নিউজার্সিতে ভোট জালিয়াতির মামলায় দুই বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২০ ৫:১৪ : অপরাহ্ন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ভোট জালিয়াতির অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। প্যাটারসন সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে দুই বাংলাদেশি প্রার্থীর ভোট গণনার জটিলতার মধ্যেই এক প্রার্থীর ভাইসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডাকযোগে আনা ব্যালটের মাধ্যমে শাহীন খালিক নামক এক প্রার্থীর বিজয় ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে প্রতারণার মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

১৯ মে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলম্যান শাহীন খালিকের বিরুদ্ধে লড়েন মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান। ভোট গণনা শেষে শাহীনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তিনি পান ১৭২৯ ভোট। অপরদিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান পান ১৭২১ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে পুনরায় গণনার আবেদন জানান আক্তারুজ্জামান। দ্বিতীয় বারের গণনায় আকতারুজ্জামানের ভোট বাড়ে। তবে শাহীন খালিক এগিয়ে থাকেন ৩ ভোটে। এরপর আবারো গণনার অনুরোধ জানালে তৃতীয় দফায় উভয়ের সমান ভোট হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মামলার উদ্ভব হওয়ায় নির্বাচন কমিশন দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকার মধ্যেই নিউজার্সি স্টেট এটর্নি জেনারেল অফিস থেকে ভোট নিয়ে প্রতারণা, ভোট ডাকাতি এবং ভোট গণনার ফলাফল নিয়ে কারচুপির তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের পরই গত ২৫ মে শাহীন খালিকের বড়ভাই সেলিম খালিক (৫১) এবং তার সমর্থক আবু রেজিয়েনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়।

এটর্নি জেনারেল গুরবির গ্রুয়েল চাঞ্চল্যকর ভোট জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলার পর গণমাধ্যমকে জানান, খালিক নির্বাচনের বিধি লঙ্ঘন করে প্যাটারসন সিটির দুই নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটারের বাসায় যান এবং তার কাছ থেকে একাধিক ব্যালট সংগ্রহ করেন। অথচ সেগুলো বিধি অনুযায়ী ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের অফিসে আসার কথা। খালিক সেগুলো এনে নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। সে সময় নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে পারেননি যে, ভোটারেরাই তাকে লিখিত অনুমতি দিয়েছেন ব্যালট পেপার বহনের জন্যে।

উল্লেখ্য, এই আসনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান। চার বছরের মেয়াদ শেষে পুনরায় প্রার্থী হলেও শাহীন খালিকের কাছে তিনি পরাজিত হন নিজের অবস্থানের ঠিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায়। শাহিনের চার বছর শেষ। পুনরায় প্রার্থী হয়েছিলেন এ নির্বাচনে। শাহীন খালিকের বাড়ি সিলেটের বিয়ানিবাজার এবং আকতারুজ্জামানের বাড়ি সিলেট সদরে। গত ৮ বছর ধরেই এই ওয়ার্ডের নির্বাচন ঘিরে নিজেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার উদ্ভব হলেও এই প্রথম ভোট জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো-যা কমিউনিটিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।কারণ, এর জের পড়ছে গোটা বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফলে প্রকারান্তরে গোটা কমিউনিটিই অসাদাচরণে লিপ্ত থাকার তথ্য প্রশাসনে যাচ্ছে।