শিরোনাম:

মেরিন ড্রাইভে প্রাচীন মসজিদের সন্ধান

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১২:৩৫ : অপরাহ্ন

নিজস্ব ডেস্ক।

প্রাচীন ও ক্ষুদ্রতম একটি মসজিদের সন্ধান মিলেছে কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ এলাকায়। উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা এলাকায় অবস্থান এই মসজিদের। সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে কয়েকজন যুবক জঙ্গল পরিষ্কার করে মসজিদটির পুরো চিত্র বের করে আনার চেষ্টা করে।
এলাকাবাসী বলছেন, প্রাচীন এই মসজিদ সম্পর্কে তারা পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনে আসছেন। এমনকি কয়েক’শ বছর পুরনো মসজিদ বলছিল তারা। মূলত মসজিদটি জঙ্গলে ঢাকা ছিল বলে কেউ সেখানে যেতেন না, অনেকের চোখে পড়েনি। মসজিদটির আশপাশে গাছ ও তার শেকড় ভবনটির বাইরের অংশকে ঢেকে রেখেছিল।

জঙ্গলের ভেতর থাকা মসজিদজঙ্গলের ভেতর থাকা মসজিদ

মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদটির দেয়াল ঘেঁষে একটি বড় মিম্বার রয়েছে। বাইরের দৈর্ঘ্য (উত্তর-দক্ষিণ) মিম্বারসহ ১৬ ফুট এবং বাইরের প্রস্থ (পূর্ব-পশ্চিম) ১২ ফুট। মসজিদটির ভেতরের দৈর্ঘ্য ৭ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। মসজিদটির একটি মেহরাব রয়েছে এবং দেয়ালে ছোট ছোট কয়েকটি খোপ রয়েছে। মসজিদটি পোড়া ইট, বালু, চুন এবং সুরকি দিয়ে নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘পূর্ব পুরুষদের কথা মতে এটি কয়েক’শ বছর আগের পুরনো মসজিদ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরও এখানে লোকজন নামাজ আদায় করেছিল। এ প্রাচীন মসজিদটি পুরাকৃর্তি অক্ষুণ্ন রেখে নতুন রূপে সংস্কার করলে সেটি ঐতিহ্য হয়ে থাকবে। সংস্কারের পর মসজিদের ভেতরে প্রচীন ক্ষুদ্র মসজিদের পুরাকীর্তি দৃশ্যমান হলে অনেক দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরাও আসবে।

জঙ্গলের ভেতর থাকা মসজিদজঙ্গলের ভেতর থাকা মসজিদ

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আজিম উল্লাহ বলেন, ‘মসজিদটি অনেক বছর পুরনো। আমরা ছোট থেকেই শুনে আসছি এখানে একটা মসজিদ আছে। পূর্ব পুরুষরা বলেছেন, বহু বছরে অনেক আগে বিদেশ থেকে কয়েকজন পীর সাহেব এদেশে এসে ইসলাম প্রচার করতেন। রাতে সেখানে তারা আত্মগোপন করতেন। তারাই সম্ভবত এই মসজিদটি তৈরি করেছিলেন নামাজ আদায়ের জন্য।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে বনলতার আড়ালে একটি মসজিদের সন্ধান মিলেছে। এটি যে ক্ষুদ্রতম প্রাচীন মসজিদ তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের পশ্চিমে কোনও ধরনের ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মসজিদটির সংস্কার করা যাচ্ছে না। অনুমতি পেলে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, মসজিদটি সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারে সদ্য যোগদান করা নতুন জেলা প্রশাসক।