চৌফলদন্ডীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিল এক যুবক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩০ : অপরাহ্ন

ডেস্ক সংবাদ।

প্রলোভন দেখিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুলিয়ে প্রবাসীর সহজসরল স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে গেছে প্রতারক জাসেদুল ইসলাম৷ 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,প্রতারক জাসেদুল ইসলাম কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়ন ৪ নাম্বার ওয়ার্ড মেহের ঘোনা এলাকার সৈয়দ আলমের পুত্র সন্তান। 

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তের পিতা তার শেষ সম্বল টুকু পর্যন্ত বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় ছেলে জাসেদুল ইসলাম কে দুবাই পাঠান৷ ৪ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে দুবাই গিয়ে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার কথা বলে অসহায় পিতার মাথায় বারি দিয়ে দেশে ফিরে আসে৷

এর পর লিপ্ত হয় নানা অপকর্মে। কার্যক্রমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে ব্যবসার কথা বলে তার ভাই জয়নাল আবেদীন ও রাসেলের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, বোন রুজিনা আক্তারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের নামে লোন ১ লক্ষ ৪০ হাজার নিয়ে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে পরে৷

পরে তার পরিবার বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারে,ছেলে জাসেদুল ইসলাম সদর উপজলার চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন খামার পাড়া এলাকার প্রবাসী জামাল উদ্দীনের স্ত্রী জোসনা আক্তার’কে নিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণ সহ পালিয়ে গেছে।

ব্যবসায়ের টাকা এবং প্রবাসীর স্ত্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে আস্তে আস্তে তলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে থাকে।

ঈদগাঁও বাজারে অবস্থিত হকার মার্কেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে সবমিলিয়ে ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ধার নিয়েছে এবং তাদের টাকা শোধ না করার অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

অসহায় পিতার কাছে বার বার পাওনাদাররা ভিড় করে চাপ দিতে থাকলে একপর্যায়ে ঋণের উপর ঋণ নিয়ে তাদের টাকা শোধ করতে হয়েছে৷ এতে পরিবারের মরার উপর খরার ঘাঁ হয়ে দাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে পিতা সৈয়দ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,”আমার ছেলেটি লম্পট হয়ে গেছে৷ আমাদের অসহায়ত্বের কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অভাবের সংসার। তার উপর কুলাঙ্গার ছেলের এই অবস্থায় আমার মরে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে”।

তিনি তার ছেলের সাথে কাউকে লেনদেন না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং পরবর্তীতে তার কোন কিছুর জন্য পিতা বা তার পরিবার দায়ী থাকবে না বলে জানান৷