নারীর সাথে ভিডিও কলের নগ্ন ছবি ফাঁস ভোমরিয়া ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তার 

প্রকাশ: ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৫৬ : অপরাহ্ন

ঈজিএন।
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ঈদগাহ ভোমরিয়া ঘোনা রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সাথে জনৈক নারীর ভিডিও কলের নগ্ন ছবির স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন কর্মকান্ডে হতবাক হয়েছে এলাকার লোকজন।
গত কয়েকদিন ধরে ভিডিও কলের স্ক্রিনশটের কয়েকটি নগ্ন ছবি   (যা প্রচার করার যোগ্য নয় ) বিভিন্ন জনের এনড্রয়েড মোবাইলে পৌঁছে গেছে কোন না কোন মাধ্যমে। ঐ ছবি গুলো স্থানীয় সাংবাদিকদের নজরে আসলে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।কিন্তু তিনি গনমাধ্যমের সামনে আসেনি।পরে কয়েকজন অফিসের স্টাফ পাঠিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজের চেষ্টা চালায়।  তার আগে কার্যালয়ে গেলেও বন্ধ পাওয়া যায় তার কক্ষ ,পরে অবশ্যই ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছবি গুলো তার নয় দাবী করে বলেন, এক শ্রেণীর  কুচক্রী মহল তার ছবি এডিট করে অপপ্রচার চালাচ্ছে । তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করা হয়েছে। কাদের বিরুদ্ধে করেছেন জিডি? কোথায় করেছেন? জিডি নম্বর কত জানতে চাইলে অপারগ প্রকাশ করেন তিনি।
যদিওবা কৌতুহলী একদল সংবাদকর্মী ছবির মানুষ দুটি আসল পরিচয় জানতে ভোমরিয়া ঘোনা এলাকা ও রেঞ্জ কার্যালয়ের কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দেখানো হয়। শত শত লোকজন একবাক্যে স্বীকার ও নিশ্চিত করেন ছবির পুরুষ লোকটি রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের। অপর প্রান্তে কথা বলা নারী পার্শ্ববর্তী অপর বিট অফিসের এক কর্মচারীর স্ত্রী’র (সঙ্গত কারনে তার পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না)।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা  ভোমরিয়া ঘোনা রেঞ্জে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপ-ব্যবহার, অপকর্ম, নারী কেলেঙ্কারির মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। নিরাপরাধ লোকদের ধরে এনে গাছ চুরি, কর্তন, দখলের অভিযোগ এনে মিথ্যা বন মামলা, কার্যালয়ে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। নিজেকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নিজ এলাকার লোক এবং ভাল সম্পর্ক রয়েছে হুংকার দিয়ে এসব অপকর্ম করে আসলেও একাধিক মামলা এবং পুলিশি হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খোলে না।তাছাড়া বিভিন্ন নারীকে বন ভূমি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ একজন সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন ছবি ও বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম করে কি ভাবে পার পেয়ে যায়? নিজেকে পুলিশ সুপারের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে স্থানীয়দের হয়রানি করে আসছে, যার ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এলাকায়। ভোমরিয়া ঘোনা এলাকার নাম প্রকাশ না করার সত্বে এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান, সম্প্রতি তিনি সেমি পাকা একটি ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রথমে বাঁধা দেন রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান,পরে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবী করেন,ঘুষ দিতে অনিহা প্রকাশ করলে কু-প্রস্তাব দেন বলে জানান ঐ প্রবাসীর স্ত্রী।
একই ইউনিয়নের শিয়া পাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন নামের অপর এক যুবক জানান, এই রেঞ্জ কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে গেছে, প্রতিদিন অবৈধ করাত কল মালিক, গাছ চোর, দখলবাজ, ভূমিদস্যুদের সাথে গভীর সংখ্যতা গড়ে তুলে বন বিভাগের সংরক্ষিত গাছপালা, মাটি, জমি উজাড় করে ফেলছে নিয়মিত।তার এহেন ভুমিকায় বন বিভাগের সম্মানহানী ও মান মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তার  বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা  তহিদুল ইসলামের সাথে রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।