টেকনাফে মালয়েশিয়া প্রবাসী জোবাইরকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ২২ মে, ২০২০ ১১:০৪ : পূর্বাহ্ন

টেকনাফ সংবাদদাতা।

কক্সবাজারের টেকনাফে মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ জোবাইর আত্মহত্যা নয়,তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার ২১মে সাবরাং কচুবনিয়ার নিজ বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় জোবাইর এর লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে টেকনাফ থানা পুলিশ।

নিহতের পরিবারের দাবি,জোবাইরের বউ ইয়াসমিন প্রকাশ ছারাখাতুন পরকীয়া আসক্ত ছিলেন। লোভী ওই নারী তার বোন জামাই আবদু রশিদ দুই ভাই মোঃ একরাম ও ইমরান মিলে স্বামী জোবাইর কে হত্যা করেছেন।

নিহত জোবাইর এর ভাই বশর বলেন, বউ এর সব অপকর্ম জেনে যাওয়ায় তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখে পরিকল্পিত ভাবে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে সংঘবদ্ধ চক্রটি। তার কষ্টে গড়া গাড়ি বাড়ী ও অর্থের লোভ সামলাতে না পেরে জোবাইরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে দাবি তাঁর।

অভিযুক্ত ইয়াসমিন( প্রকাশ) ছারা খাতুন টেকনাফের সাবরাং এর দক্ষিণ কচুবনিয়া মনজুর আলমের মেয়ে। প্রায় দশ বছর আগে জোবাইর পারিবারিভাবে তাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটা সন্তান রয়েছে।
গত পাঁচ মাস আগে জোবাইর মালয়েশিয়া থেকে দেশে আসেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জোবাইর বউ ছারা খাতুনের এর চাপে শ্বশুর বাড়ীর পাশে কচুবনিয়া এলাকায় জায়গা কিনে আলাদা বাড়ী করেছিলেন।এর পরও নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এতকিছুর পরও সংসার ভাঙেননি জোবাইর।

কিন্তুু জোবাইর এর টাকার লোভ সামলাতে না পেরে ছারা খাতুনকে স্বামীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতেন তাঁর বোন জামাই রশিদ ও তাঁর দুই ভাই। প্রতিদিন নানানভাবে ঝগড়াঝাগড়ি করতে বাধ্য করতেন। এমন কি ছারা খাতুনের পরকীয়াতে তাদের সমর্থন ছিল।

একটা সময় সব জেনে সতর্ক হয়ে যান জোবাইর।বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মেম্বার জাফর আলমের কাছে কাছে নালিশও দেন জোবাইর। কিন্তু সালিশ বসার আগেই বৃহস্পতিবার ২১মে বিকাল ৩তিনটার দিকে পূর্ব পরিকল্পনানুয়ী জোবাইর কে হত্যা করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখে উল্লেখিত চক্রের সদস্যরা।হত্যা পরবর্তী আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।

এদিকে স্থানীয়রা লাশের ময়না তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা গঠনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি জোবাইর আত্মহত্যা করার মত মানুষ নয় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। যা তদন্ত করলে কে বা কারা জড়িত সব বের হয়ে আসবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।