কোরবানির ঈদে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

প্রকাশ: ২৯ জুলাই, ২০২০ ২:৪৪ : অপরাহ্ন

নিউজ ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র। দীর্ঘ ৪ মাস বন্ধ থাকলেও অনেকের প্রত্যাশা ছিল কোরবানির ঈদে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে।
কিন্তু না এবারের ঈদেও পর্যটকরা বান্দরবানের কোনো পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন না। কেননা পরবর্তী নির্দেশনা না আসায় এবারের ঈদেও বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন কোরবানির ঈদে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো খোলা না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলানিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমক প্রতিরোধে গত ১৮ মার্চ থেকে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশনা এলে তবেই আমরা বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব।

…বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন আরো বলেন, পর্যটন ও আবাসিক হোটেল মোটেল খোলার বিষয়ে আমরা ঈদের পরে সিদ্ধান্ত নেবো।

এদিকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৪ মাস বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবানের পর্যটন সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই চার মাস হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকায় আমাদের পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমে এসেছে। বান্দরবানের শতাধিক হোটেল মোটেলের কয়েকশ কর্মচারী বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় দিনযাপন করছেন।

তিনি আরো বলেন, ঈদের পরে বান্দরবানের আবাসিক হোটেল মোটেলে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে আমাদের জন্য ভালো হবে।

বান্দরবানের পর্যটন ব্যবসায়ী কাজল কান্তি দাশ  বলেন, বান্দরবানে দীর্ঘ ৪ মাস পর্যটন ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছেন। করোনার কারণে এসব ব্যবসা ৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ, ফলে তাদের ব্যবসার মূলধন খাওয়া শেষ। এখন অধিকাংশ পর্যটন ব্যবসায়ী ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। কোরবানি ঈদের পর পর্যটন ব্যবসা খুলে দেওয়া হলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা প্রাণে বাঁচবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ থেকে বান্দরবানের সব আবাসিক হোটেল মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বান্দরবান জেলা প্রশাসন।