সৌদি যুবরাজের সঙ্গে নাবালিকা কন্যার বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন দুবাই শাসক!

প্রকাশ: ৬ মার্চ, ২০২০ ৩:১৩ : অপরাহ্ন

বহির্বিশ্ব।

নিজের তালাক হওয়া স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখাতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাখতুম। যদিও পরে প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল-হুসেইন ব্রিটেনে পালিয়ে যান।

এ দম্পতির দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি মামলার রুলিং দিয়েছেন লন্ডনের একটি আদালত।

প্রিন্সেস হায়া দাবি করেন, শেখ মোহাম্মদ তার তখনকার ১১ বছর বয়সী কন্যাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

যদিও বিচারক তার এই বিস্ফোরক দাবির পক্ষে কোনো যথেষ্ট প্রমাণ দেখতে পাননি। এ ছাড়া সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক যোগাযোগবিষয়ক কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রিন্সেস বলেন, এক বিশ্বস্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বলেন যে, এ বিয়ে নিয়ে আলোচনা করতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেখ পরিবারের এক সদস্য সৌদি সফরে গিয়েছিলেন। তবে তার এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বিচারক।

তিনি আরও জানান, এক বছর আগে নিজের বিছানায় দুবার বন্দুক দেখতে পাওয়ার পরেই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। তার দরজার দিকে অস্ত্র মুখ করা ছিল। কাজেই তিনি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই ছিলেন।

বৃহস্পতিবার রুলিংয়ে বিচারক অ্যান্ড্রু ম্যাকফারলে এই দম্পতির সন্তানদের জন্য সুরক্ষামূলক নিদের্শনা দেন। এ ছাড়া হুমকিধমকি দিতে নিষেধ করে শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনাও দেন এ বিচারক।

গত বছরের এপ্রিলে লন্ডনে পালিয়ে আসেন শেখ হায়া। প্রথমে সন্তানদের দুবাইয়ে ফিরিয়ে নিতে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ। বিচারক বলেন, সন্তানদের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য নিয়মিত সম্পর্ক গড়তে চেষ্টা করছিলেন দুবাইয়ের শাসক।

ব্রিটেনের অন্যতম শীর্ষ বিচারকের এই রুলিং রাজপরিবারের জন্য মারাত্মক বিব্রতকর বলেই মনে করা হচ্ছে।