লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তি, হাতেনাতে র‌্যাবের হাতে ধরা আ.লীগ নেত্রী

প্রকাশ: 20 নভেম্বর, 2019 1:18 : অপরাহ্ন

ময়মনসিংহ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তির চুক্তি করে র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফুর নাহার বেগম লাকী (৩৭)।

মঙ্গলবার ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সি ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক কর্মচারীর বাসায় ভর্তিচ্ছু নারী শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে বিতণ্ডার সময় তাকে আটক করে র‌্যাবের একটি টহলদলের সদস্যরা। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সি ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক কর্মচারীর বাসায় ভর্তিচ্ছু ওই নারী শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেত্রী লাকীর তর্কাতর্কি শুনে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়। তখন পাশ দিয়ে যাওয়া র‌্যাবের টহলদলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে লাকীকে আটক করে।

এ সময় তার ব্যাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েক শিক্ষার্থীর রোল নম্বর লেখা কাগজ পাওয়া যায়। অভিযোগ উঠেছে, আফিফা হুমায়রা নামে ওই শিক্ষার্থীকে এক লাখ টাকায় ভর্তি করার কথা বলে তার মা হাসিনা বিনতে হাকিমের কাছ থেকে অগ্রিম হিসেবে ১০ হাজার টাকার ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক নেন আওয়ামী লীগ নেত্রী লাকী। যার চেক নম্বর ২০২।

পরে র‌্যাব সদস্যরা লাকীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা এই আওয়ামী লীগ নেত্রী ও ভর্তিচ্ছু ছাত্রীর মাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেল ৪টার দিকে দুজনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এরপর প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটা প্রমাণিত যে, দুজনই অপরাধ করেছেন। লুৎফুর নাহার বেগম লাকী এক লাখ টাকার বিনিময়ে ভর্তির কথা এবং চেক গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করলেও অভিযোগকারী হাসিনা বিনতে হাকিমের কথা অনুযায়ী তাদের লেনদেন হতে পারে। যার প্রাথমিক বিশ্লেষণে দুজনই অপরাধ করেছেন। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় থানায় মামলা করবে।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসিনা বিনতে হাকিম বলেন, লাকী আমার মেয়েকে ভর্তি করিয়ে দেবে বলে এক লাখ টাকা চায়। সে বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার ও নেতারা তার পরিচিত। এক লাখ হলেই হবে। তাই বিশ্বাস করে ইসলামী ব্যাংকের ১০ হাজার টাকার একটি চেক দিই তাকে। সে এখন অস্বীকার করছে। আমি ভুল করেছি এভাবে ভর্তির কথা ভেবে। কিন্তু তার প্রতারণা বুঝতে পেরে চেক ফেরত চাইলে দিচ্ছে না। আমি এর বিচার চাই।

অন্যদিকে আটক লুৎফুর নাহার বেগম লাকী বলেন, প্রতিবন্ধী (ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর মা শারীরিক প্রতিবন্ধী) বলে সহায়তা করতে এসেছিলাম তাকে। আর আমাকে রাজনৈতিকভাবে এখন হেয় করা হচ্ছে। আমি এখান থেকে বের হয়ে সবাইকে দেখে নেব।

এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীদের নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী।