সিসির পদত্যাগের দাবিতে মিসরে বিক্ষোভ, নিহত ১

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:২৭ : পূর্বাহ্ন

ঢাকা: প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির পদত্যাগের দাবিতে মিসর জুড়ে বিক্ষোভ জোরালো হতে শুরু করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। জুমার নামাজের পর ‘শুক্রবারের ক্ষোভ’ আখ্যা পাওয়া এই বিক্ষোভ রাজধানী কায়রোসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় গিজা, দামিয়েত্তা ও লুক্সর শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযানের নানা ভিডিও এখন দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যাকটিভিস্টরা বলছেন, এদিন বিক্ষোভের সময় নিহত হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। বিক্ষোভের সময় অনেককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কথিত অবৈধ ভবন অপসারণের ঘোষণার পরই মিসরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে

প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি দেশজুড়ে কথিত অবৈধ নির্মাণ অপসারণের ঘোষণা দিলে মিসরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হয়। এই ঘোষণায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে দেশটির দরিদ্র বেশকিছু জনগোষ্ঠী। দুর্বল অর্থনীতি আর করোনা মহামারির কারণে ইতোমধ্যে দুর্ভোগে পড়া এসব মানুষ বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় বিক্ষোভ শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শুক্রবার কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় বিক্ষোভকারী স্লোগান দিচ্ছেন, ‘ভয় সরিয়ে জোরসে বলো, আল সিসি সরে যাও।’ আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গিজায় সড়ক অবরোধ করতে টায়ারে আগুন দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দামিয়েত্তা নগরীতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।

গিজা এলাকার আল ব্লিডা গ্রামে বিক্ষোভের সময় নিহত হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ সামি ওয়াগদি বশির। মিসরীয় অ্যাকটিভিস্টদের পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, ওই একই ঘটনায় অপর তিন তরুণও আহত হয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় রাতেও বিক্ষোভ চলতে দেখা গেছে।

বিলাসবহুল প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয়ের বিরুদ্ধে গত বছরও মিসরে বিক্ষোভ হয়। ওই বিক্ষোভের কারণে দেশটিতে চার হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ব্যাপ্তি ও অংশগ্রহণকারী বিবেচনায় এবছর বিক্ষোভ অনেক বড়।

২০১৩ সালে বিক্ষোভের জেরে মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনাবাহিনী উৎখাত করলে ক্ষমতায় আসেন আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। তারপর থেকেই দেশটিতে বিক্ষোভের ঘটনা বিরল হয়ে উঠেছে। কারণ ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই তিনি মিসরে অনুমতি ছাড়া মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছেন।

সোনালীনিউজ/