বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:৫৮ : অপরাহ্ন

ধর্ম ডেস্ক।

ঢাকা : টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম দিনে শুক্রবার লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। নিয়মিত তাবলিগ জামাতের মুসল্লি ছাড়াও ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের  লাখ লাখ মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নেন।

ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজে খুতবা পাঠ শুরু হয় শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। নামাজ শুরু হয় ১টা ৪০ মিনিটে। ইমামতি করেন রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের।

ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমার পুরো ময়দান পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন পাটি, চটের বস্তা ও খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।

ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সব স্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠের দিকে ছুটে আসেন জুমার নামাজ আদায় করার জন্য। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা মহাসড়ক ও অলি- গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন হোগলা পাটি, চটের বস্তা, খবরের কাগজ বিছিয়ে জুমার নামাজে শরিক হয়েছেন।

ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। টাঙ্গাইল থেকে আসা মুসল্লি এবাদত হোসেন জানান, বড় জামাতে নামাজ আদায় করা অনেক ফজিলত। তাই জুমার নামাজ আদায় করার জন্য ভোরেই বাড়ি থেকে বের হয়েছি। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ এ জুমার নামাজের ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের আহমেদ উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের বেলাল মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করেন।

জুম্মার নামাজে শরিক হন ধর্মমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: গাজীপুর মেট্টাপুলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জুমার নামাজ আদায় করতে আশপাশের জেলার অনেক মুল্লিরা এখানে আসেন। জুমার নামাজ উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যানজটমুক্তভাবে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ রাখা হয়েছে। জুমার নামাজে অংশ নেয়া মানুষ যাতে নিবিঘ্নে আসা যাওয়া করতে পারে।

তিনি বলেন, আগামী রোববার (১২ জানুয়ারি) মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। অংশ নেয়া মুসুল্লিদ ছাড়াও অসংখ্য মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে এখানে আসেন। সেটির জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শনিার মধ্যরাত হতে টঙ্গী ব্রীজ, কামারপাড়া ব্রীজ, ভোগড়া বাইপাস, মীরেরবাজার এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ইজতেমা সংলগ্ন এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

ইজতেমা শেষে যাওয়ার সময় একই ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে। আমরা নাগরিকদের কাছে আশা করব তারা যেন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য। রাস্তায় যে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে তাদের সহযোগিতা করবে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ, গাজীপুর মেট্টাপুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ।

রোববার (১২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজামের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

ইজতেমা ময়দানে ২ মুসল্লির মৃত্যু : টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দুই মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। খবর ইউএনবির।

তারা হলেন- সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার খোকা মিয়া (৬০) ও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মোহাম্মদ আলী (৭০)।

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের তত্ত্বাবধায়ক ইলিয়াস হোসেন জানান, শীতের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকা মিয়া এবং রাত ১টার দিকে মোহাম্মদ আলী নিজ নিজ তাঁবুতে মারা যান।

এ নিয়ে চলতি বছরে ইজতেমা ময়দানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছানোর পরপরই ইয়াকুব আলী (৮৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে এসেছিলেন।

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার ভোরে শুরু হয়েছে হজের পর মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৫তম ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তিনদিনের প্রথম পর্বের ইজতেমা ১২ জানুয়ারি শেষ হবে। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে।