রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডাকাতি চলছে আলোচনা সভায় ড. কামাল

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ১১:৫৬ : পূর্বাহ্ন

বিদেশে অর্থ পাচারকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডাকাতি বলে মন্তব্য করে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। কেন পাচার হচ্ছে, কারা পাচার করছে, সে কৈফিয়ত সরকারকে দিতে হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি তিনি এ কথা বলেন।
ড. কামাল হোসেন বলেন, অস্ত্র দিয়ে, বিভেদ সৃষ্টি করে, সা¤প্রদায়িকতার আশ্রয় নিয়ে আমাদের বঞ্চিত করে দেশের পুঁজি বা অর্থ পাচার করা হচ্ছে। যারা সম্পত্তি পাচার করছে, তাদের ধরে না কেন? বলা হয় না কেন কোথায় থেকে তোমরা এই ক্ষমতাটা পেলে? তিনি বলেন, এটা হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডাকাতি। আমরা গ্রাম পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডাকাতকে যেভাবে ধরি, আজকের রাষ্ট্রের ডাকাতদের ধরতে হবে। এরা নিজেদের চিহ্নিত করে রেখেছে। তিনি আরো বলেন, ৪৮ বছর আমরা জনগণকে প্রতিশ্রæতি দিয়ে আসছি, জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের মানুষকে মালিকের ভ‚মিকা পালন করতে হবে। এখানে কারো দয়া-মায়ার কিছু নেই। এটা আমাদের প্রাপ্য অধিকার। তাই ক্ষমতার মালিককে যেভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয় সেভাবে করতে হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই আহŸায়ক আরো বলেন, দুর্নীতিবাজরা কখনও দাবি করতে পারে না তারা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হয়ে গেছে। মালিক এদেশের সবাই। দেশে গণতন্ত্র চলতে না দিলে সাময়িকভাবে তারা ক্ষমতাকে হাতে নিয়ে এর অপব্যবহার করে এবং দেশের অর্থ পাচার করে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঐক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যের শক্তিতে ভর করে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। স্বাধীনতা আগে ও পরে বিভেদ সৃষ্টি করার কম চেষ্টা হয়নি। কিন্তু তারা সফল হয়নি। তাই আমাদের নিরাশ হবার কোনো কারণ নেই। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো এই রাষ্ট্রকে আমরা আরো শক্তিমান করব। জনগণের ঐক্যকে আরো সুসংগঠিত করব। জনগণ তাদের যে অধিকার স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে আদায় করেছে সেটা বাস্তবে রূপান্তরিত করব। এজন্য পাড়া-মহল্লায়, গ্রামে-গঞ্জে এবং জাতীয় পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে ড. কামাল বলেন, স্বৈরশাসকগণ কখনো ঐক্যের সামনে দাঁড়াতে পারে না। তারা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের সাহস করতে পারে না যে, তারা সেটা করে ক্ষমতায় থাকতে পারবে। আর এটাই হলো আমাদের শক্তির উৎস্য। তারা মনে করে, মানুষের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি করে কায়দা করে সত্যিকার অর্থে মানুষের রায় তাদের পক্ষে নিতে পারবে, কিন্তু তারা পারেনি।
গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারী হামিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তৃতা করেন দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশতাক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

ইনকিলাব অনলাইন।