কক্সবাজারে ফয়’স লেকের আদলে পর্যটনকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৭:০৩ : অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরের পাশ দিয়ে তৈরি মেরিন ড্রাইভ সড়ক নতুন মাত্রা যোগ করেছে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে। এবার এ মেরিন ড্রাইভকে ঘিরে ফয়’স লেকের আদলে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে চায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। এজন্য বন বিভাগের ১৮৮ একর পাহাড়ি জমি চেয়ে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে দপ্তরটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আরো সমৃদ্ধ হবে।

কউক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত কৃত্রিম হ্রদ ও পাহাড়ের সন্নিবেশস্থল ফয়’স লেক দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। এর আদলেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মেরিন ড্রাইভ সড়কের কলাতলী দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকা ঘিরে পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে কউক। সাগর তীরবর্তী পাহাড় ও বনাঞ্চলের ক্ষতি না করেই ১৮৮ একর জমিতে এ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে বন বিভাগের কলাতলী পিকনিক স্পট (দরিয়ানগর পার্ক) থেকে পার্শ্ববর্তী বড়ছড়া খালের দক্ষিণ পশ্চিম অংশজুড়ে (মেরিন ড্রাইভ থেকে পূর্বদিকে গড়ে ৫০০ ফুট চওড়া) হিমছড়ি পর্যন্ত পাহাড়গুলো কউকের প্রস্তাবনার আওতায় রাখা হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হিমছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল কর্মী এরই মধ্যে ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ার জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিমাপ শুরু করেছেন।

কউকের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা কলাতলীর দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের উভয় পাশে দীর্ঘ পাঁচ কিলোমিটার পাহাড় ঘিরে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র গড়তে চাই। সাগর তীরবর্তী এসব পাহাড় ও বনাঞ্চল ঘিরে অত্যাধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে এরই মধ্যে ১৮৮ একর জমি বরাদ্দ দিতে আবেদন করা হয়েছে। পাহাড় ও বনাঞ্চলের ক্ষতি না করেই একটি ইকোট্যুরিজম সেন্টার চালু করার এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে বিবেচনায় নিয়েছে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগ।

তিনি আরো বলেন, জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। সৈকত তীরে নানা দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যসহ স্থাপত্য তৈরি করে সৌন্দর্য বাড়ানো হবে। থাকবে পরিচ্ছন্ন পিকনিক স্পট। জমি বরাদ্দে ইতিবাচক সাড়া পেলে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হুমায়ূন কবির বলেন, কলাতলী বিটের ১৭৪ একর ও পার্শ্ববর্তী হিমছড়ি বিটের ১৪ একর জমি নিয়ে কউক একটি ইকোট্যুরিজম সেন্টার চালু করতে চায়। তারা বনাঞ্চল, পাহাড় ও পরিবেশের ক্ষতি না করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় বন বিভাগ বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করছে। আশা করি, তাদের কাছে বনাঞ্চল ও পাহাড় যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

সূত্র জানায়, যেসব পাহাড় বরাদ্দ চেয়ে কউক আবেদন করেছে, সেখানে ২০১১-১২ ও ২০১৩-১৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় বনাঞ্চল সৃষ্টি করে ১৮৮ জন উপকারভোগীর কাছে ১০ বছরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কউকের কাছে জমি বরাদ্দ দেয়া হলে এসব উপকারভোগী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

দরিয়ানগর-হিমছড়ি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা বলেন, নিজেদের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বন বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে বাগান গড়ে পাহারা দেয়াসহ নানাভাবে গাছপালা বড় করে তুলেছি। এখন ক্ষতিপূরণ ছাড়া সেই জমি অন্যত্র বরাদ্দ দেয়া হলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।

তারা আরো জানান, একরপ্রতি অন্তত ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন। তবে পর্যটনের স্বার্থে দৃষ্টিনন্দন ইকোট্যুরিজম গড়ে তুলতে তারা জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বড়ছড়ার পাহাড়ের কিনারায় এক যুগ আগে ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে আজকের দরিয়ানগর পিকনিক স্পট সৃষ্টি করেছিল স্থানীয়রাই। এখন আরো বৃহৎ আকারে সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নে এগিয়ে আসছে। এ উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করে। কক্সবাজার ঘিরে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে আমরা সবসময় সহযোগী হয়ে কাজ করতে চাই। বণিকবার্তা :