযরত মা ফাতেমা (রা:) এর জীবনী

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:০৬ : পূর্বাহ্ন

আলাউদ্দীন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার।

হজরত ফাতেমা (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর আদরের কন্যা। তিনি মুসলিম নারী সমাজের অনুপম উদাহরণ। তার যাপিত জীবন সব মুসলিম নারীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। মহানবী (সা.) তার সম্পর্কে বলেছেন, ফাতেমা জান্নাতী মহিলাগণের সরদার। ১১ হিজরির ৩ জমাদিউস সানি তারিখে হজরত ফাতেমা (রা.) ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ১৯ বছর। হজরত ফাতেমা (রা.) প্রিয় নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের মাত্র ৭৫ দিন পর ইন্তেকাল করেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুকালে হজরত ফাতেমা (রা.) কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, ‘আমার পরে আমার বংশ থেকে তুমিই সর্বপ্রথম আমার কাছে আসবে (তথা দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে)।’ –বোখারি শরীফ খোদাভীরুতা, আত্মত্যাগ, বাগ্মিতা ও সাহিত্য-প্রতিভাসহ সমস্ত মানবীয় মহৎ গুণে পূর্ণতার অধিকারী এই মহীয়সী নারীর আলোকোজ্জ্বল অস্তিত্ব কেবল নারী জাতি নয় গোটা মানব জাতির জন্যই চিরন্তন গৌরবের উৎস। অপরিসীম গুণের আধার হজরত ফাতেমা (রা.) পূর্ণ বয়সে উপনীত হলে বহু স্বনামধন্য সাহাবি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মহানবী (সা.) এর চাচাতো ভাই হজরত আলীর সঙ্গে দ্বিতীয় হিজরিতে হজরত ফাতেমার বিয়ে দেন। বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৫ বছর ৫ মাস। মোবারক এই বিয়েতে মোহর ছিল মাত্র চারশ’ আশি দেরহাম। হজরত আলী (রা.) অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। হজরত ফাতেমা (রা.)-এর গর্ভে হজরত হাসান, হজরত হোসাইন ও মহসিন নামে হজরত আলীর তিন পুত্রসন্তান এবং জয়নাব ও উম্মে কুলসুম নামে দু’টি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেন। মহসিন (রা.) বাল্যকালেই ইন্তেকাল করেন। হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.)-এর বংশধররা সৈয়দ নামে পরিচিত ছিল। তাদের জীবনালেখ্য সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবগত। হজরত ফাতেমা (রা.) কে পিতা রাসূলুল্লাহ (সা.) বিয়ের সময় সংসারের জন্য দিয়েছিলেন, একটি চাদর, খেজুর গাছের ছালেভরা একটি বালিশ, একটি চামড়ার গদি, একটি দড়ির খাট, একটি মোশক (চামড়ার তৈরী পাত্র) এবং একটি আটার পিষার চাক্কি।’ -তবকাতে ইবনে সাদ হজরত ফাতেমাকে আল্লাহর রাসূল (সা.) অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি বলেছিলেন, ফাতেমা আমার একটি টুকরো। সে যাতে খুশি হয়, আমিও তাতে খুশি হই। সে যাতে কষ্ট পায়, আমিও তাতে কষ্ট পাই। নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের সময় হজরত ফাতেমা (রা.) ছিলেন আল্লাহর রাসূলের (সা.) একমাত্র জীবিত সন্তান। আজকের দিনে আমার এই মহিয়সী নারীকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি।