৪০ মেট্রিক টন সরকারি গম উদ্ধার, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ২৯ মে, ২০২০ ১:২০ : পূর্বাহ্ন

 

নিউজ ডেস্ক।
কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় সরকারি বরাদ্দের ৪০ মেট্রিক টন গমসহ সাতক্ষীরায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার রাতে জেলার কালীগঞ্জের ভাড়াশিমলা এলাকার মনি-মুক্তা রাইস মিলের গুদাম থেকে এসব গম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউপির সদস্য পবিত্র মণ্ডল, মনি-মুক্তা রাইস মিলের ম্যানেজার মুকুল হোসেন ও মালিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম।

দুর্নীতির দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয় খুলনা অফিসের উপসহকারী পরিচালক নীলকমল পাল জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর কৈখালি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২৩ মেট্রিক টন ৩০০ কেজি গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের সভাপতি ওই ওয়ার্ড সদস্য কাজ না করে সব গম আত্মসাৎ করেন। পরে তিনি ওই গম কালীগঞ্জের মনি-মুক্তা রাইস মিলের মালিক আবদুল গফফারের কাছে বিক্রি করেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গম উদ্ধার ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

advertisement

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী জানান, শ্যামনগর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে এসব গম বিভিন্ন প্রকল্প সভাপতিদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো রকমে দায়সারা গোছের কাজ করে সিংহভাগ গম প্রকল্প সভাপতিরা স্থানীয় একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন। বুধবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির সুযোগে ইউপি সদস্য পবিত্র মণ্ডল তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪০ মেট্রিক টন গম ভাড়াশিমুলা এলাকার মনি-মুক্তা রাইস মিলের মালিক আবদুল গফফারের কাছে বিক্রি করেন।

দুদক কর্মকর্তা আরও জানান, ওই গুদাম থেকে ৮১৭ বস্তায় প্রায় ৪০ মেট্রিক টন ৮৫০ কেজি গম উদ্ধার করা হয়। বাকি গম কোথা থেকে এসেছে, তা তদন্তে বের হয়ে পড়বে।

শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহীনুর রহসান বলেন, ‘প্রকল্পের সভাপতিরা অনেক সময় শ্রমিকদের টাকা দিয়ে গম নিজেরা কিনে নেন। এ ছাড়া শ্রমিকেরা অনেক সময় গম নিতে অনাগ্রহ দেখানোর কারণে ফড়িয়ারা সেসব গম কিনে নিয়ে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন। তবে প্রকৃত ঘটনা কী ঘটেছে, তা তদন্ত না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন সমন্বিত কার্যালয় খুলনার উপসহকারী পরিচালক নীলকমল পাল বাদী হয়ে গ্রেপ্তার করা তিনজনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।