ট্যক অব দ্য ঈদগাঁও সালমান খান অপহরণ নাটক

প্রকাশ: ২৬ জুন, ২০২০ ৯:২০ : অপরাহ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট।
ট্যক অব দ্য ঈদগাঁওতে পরিণত হয়েছে ঈদগাঁওর সালমান খান অপহরণ নাটকটি। সম্প্রতি এ নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে। এ নাটকের মূল হোতা হিসাবে এলাকাবাসী মাহবুব আলম মাবুকে অভিযুক্ত করেছেন। তবে তিনি অপহরণ নাটকের সাথে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, এলাকার মানুষ এখন ঘুরেফিরে
 মাবু কর্তৃক অপহরণ নাটক মঞ্চস্থের ঘটনাটি বারবার বলাবলি করছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন মুক্তিপণ আদায়ের এ নাটকে মাহবুবকে সরাসরি চিহ্নিত করেছেন। মাহবুব আলম মাবু স্বেচ্ছায় ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়েছে। এর পরের দিন ইউনিয়ন কমিটির কর্মকর্তারা তাকে বহিষ্কার করেছে। ঘটনার সূত্রপাত হচ্ছে হলো, ঈদগাঁও হাসিনা পাড়ার সালমান খান মোবাইলে গেম খেলে এক লক্ষ টাকা হারায়। তার মা সৌদি আরবে আর পিতা মালশিয়ায় থাকেন। সে তার সহপাঠীদের বলে যে, আমাকে অপহরণ করেছে মর্মে নাটক সাজিয়ে মায়ের কাছ থেকে উক্ত টাকা আদায় করা যাবে। এজন্য তারা ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মাহবুব আলম মাবুর  সাথে শলাপরামর্শ করে। সে সম্মতি দিলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয়। তারা সালমানের মুখে কালো কাপড় ও হাত-পা বেঁধে ইমুতে সৌদিয়ায় অবস্থানরত মায়ের সাথে যোগাযোগ করায়। মা ছেলের দুরবস্থা দেখে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তার ছেলেকে জীবন্ত পেতে চান। এসময় মাহবুব আলম মাবু ইমুর মাধ্যমে সালমানের মায়ের কাছে একটি ভুয়া জিডি পাঠায়। এজন্য সে সালমানের মায়ের কাছ থেকে পুলিশ ওসডির কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসয়াখালী রাস্তার মাতর বড় টাওয়ার এলাকায় মুক্তিপণের টাকা রেখে আসে একটি খালি সিএনজিতে সালমানের সহযোগী শাহরুখ খান, সালমানের খালা, মামা সহ কয়েকজন মুক্তিপণের টাকা দিতে যান। এ সময় এসময় তাদেরকে বলা হয় যে মাবু পুলিশ নিয়ে ওই এলাকায় অবস্থান করছেন তার মাবুর সাক্ষাৎ পেতে চাইলেও নানা কৌশল ও টালবাহানা করে শাহরুখ খান। পরবর্তীতে মাবু ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে অবস্থান করছে জানিয়ে পুলিশের খরচ বাবদ আরো দুই হাজার টাকা আদায় করে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সার্চ মানবাধিকার সোসাইটির অন্যতম নেতা বয়োবৃদ্ধ গুরা মিয়া জানান, খালাতো ভাই শাহরুখ খান সহ মাবু হুবহু অপহরণ নাটকটি সাজায়‌। কোনমতে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মা নমনীয় হওয়াই সুযোগটি লুফে নেয় নেয় বাবু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। যা এলাকাবাসীর তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে সালিশী বৈঠক বসে। এতে মাবুকে টাকাও ফেরত দিতে বলা হয়। স্থানীয় যুবলীগ নেতা জামিল উদ্দিন ঘটনার সাথে মাবুর সম্পৃক্ততার কথা সত্য বলে জানান। গুরা মিয়া আরো জানান এসব অপকর্মে জড়িত থাকায় মাবুর দ্বরা ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তার মতে দল থেকে এসব অপরাধীদের সরিয়ে দেয়া দরকার তা না হলে এলাকার কেউ সংশ্লিষ্ট দলের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চাইবেন না। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আসাদুজ্জামান খান জানান, লোকমুখে এদরনের অপহরণ নাটকের ঘটনা শুনেছি। সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগ মাবু জানায়, সে সালমান খানকে উদ্ধারে সহযোগিতা করেছে মাত্র। এলাকায় তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য তার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।