জীবন জীবিকার তাগিদে বদলে যাচ্ছে মানুষের কর্ম

প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২০ ১১:৫১ : পূর্বাহ্ন

জাতীয় ডেস্ক।

করোনা পরিস্থিতিতে জীবন জীবিকার তাগিদে বদলে যাচ্ছে মানুষের কর্ম। পরিবার নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ে মানুষ নানা ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজার এলাকার মো.রাসেল মিয়া ও রনি আক্তার দম্পতি। সরকারি গুরুদয়াল কলেজ সংলগ্ন মুক্তমঞ্চের পাশে চটপটি ও ফুচকার দোকান ছিল তাদের। ছোট দুই সন্তান নিয়ে ভালই যাচ্ছিল দিন।

হঠাৎ করোনা পাল্টে দিয়েছে তাদের সবকিছু। থমকে গেল তাদের চটপটি ও ফুচকার ব্যবসা। মার্চ মাস থেকে সরকারি লকডাউন ঘোষণায় সংকটে পড়েছে তাদের জীবন।

রাসেল-রনির মতন মুক্তমঞ্চে চটপটি-ফুচকা বিক্রি করতেন এমন প্রায় পঞ্চাশটি পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। তাদের অনেকেই এখন পরিবারের জন্য বদলে দিয়েছেন নিজেকে, বদলে ফেলেছেন নিজের কর্মকে।

কেউ রাস্তায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করছেন। আবার কেউ রিকশা বা মিশুক চালিয়ে কোনভাবে টিকে আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে আলাপকালে রনি আক্তার বলেন,‘আমি আর আমার স্বামী মিল্লা চটপটি ও ফুচকার দোকান চালাইতাম মুক্তমঞ্চে। কিন্তু আতকা (হঠাৎ) এমুন একটা অসুক (রোগ) আইলো সবকিছু বন্ধ হইয়্যা গেল। পুলাপাইনডিরে খাওয়াইতে অনেকদিন খুব কষ্ট হইছে আমরার। পরে ঘরে জমানি কিছু টেহা দিয়া আমার স্বামী নতুন কাম শুরু করছে। বাকি দিনডি কেমনে যাইবো হেই চিন্তাই করি।’

সংসারের কষ্ট লাঘব করতে রাসেল মিয়া তার জমানো কিছু টাকা দিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে করে সবজি বিক্রি শুরু করেন। এভাবে প্রায় একমাস সবজি বিক্রির পর তার পুঁজি বাড়তে থাকে। তারপর লকডাউন কিছুটা শিথিল হলে মৌসুমী ফল বাজারে আসতে শুরু করে। আর রাসেলের ফল বিক্রির পূর্ব একটি অভিজ্ঞতা ছিল। তাই সে এমন সুযোগটি কাজে লাগায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাসেল মিয়া বলেন, ‘কোন কামই আমার কাছে ছুডু (ছোট)না। আর চটপটি-ফুচকা ব্যবসার লগে আমি টুকটাক অন্য কামও জানি তাই ভয় পাইলেও বইয়্যা (বসে) ছিলাম না। সবজি বিক্রির লাভ থেইক্যা একটু একটু কইর্যা টেহা জমাইছি। হেরপরে এই মাসে আড়ত থেইক্যা বিভিন্ন জাতের আম কিন্যা ভ্যানে কইর্যা বিক্রি করতাছি। এখন পর্যন্ত তো ভালাই আছি। কিন্তু আর কয়দিন ভালা থাকবাম হেই চিন্তাই করি।’

তিনি জানান, মুক্তমঞ্চে চটপটি-ফুচকা যারা বিক্রি করতো তাদের অনেকেরই অন্যকোন কাজের অভিজ্ঞতা নেই। এমন পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। চটপটি-ফুচকা বিক্রি করে প্রতিদিন গড়ে পাঁচশ টাকা লাভ হতো। এখন জমানো টাকা শেষ করে, অনেকেই পুরোপুরি বেকার হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন তাদের পরিবার নিয়ে।

এদিকে তারা দাবি করেন, সরকার নিয়ম মেনে খাবারের হোটেল খোলার অনুমতি দিয়েছেন। তারাও চায় নিয়মের মধ্যে তাদের নিজ নিজ কর্মের মাধ্যমে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে। তার জন্য সরকারি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।