ঈদগাঁওতে মহিলা মেম্বারের বসতবাড়িতে হামলা আহত ১০

প্রকাশ: ৯ মার্চ, ২০২০ ১১:১৯ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁওঃ

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ভোররাতে উপর্যপুরী হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তৎমধ্যে ওমান প্রবাসী ও কলেজ ছাত্রীর অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। ৯ মার্চ সোমবার ভোর ৪ টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের উত্তর মাইজ পাড়া গ্রামের মহিলা মেম্বার নুর জাহানের বসত বাড়িতে।
শফিকুর রহমানের স্ত্রী স্থানীয় মহিলা মেম্বার নুর জাহান, গোলাম কবিরের ছেলে শফিকুর রহমান, ছেলে বোরহান উদ্দিন, মেয়ে ছুমাইয়া,তারজিনা আক্তার নুর জাহান মেম্বারের ছোট বোন নুরুল ইসলামের স্ত্রী নুর নাহার, ছৈয়দ আহমদের মেয়ে ইসমত আরা। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা রয়েছে।
এ ঘটনায় উভয়ে পক্ষের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহিলা মেম্বার নুর জাহানের বসত বাড়ী নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান হাজী ছৈয়দ আলমের ছেলে মাহমুদুল হক মাদু গং দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির বিরুদ চলে আসছিল। ইত্যবসরে তাদের মধ্যে কয়েকবার ঘটনা ঘটেছিল, মাদুর নেতৃত্বে মহিলা মেম্বারের ছেলে সাইদুল রহমানকে জাগির পাড়া এলাকায় হামলা করেছিল৷ এর কয়েকদিন পর মহিলা মেম্বারের নেতৃত্বে মাদুর কর্মস্থল কেজি স্কুলের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে । ঐ ঘটনায় দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় মহিলা মেম্বার নুর জাহান এবং তার ছেলে সাইদুল রহমান জেল কাটে।
মাহমুদুল করিম মাদুর পরিবার ঐ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওমান থেকে আসা মহিলা মেম্বারের ছেলে বোরহান উদ্দীন নামের এক ছেলেকে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে মাষ্টার মাহমুদুল করিম মাদু দলবল নিয়ে হামলা- ভাংচুর ও লুটপাটসহ মহিলা মেম্বারের আরেক ছেলে সাইদুল রহমানকে তুলে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার শোর চিৎকারে পরিবারের অপরাপর সদস্য এগিয়ে আসলে তাদেরকেও হামলা করে। তারা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলে জানান, তাদের এক নিকট আত্মীয়।
অপর দিকে মহিলা মেম্বার নুর জাহান দাবী করেন, মাহমুদুল করিম মাদুর নেতৃত্বে ১০০/১২০ জন লোক ভোর রাতে তাদের বাসায় ঢুকে হামলা লুটপাট ও ভাংচুর চালায়, বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে ঘরের বিদ্যুৎ সুইস বন্ধ করে কিরিচ, দা, হাতুড়ি দিয়ে স্বামী, ছেলে, মেয়ে, আত্মীয় স্বজনসহ ৭ জনকে এলোপাথাড়ি মারধর ও আঘাত করে।
তিনি আরো দাবী করেন তার ছেলে সাইদুল রহমানকে অপহরণ করে গোপন স্থানে আটকা রেখেছে। তাছাড়া বিদেশ থেকে আনা নগদ টাকা, স্বর্ণ, প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারা মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
সংগঠিত ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে আহতরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আহতদের মধ্যে ওমান প্রবাসী বোরহান ও কলেজ ছাত্রী সুমাইয়ার অবস্থা আশংকাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়।
জানতে চাইলে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, তবে জমির বিরোধ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলা করলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে