সফলতা আসছে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে

প্রকাশ: ৪ জানুয়ারী, ২০২০ ১২:৫৬ : অপরাহ্ন

মাহাবুবুর রহমান.
কয়েক বছর আগেও খুব ভোরে প্রতিটি বাড়ি থেকে ছেলে মেয়েরা দল বেধে বুকে আপমারা বা কোরআন শরীফ নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে আরবি শিক্ষা নিতে যেত এবং আসার সময় মন্তব থেকে প্রফুল্ল মনে বাড়ি ফিরত। গ্রামাঞ্চলেতো বটেই শহরাঞ্চলেও এই দৃশ্য দেখাযেত অহরহ। যা প্রত্যেক মানুষের জন্য সারা জীবনের শিক্ষা হয়ে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে আধুনীকতার ছোয়ায় এবং কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের চাপে সেই সৃতি এখন অতীত। এখন শহরেতো নেই বরং গ্রামাঞ্চলেও উঠে গেছে সেই মক্তবে গিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার প্রবণতা। তবে এই বন্ধাত্বতাকে কাটিয়ে উঠে কিছুটা হলেও সেই ঐতিহ্যধরে রেখেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। কক্সবাজারের গ্রামাঞ্চলে সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভুমিকা রাখছে এই শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এমনটাই মনে করছেন সর্বস্তরের সচেতন মহল।
কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট কেন্দ্র চালু আছে ১১৪৭ টি এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্র ৪৭০টি,সহজ কোরআন শিক্ষা ৬৬৫টি,বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র আছে ১২ টি।এছাড়া উপজেলা ভিত্তিক মডেল রির্সোস সেন্টার আছে ৮ টি,এবং সাধারণ রির্সোষ সেন্টার আছে ২১টি। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া প্রতিষ্টান দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে ৮ উপজেলায় ২৫টি।
এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এখনো গ্রামেগঞ্জে ধর্মীয় শিক্ষার আবহ ধরে রেখেছে জানিয়ে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শরিফ বাদশা বলেন,সত্যি কথা বলতে আমরাও ছোট বেলায় পার্শবর্তি মসজিদের মক্তবে আমপারা এবং কোরআন শিক্ষা নিয়েছিএবং সেখানেই নামাজ শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছু শিখেছি যা এখনো আমাদের মনে আছে। তবে বর্তমানে আধুনীকতার ছোয়া গ্রামে গঞ্জেও লেগেছে তাই এখন অভিবাবকরা আগেরমত শিশুদের মক্তবে পাঠায়না বরং ভোরে কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে হাত ধরে নিয়ে যায়। ফলে ধর্মীয় শিক্ষার অভাব রয়ে যাচ্ছে। তবে আমি দেখেছি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক বেশ কিছু মসজিদে বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা বা মক্তব্যের ব্যবস্থা আছে এতে করে এখনো কিছুটা সেই আগের আবহ আছে। যদিও এই কার্যক্রম সব মসজিদে নেই আমি মনে করি এটা সব মসজিদে করা দরকার।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন,ছোটবেলায় যে শিক্ষা মানুষ পায় সেটা কখনো ভুলেনা। তাই ছোট বেলা থেকে সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা দিতে পারলে কোন মানুষ বিপদগামী হওয়ার সম্ভবনা কম। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি সকাল বেলায় কেজি স্কুলে গুলোর সময় পরিবর্তন করা দরকার। কারন সেই সময়ে যদি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে খুবই ভাল হতো। আর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই গণশিক্ষা কার্যক্রম খুবই ভাল একটি দিক এর মাধ্যমে এখনো গ্রামে অনেক ছেলেমেয়েরা বিনাপয়সায় কোরআন শিক্ষা পাচ্ছে তাই এর পরিধি আরো বাড়ানো দরকার।
আলাপ কালে কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়া জামে মসজিদ সেন্টারের শিক্ষক রুহুল মতিন বলেন,আমাদের এলাকা অনেক ভাবে অবহেলিত। কিন্তু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্দোগের ফলে এলাকার ছেলে মেয়েরা সঠিক ভাবে কোরআন শিক্ষা গ্রহনকরতে পারছে এলাকার এলাকার অভিবাবকরা অনেক খুশি। ঘোনারপাড়া বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ সেন্টারের শিক্ষক ছৈয়দ আলম বলেন,আমার এলাকায় এই প্রতিষ্টানের কারনে এলাকার ছেলেমেয়ার সহজে কোরআন শিক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় ভাবে সবাইকে শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক ভুমিকার রাখছে। শহরের মধ্যম নুনিয়ারছড়ার প্রাক-প্রাথমিকসেন্টারের শিক্ষক শফিকা খানম বলেন,আমাদের সেন্টারে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা একই সাথে আরবী শিক্ষার চমৎকার ব্যবস্থা আছে। এখানে নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জন ছাত্র ভর্তি করাতে পারি। কিন্তু এখানে অনেকেই পড়তে আগ্রহি নিয়ম অনুযায়ী আমরা আনতে পারিনা।
এদিকে টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন,আমাদের এলাকার অনেক মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চোখে পড়ে। এটা খুব ভাল উদ্দোগ,আমি মনে করি বর্তমান সরকার শিশুদের মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান এবং নৈতিকতার জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এই কার্যক্রমের আরো প্রসার করা দরকার। এদিকে বেশ কয়েকজন সচেতন মহল দাবী করেন,অনেক মসজিদ কমিটির লোকজন এই কার্যক্রমকে অসহযোগিতা করে বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামান্য বেতন ভাতা প্রাপ্ত শিক্ষকদের মসজিদ থেকে আর কোন বেতন দিতে চায়না বলে ও জানা গেছে। এদিকে কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুজন সভাপতি প্রফেসর এম এ বারী বলেন,ভোরে শিশুদের মস্তিস্ক সতেজ থাকে এই সময়ে যা কিছু পড়বে সেটা ভাল করে ধারন করতে পারে। তাই খুব ভোরে বর্তমানে কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের সময় সূচি জাতীয় ভাবে আইন করে পরিবর্তন করে সেই সময়ে ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা দরকার। তাহলে জাতীর জন্য বড় উপকার হবে। আর আমি জেনেছি ৩১ ডিসেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাই দ্রুত সেটা আরো বড় আকারো বাড়ানো দরকার।
এদিকে কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার ফজল করিম বলেন,আমরা মক্তব্য থেকে কোরআন শিক্ষা নিয়েছি। কিন্তু এখন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের চাপে সেই পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে সরকার এই উদ্দোগের সাধারণ মানুষের জন্য অনেক উপকার হয়েছে। কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সরওয়ার আকবর বলেণ,বর্তমানে অনেক জায়গা থেকে সেন্টার করার প্রস্তাব আসছে কিন্তু আমরা করতে পারছিনা। সাধারণ মানুষ সরকারের এই মহৎ উদ্দোগে খুব বেশি উপকৃত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা সঠিক নিয়মে কোরআন হাদিস শিক্ষা সহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
এ ব্যপারে কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক ফাহমিদা বেগম বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্টা করেছিলেন। আর উনার সুযোগ্য কন্যার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখছে। তিনি বর্তমান বাস্তবতা বুঝে জাতীকে ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাস থেকে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। বাস্তবতা হচ্ছে যেটি দিন দিন কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সফলতার কারনে গ্রামে গঞ্জের শিশুরা বিনা খরচে ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে।