উখিয়ায় অঢেল সম্পদ ও অর্থশালী উত্থানে তোলপাড় : বেমালুম প্রশাসন

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:০৩ : অপরাহ্ন

কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
উখিয়ায় অঢেল অর্থ ও প্রচুর সম্পদ অর্জন করা মালিকদের হঠাৎ উত্থানের ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আলিশান চলাফেরা ও রাতারাতি বিপুল সংখ্যক গাড়ি বাড়ির মালিক বনে যাওয়া ব্যক্তিদের পিছনে কালো টাকার গন্ধ রয়েছে এমন অভিযোগ সুশীল সমাজের।
অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীতল অভিযান ও নমনীয়তায় চোরাচালানি গডফাদার ও ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে রবিবার  উখিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সবাই এতদসংক্রান্ত ব্যাপক আলোচনা ও হঠাৎ অঢেল সম্পদ অর্জন কারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত হওয়ায় নাগরিক সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় পালংখালী বালুখালি থাইংখালী কুতুপালং উখিয়া সদর স্টেশন হাজিরপাড়া হিজলিয়া, কোট বাজার মরিচ্যা সোনার পাড়া ডেইল পাড়া ইনানী মন খালি হলদিয়া পালং পাতাবাড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে রাতারাতি নতুন নতুন বহুতল ভবন ও দালান নির্মাণ করা হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে।
এছাড়াও কোটবাজার উখিয়া মরিচ্যা, কুতুপালং থাইংখালী, পালংখালী, বালুখালীতে অসংখ্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী শোরুম খোলা হয়েছে। অনেকে জানিয়েছেন এসব শোরুম এর মালিকগণের পূর্বের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই অস্বচ্ছ ছিল। হঠাৎ তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখে মনে হয় যেন আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছে। এমন কি একজন ব্যক্তি অনেক শো রুমের মালিক। তারা আবার সেখানে বসে না। মূলত এ ব্যবসার পর্দার আড়ালেই ইয়াবা ব্যবসা হচ্ছে মূল টার্গেট।
দেখা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দু’ধারে কোটি কোটি টাকার মূল্যের জমি ক্রয় করে বাউন্ডারি ওয়াল।
নির্মাণ করেছে নব্য সম্পদশালীরা। আর নোহা, মাইক্রোবাস, ট্রাক মিনি ট্রাক, প্রাইভেট কার ও হায়েস গাড়ির সংখ্যা কত তারা নিজেরাও জানেনা। বিশেষ করে কোটবাজারে একসাথে একাধিক ইলেকট্রনিকস শো রুমের রাতারাতি মালিক হওয়ার ঘটনা খুবই আশ্চর্যজনক। কি ভাবে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে এ সব করল। স্থানীয়দের মতে প্রশাসন খতিয়ে দেখলে আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের অভিমত ইয়াবা পাচার অথবা চোরাকারবারি ব্যবসার মাধ্যমে আয়কৃত কালো অর্থ দিয়ে এসব সম্পদ ক্রয় করেছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আশ্রয় ও আমলাদের আর্শীবাদ নিয়ে অনেকই রাতারাতি চেহেরা পরিবর্তন করেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে উখিয়া, কোট বাজার ও মরিচ্যা বাজার ব্যাংকগুলোতে এমন ব্যক্তিদের একাউন্টে অস্বাভাবিক টাকার লেনদেন হচ্ছে। যা অবাক হওয়ার মত। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে তিন শতাধিক ব্যক্তি হঠাৎ অঢেল সম্পদের মালিক ও কালো টাকার পাহাড় গড়েছে যা কল্পনা অতীত। তারা প্রতিটি স্টেশনে একের অধিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী শো রুম সহ জুতা সেন্ডেল এবং কাপড়ের দোকান খুলে বসেছে। এমনও জানা গেছে ৩০ /৪০ লাখ টাকা অগ্রিম সালামি দিয়ে মার্কেট হতে এসব দোকানের কক্ষ বা পজেশন ভাড়া নিয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিকরা।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের অভিযোগ সীমান্তবর্তী টেকনাফের পরের স্থান হচ্ছে ইয়াবার ডিপো উখিয়া। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে কোটিপতির তালিকায় নাম লিখিয়েছে অসংখ্য চোরাকারবারিরা। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিংবা ধরপাকড় শীতল থাকায় কালো টাকার মালিকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে অনেকেই র্যাবের ইয়াবা বিরোধী অভিযান নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও অন্যান্য সংস্থার ভূমিকা নিয়ে চরম নাখোশ।
সুশীল সমাজের দাবি বাংলাদেশ কর বিভাগ ও দুর্নীতি দমন কমিশন হঠাৎ অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত ও অনুসন্ধান করলে কালো টাকার উৎস বা তলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এদিকে রবিবার উখিয়া উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। উপস্থিত সকল সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে গাড়ি বাড়ি ও অটল সম্পদের মালিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য কর কমিশন ও দুদককে লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান হঠাৎ করে বিপুল অর্থের মালিক ও অঢেল সম্পদ অর্জনকারীর আয়ের উৎস অনুসন্ধান খতিয়ে দেখা উচিত। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব নব্য অর্থ বিত্তশালীদের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য আমরাও একমত হয়েছি। খুব শীঘ্রই আমরা তদন্ত বা অনুসন্ধান চালানোর জন্য চিটি চালাচালি কার্যক্রম শুরু করব।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত শুনে পুরো উখিয়ার নাগরিক সমাজ সাধুবাদ জানালেও তারা দৃশ্যমান বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেছেন। যাতে আইওয়াশ কিংবা লোক দেখানো সিদ্ধান্ত না হয় এমন প্রত্যাশা জনগনের।