ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিষদ নিবার্চনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২০ ৭:৫০ : অপরাহ্ন

এম.আবুহেনা সাগর,ঈদগাঁও

দক্ষিন চট্রলার ব্যস্তবহুল বাণিজ্যিক উপশহর ঈদগাঁও বাজার নানা মুখী সংকটের আবর্তে ঘোরপাক খাচ্ছে। অবশেষে নির্বাচনের খবরে ব্যবসায়ীদের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে। সেসাথে কে কোন পদে নির্বাচন করবে সেসব বিষয়াদি নিয়ে নানা কথাবার্তাসহ গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

জানা যায়,দীর্ঘ পনের বছর ধরে নির্বাচিত কমিটিবিহীন ছিল বাজার টি। বর্তমানে আহবায়ক কমিটি দিয়ে চলছে ঢিলেঢালা কার্যক্রম। অব্যবস্থাপনায় দৈনিক ব্যবসায়ীক লেনদেনসহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নগর সভ্যতার ধারা বাহিকতায় কালক্রমে ঈদগাহ্ বাজার পরিণত হয় বৃহত্তর ঈদগাঁওর পার্শ্ববর্তী ইসলামাবাদ,জালালাবাদ,পোকখালী ইসলামপুর, চৌফল দন্ডী,রশিদনগর,ভারুয়াখালী,খুটাখালী,ঈদগড়,বাইশারীসহ জেলার সুপরিচিত একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ঈদগাঁওসহ তৎসংশ্লিষ্ট এলাকার ৩/৪ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ব্যবসানগর। কাল পরিক্রমায় যেমন বেড়েছে বাজারের ব্যাপকতা,বেড়েছে গণমানুষের বাজার কেন্দ্রিক নির্ভরতা,সম্ভাবনা। ব্যাপ্তি ব্যাপকতার মোড়কের সম্ভাবনা বাড়লেও বাড়েনি বাজারমুখী কর্মকান্ডের প্রশাসনিক অবকাঠামো বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা। প্রশাসনিক সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কাঠামোর দুর্বলতাও যথাযথ নজরদারির অভাবে বাজারের উন্নয়ন,ব্যবস্থাপনা নিরাপত্তা,বাজার কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বলতে টেকসই হচ্ছেনা।

দেখা যায়,ঘন বসতিপূর্ণ বৃহত্তর এরাকার জনাধ্যুষিত ঈদগাঁও এক সম্ভাবনাময়ী এলাকা। উর্বর ফসলী জমি,খেত-খামারের বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থা লবণ শিল্প, চিংড়ি শিল্প,পোলট্রি শিল্প, আসবাব পত্র ও কাঠ শিল্প, ক্ষুদ্র কুঠির শিল্পসহ অসংখ্য প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা ঈদগাঁও বাজারকে আধুনিক বাজার হিসেবে গড়ে তোলার যোগ্যতা রাখে। এছাড়াও দেশের বহু পৌর এলাকা অবকাঠামো, সামগ্রিক সুযোগ-সুবিধাও জনসংখ্যার বিচারে ঈদগাওর চেয়ে যোজন যোজন পশ্চাৎপদ। সম্রাট শাহ্ সূজার স্মৃতিধন্য ঈদগাও জনপথ একসময় পার্শ্ববর্তী ছয় ইউনিয়নের একক প্রশাসনিক ইউপি হিসাবে গোড়া পত্তন হয়। জনসংখ্যার আধিক্য ও  বিস্তৃত এলাকা হওয়ায় জন সাধারণের সুবিধার্থে ঈদগাও ভেঙ্গে পূর্বেকার আমলে চৌফলদন্ডী ও পোকখালী নামে দুইটি ইউনিয়ন পৃথক ভাবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ঈদগাঁও তিনভাগে ভাগ হয়ে জালালাবাদ,ইসলামাবাদ নামে আরো ২টি নতুন ইউনিয়নের জন্ম হলেও সমস্ত ব্যবসায়ী কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু ঈদগাও বাজারকে ঘিরে আবর্তিত হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাজার এলাকার পরিধিও। কিন্তু সে অনুপাতে বাজার এলাকা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। বাজারের প্রধান সড়কের আশপাশ জুড়েই হরেক রকম ব্যবসা,যাতে করে সাধারণ লোকজন ও যানবাহন চলাচলে দারুণ দূর্ভোগে পড়েছে। যেন দেখার কেউ নেই। যেমন এই বৃহত্তম বাজারে নেই শৌচাগার ও টয়লেট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা,যানজট নিরসন ব্যবস্থা, ট্রাফিক ব্যবস্থা,শদ্ব দূর্ষন নিরসন,রাত্রীকালে বাজারে আইনশৃংখলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম,ফুটপাত উচ্ছেদ, ভাড়া তালিকা নির্ধারন, বাজারে অপরাদ কপর্কমের বিরুদ্বে সোচ্ছার ভুমিকাসহ হরেক রকম ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। সবমিলিয়ে বর্তমানে বৃহত্তর এই বাজারটি উন্নয়ন বঞ্চিত।

সচেতন ব্যবসায়ীদের মতে,শক্ত হাতে বাজারের উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে হলে সদিচ্ছাসহ আন্তরিকতার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। দীর্ঘবছর পর আগামী ২৮ ফ্রেরুয়ারী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ নিবার্চনের দিনক্ষন ঘোষনা করায় অভিনন্দনও জানান। আসন্ন নিবার্চনে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজে অগ্র সর হওয়া এখন সময়ের গনদাবীতে পরিণত হয়ে পড়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,বাজার কমিটির নিবার্চনে সভাপতি সম্পাদকসহ সাত পদে প্রার্থীরা ইতিমধ্য নড়েচড়ে বসছে। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি করছে। এবার নিবার্চনে তারুন্যেনির্ভর প্রার্থীদের আগ্রহতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৎমধ্য সভাপতি পদে কজনের নাম শোনা গেলেও সাধারন সম্পাদক পদে ক্নিন ইমেজের যুবনেতা রাজিবুল হক রিকো, গতবারে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবুল কান্তি দের নামও ব্যবসায়ীদের মুখে শোভা পাচ্ছে। অন্যদিকে সহ সভাপতি বাজার ঐক্য পরিষদ সদস্য,সাবেক ছাত্রনেতা গফুর আলম চৌধুরী, সহ সাধারন সম্পাদক পদে যুবনেতা নুরুল আবছার,নাছির উদ্দিন, কামাল উদ্দিন,হাসান তারেকসহ অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীরা নিরবে নিবার্চনের মাঠ পর্যবেক্ষনে রয়েছে। তারা এখনো মুখ খুলেননি। হয়তো নিবার্চনের কার্যক্রম ঘনিয়ে আসলে মাঠে নামতে পারেন বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য,গত ২০০৫ সালে ঈদগাঁও বাজারে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা মুখর পরিবেশে তিনবছর মেয়াদে ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছিল। সেই থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত কোন নিবার্চন হয়নি।